Abhaya Case: Doctors raising questions on investigation

প্রমাণ লোপাটে শাস্তি নেই কেন? অভয়া হত্যায় জড়িত বাকিদের সাজা কবে? ক্ষোভ চিকিৎসকদের

রাজ্য কলকাতা

দু’বছর বিচারহীন! বিক্ষোভ ধর্মতলায়।

অভয়ার ঘটনা বিচ্ছিন্ন ছিল না। রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুর্নীতি-দুর্বৃত্ত চক্রের পরিণতি। এই চক্রে জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে।
আর জি কর হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় ধর্ষিত নিহত চিকিৎসক-ছাত্রীর বিচারের দাবিতে রবিবার বিক্ষোভস্থলে এই দাবি তুললেন চিকিৎসক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। 
রবিবার, ৯ আগস্ট, হত্যাকাণ্ডের দু’বছরের মাথায় কলেজ স্ট্রিট থেকে মিছিল হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের আহ্বানে। অভয়া মঞ্চের ডাকে বিক্ষোভ হয় ধর্মতলায়।  


অভয়া মঞ্চের আহ্বায়ক তমোনাশ চৌধুরী বলেছেন, ‘‘৯ আগস্ট, ২০২৪-র হত্যাকাণ্ডে অনেকে যুক্ত। তথ্য প্রমাণ লোপাটে আরও অনেকে যুক্ত। তারা আড়ালে রয়েছে। কেবল সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন হয়েছে। মনে করি না বিচার হয়েছে।’’ 
তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা দেখেছি স্বাস্থ্য দপ্তরে দুর্নীতি ব্যাপক। ওষুধ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির চক্র। নতুন সরকারের দায়িত্ব তাকে উপড়ে ফেলার। আশা করি যথাযথ দায়িত্ব সরকার পালন করবে। মানুষ সজাগ আছেন।’’ 
চিকিৎসক সংগঠন এএইচএসডি’র সম্পাদক উৎপল ব্যানার্জি বলেছেন আর জি করের ঘটনার সময়েই বলেছিলাম বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সেই সময় প্রশাসনিক মদতপুষ্ট যে দুর্নীতি-দুর্বৃত্ত চক্র ছিল, যারা রাজ্যজুড়ে হুমকি-রাজ প্রতিষ্ঠা করেছিল, তারা যে অপরাধের পরিবেশ তৈরি করেছিল তার পরিণতি ছিল অভয়ার হত্যাকাণ্ড। তার বিরুদ্ধে সদর্থক ব্যবস্থা দেখতে পাইনি। কলকাতা পুলিশ একজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। সিবিআই তার বাইরে আর কাউকে খুঁজে পায়নি। আমরা হতাশ হয়েছি। আমরা এর আগেও বারবার দরবার করেছি প্রশাসন এবং সিবিআই’র কাছে। আমরা সূত্র ধরিয়ে দিলেও তদন্তে অগ্রগতি দেখিনি।’’


তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যে পালাবদল এল। যাঁরা এলেন তাঁদের প্রতিশ্রুতি ছিল অভয়ার বিচার হবে। আমরা আশা করছিলাম দ্রুত বিচার হবে। তিন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছেন। কিন্তু যারা এই দুর্নীতি এবং দুর্বৃত্তরাজের সঙ্গে যুক্ত, যারা টাকা পয়সা নিয়ে পাশ-ফেল প্রক্রিয়া চালাতে দিয়েছে, তারা নিজের চেয়ারেই বসে রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিচার সম্পূর্ণ হবে না।’’ 
রাজ্যের চিকিৎসক আন্দোলনের এই নেতা বলেছেন, ‘‘এক অভয়ার ঘটনা কেবল নয়। নির্বাচনের আগে এবং পরে বহু ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলার সব অভয়াকে বিচার দিতে হবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে মহিলারা ভয়হীনভাবে, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।’’ 
ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক ডাঃ দেবাশিস হালদার বলেছেন, ‘‘এই পরিস্থিতি গণতন্ত্রের ব্যর্থতা, আমাদের লজ্জা। দু’বছর পরও আমাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে বিচারের দাবিতে। তথ্য প্রমাণ লোপাটে যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে সিবিআই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দিতে পারল না।’’ 
দেবাশিস হালদার বলেছেন, ‘‘পুরনো শাসকদলের ঘনিষ্ঠ অপরাধীরা ‘ভালো তৃণমূল’ সেজে নতুন শাসকদলের সঙ্গে গা ঘষাঘষি করছে। যে নারায়ণ স্বরূপ নিগমের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে আজকে দেখছি তিনি নতুন স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে অভয়ার জন্য নীরবতা পালন করছেন! পরিস্থিতি হতাশাজনক। কিন্তু হতাশ হলে চলবে না। রাস্তায় আমাদের দাবি রাখতে হবে যাতে এমন ফের না ঘটে। বিচার না মেলা পর্যন্ত প্রতিবাদে থাকব।’’ 
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘‘মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছিল না। শাসকদলের পেটোয়ারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল। যে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল তার পরিণাম অভয়ার হত্যাকাণ্ড। নতুন সরকার মৌখিকভাবে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা আশাবাদী।’’  
ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের আরেক সংগঠক ডাঃ আসফাকুল্লা নাইয়া এদিন ধর্মতলায় নাগরিক সভায় বলেন, "অভয়ার বিচারের দাবি যাতে আর মানুষের মধ্যে না থাকে তাই জন্য নতুন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আগের শাসকের কাছের বন্ধুই আজকের নতুন শাসক হলে প্রতিবাদের রাস্তা ছাড়া কোনও পথ নেই। প্রতিবাদ করলে আমাদের উপর এই শাসক আরও বেশি করে আক্রমণ নামিয়ে আনবে। কিন্তু রাস্তার প্রতিবাদই শেষ কথা বলবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘সঞ্জয় রায় ছাড়া অন্যদের কেন ধরা হলো না? এই সংগঠিত অপরাধে একমাত্র সঞ্জয় রায় জড়িত থাকতে পারে না। প্রমাণ লোপাটে যারা দায়ী তাদের কেন ধরা হচ্ছে না।"
তিনি আরও বলেন, "ভবিষ্যতে যেখানে যেখানে অন্যায় হবে। অভয়ার প্রতিবাদীরা রাস্তায় থাকবে। মানুষের মধ্যে ঘৃণার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসার ঐক্যের কথা বলে লড়াই আরো জোরদার করতে হবে।"

Comments :0

Login to leave a comment