Visva-Bharati

বিশ্বভারতীতে অনশনের কর্মসূচীতে আক্রমণ এবিভিপির, পাল্টা প্রতিরোধ ছাত্রছাত্রীদের

রাজ্য জেলা

রণদীপ মিত্র 
সোনম ওয়াঙচুকের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা একজোট হয়ে একদিনের অনশনের কর্মসূচী নিয়েছিলেন। সেইমত তাঁরা অনশন বিক্ষোভে বসেছিলেন বিশ্বভারতীর হিন্দি ভবনের সামনে। স্বাভাবিকভাবেই চক্ষুশূল হয়েছিল এবিভিপি’র। বহিরাগতদের জুটিয়ে সেই অনশন মঞ্চের সামনে পাল্টা স্লোগান দিয়ে তাঁরা শুরু করে তাঁদের বিশৃঙ্খলা। এরপর নিশানা করা হয় অনশন মঞ্চে উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের। বহিরাগতদের সম্ভারে ভরা এবিভিপি’র সমর্থকরা অনশন মঞ্চে চড়াও হয়ে নির্বিচারে চালায় মারধর। যে মারধর থেকে বাদ যায় না ছাত্রীরাও। একবার নয়, দফায় দফায় চলে অনশন মঞ্চে হামলা চালায় বিভিপি। 
টানাহ্যাঁচড়া, কিলঘুষি চলে ছাত্রছাত্রীদের উপর। রাস্তায় ত্রিপল পেতে তার উপর ব্যানার, পোস্টারে সাজানো অনশন মঞ্চ তছনছ করে দেওয়া হয়। তবে একপেশে তান্ডব সহ্য করা নয়, প্রতিবাদীরাও রুখে দাঁড়ান গাজোয়ারির বিরুদ্ধে। এবিভিপি’র ঔদ্ধত্যের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান ছাত্রীরা। আক্রমনের মুখে পড়া ছাত্র সহযোদ্ধাদের আগলানোর সাথে সাথে এবিভিপি’র উন্মত্ততারও জবাব ছাত্রীরা দিয়েছেন চোখে চোখ রেখেই। সবচেয়ে উদ্বেগের, বহিরাগত আধিক্যে ভরপুর এবিভিপির হাতে ছাত্র-ছাত্রীরা মার খেয়েছেন পুলিশের সামনেই। পুলিশ ছিল দর্শকই। এলাকার উত্তাপ চরমে পৌছলে তবে পুলিশ খানিকটা সক্রিয় হয়ে হামলাকারীদের দূরে সরিয়েছে। তবে ঘোষনা মতই অনশন চলবে রবিবার সকাল পর্যন্ত বলে জানিয়েছেন প্রতিবাদী পড়ুয়ারা। প্রতিবাদে সামিল বিশ্বভারতীর এসএফআই নেতা প্রত্যুষ মুখোপাধ্যায় ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন, ‘‘দলমত ভুলে পড়ুয়ারা শিক্ষার স্বার্থে প্রতিবাদে সামিল হয়েছি। আমরা প্রস্তুত ছিলাম এই প্রতিবাদ তথাকথিত ‘দেশভক্ত’দের হজম হবে না। তাইই হয়েছে। এবিভিপি বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালিয়েছে। ছাত্রীদেরও রেয়াত করে নি।’’ 
দেশজুড়ে শিক্ষার সংস্কার নিয়ে আন্দোলন। স্বাভাবিকভাবেই তা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না মুক্ত চিন্তার আঁতুরঘর কবিগুরুর বিশ্বভারতী। শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের গাফিলতি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে পড়ুয়াদের আত্বহত্যার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াঙচূকের আন্দোলনকে সংহতি জানিয়ে জোটবাঁধা বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা হিন্দি ভবনের সামনে এদিন শুরু করেন একদিনের অনশন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সহ বেহাল শিক্ষা ব্যবস্থা ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রতিবাদের স্বর তুঙ্গে তোলেন তাঁরা। বিশ্বভারতীর পড়ুয়া মধুজা, শশীরঞ্জন, পৃথা, দেবায়নরা জানিয়েছেন, ‘‘দেশের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আন্দোলনকে সরকার যেভাবে দমিয়ে দিচ্ছে তা অনৈতিক, অসাংবিধানিক। নিট পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁস হওয়ায় আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের জীবনের মূল্য কে দেবে? শিক্ষা ব্যবস্থার কী হাল করেছে। কেন শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করবেন না ? স্পষ্ট দাবিতে শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদেরও হামলার মুখে পড়তে হবে কেন ?’’
হামলায় সামিল থাকা এবিভিপি’র সদস্য জয়মাল্য থান্ডারের বক্তব্য, ‘‘প্রতিবাদের নামে দেশবিরোধী কার্যকলাপ, বিশ্বভারতীর সুস্থ পরিবেশ নষ্টের চক্রান্ত আমরা মানছি না। তারই প্রতিবাদ করেছি। কোনও মারধর করা হয় নি।’’ 
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এসএফআইয়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৌভিক দাসবক্সির বক্তব্য, ‘‘নিট দুর্নীতি থেকে বেকারত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী সোনাম ওয়াঙচুকের সমর্থনে সাধারণ অনশনকারীদের উপর আক্রমণ করে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন প্রমাণ করল যে ওরা শিক্ষা-চাকরি-কর্মসংস্থানের দাবির বিরোধী। আমাদের ছাত্র সমাজের বিরুদ্ধে।"

Comments :0

Login to leave a comment