Bikash Ranjan Bhattacharya teachers' rally

অধিকার পেতে ও অর্জিত অধিকার রক্ষা করতে চাই সংগ্রাম, শিক্ষকদের সমাবেশে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য

রাজ্য কলকাতা

শান্তিপূর্ণ মিটিং মিছিল জমায়েত করা সাংবিধানিক অধিকার আর এই অধিকার আমাদের রক্ষা করতে হবে। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের পর শিক্ষকরা তাদের অধিকার অর্জিত করেছেন। অর্জিত অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করতে হবে। বৃহস্পতিবার কলেজ স্ট্রিটে শিক্ষকদের সমাবেশে একথা বলেছেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা, শূন্য পদে স্থায়ী নিয়োগ, শিক্ষকদের সরকারি স্বাস্থ্য স্কিমের অধীনে আনার দাবিতে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত মিছিল করে এবিটি এবিপিটিএ সহ আটটি বাম শিক্ষক সংগঠন। মিছিল শেষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এবিটিএ'র রাজ্য সভাপতি মোহনদাস পন্ডিত। বক্তব্য রাখেন এবিটিএ'র রাজ্য সম্পাদক সুজিত দাস, রাজ্য সভাপতি সুদীপ্ত গুপ্ত, এবিপিটিe'র রাজ্য সম্পাদক ধ্রুবশেখর মন্ডল, রাজ্য কোঅর্ডিনেশন কমিটির সম্পাদক ও যৌথ মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী সহ বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এদিনের মিছিল সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে রানী রাসমণি অব্দি হওয়ার কথা ছিল এবং সেখানেই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পুলিশ সেই সভার অনুমতি দেয়নি। শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বাধ্য হয়ে রানী রাসমনির বদলে কলেজ স্ট্রিটে সমাবেশ করেন। 


সমাবেশে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "রক্ত ক্ষতি সংগ্রাম করে অধিকার অর্জন করতে হয়েছে। এই শিক্ষকদের আন্দোলন করতে গিয়ে ধর্মতলায় মার খেতে হয়েছে রক্তাক্ত হতে হয়েছে। সেই শিক্ষক সমাজ তাঁদের দাবি নিয়ে মিটিং করতে গেলে পুলিশি বাধা একটি সংবিধান বিরোধী সরকারের পরিচয়।পশ্চিমবাংলায় বামফ্রন্ট সরকার শিক্ষাকে অবৈতনিক করেছিল। প্রান্তিক ঘরের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখবে সেই সুযোগ এবং তার বিস্তার করেছিল সেই সরকার। বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে স্কুল তৈরি হয়েছিল। ছাত্রছাত্রীদের পড়াবার জন্য শিক্ষিত যুব সম্প্রদায় কে শিক্ষকতার পেশায় আকর্ষণ করার জন্য সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। শিক্ষকদের সম্মানজনক সাম্মানিক ঠিক করেছিল। গোটা সমাজের শিক্ষকদের প্রতি সম্মানের মনোভাব তৈরি হয়েছিল।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমান সরকার শাসন ক্ষমতা আসার পর শিক্ষায় প্রসারের জন্য কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করছে না। বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুল নতুন করে খোলার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলা জন্য মিড ডে মিলটাকে হস্তান্তর করে দিচ্ছে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির হাতে। ইসকন একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ব্যতীত কিছুই নয়। এর মাধ্যমে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা করছে তারা অনেক বুদ্ধিজীবী বিভিন্ন জায়গায় বলতে শুরু করলেন ডিমের বদলে সয়াবিন ভালো। কিন্তু লাগাতার আন্দোলন এবং সেই আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তি শেষ পর্যন্ত সরকার ডিম ফেরাতে বাধ্য হল। মিড ডে মিল ইসকনের হাতে যাওয়ার ফলে বহু রন্ধনকর্মী তারা কাজ হারাবেন এই কথা ভাবতে হবে শিক্ষক সমাজকে। তাদের দাবিতেও লড়াই করতে হবে।"

ডিএ প্রসঙ্গে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "ডিএ আপনাদের সাংবিধানিক অধিকার অনেক লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। আগের সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন যাতে সরকারি কর্মচারীরা এই মামলায় জিততে না পারেন।"

Comments :0

Login to leave a comment