CPI(M) delegation meets the family of Mir Alam Kabir

আরএসএস ও গোরক্ষকদের হাতে নিহত মীর আলম কবীরের পরিবারের সঙ্গে দেখা সিপিআই(এম)'র প্রতিনিধি দলের

জেলা

ছবি- নিহত মীর আলম কবীরের পরিবারের সঙ্গে সিপিআই(এম)'র প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

আরএসএস ও গোরক্ষকদের হাতে নিহত দিনহাটার ইন্দ্রনারায়ণ গ্রামের মীর আলম কবীরের পরিবারের পাশে এখন পুরো ওকরাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অগনিত সাধারন মানুষ। মীরের বর্বোরোচিত খুনের ঘটনা ওকরাবাড়ির হিন্দু-মুসলমানকে যেন এক সুঁতোয় গেঁথে দিয়ে গেল। 
পাশাপাশি, ইন্দ্রনারায়ণ গ্রামের পাশের গ্রাম পঞ্চধ্বজি, ছোট ফকির তকেয়া,ছোট ফলিমারি বালাকান্দি,রামপ্রসাদের মত ছোট ছোট জনপদের মানুষেরাও জাতপাতের ওপরে উঠে  মীরের খুনীদের শাস্তি দাবি করছে।
মধ্যযুগীয় বর্বরতার মত নৃশংস ভাবে হাত-পা বেঁধে রাতভর মারধর করে খুনের প্রতিবাদে মঙ্গলবারের ওকরাবাড়ির হাজার হাজার মানুষের পথ অবরোধের ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে ওকরাবাড়ির কম বয়সীরা। ইনসাফ চেয়ে এককাট্টা হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। 
এই প্রতিবাদের মাঝেই বুধবার সিপিআই(এম) জেলা নেতৃত্বের একটি প্রতিনিধি দল বৃষ্টির মধ্যেই পৌঁছে যায় নিহত মীরের বাড়িতে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন মহানন্দ সাহা,তারাপদ বর্মন, শুভ্রালোক দাস, ইনদাদুল হক প্রমুখ নেতৃত্ব।
প্রতিনিধি দলকে মীরের বাবা কাচু মিয়া বলেন ময়না তদন্তের পর যখন মীর দেহ আমাদের হাতে তুলে দেওয়া তখন দেখেছি ওর পিঠে ক্ষতের চিহ্ন। পায়েও গভীর ক্ষত। জানি না ছেলেটা প্রাণ হারানোর আগে কত কষ্ট পেয়েছে। আপনারা দেখবেন ও যেন ইনসাফ পায়।
প্রতিনিধি দলের নেতা মহানন্দ সাহা মীরের বাবা ও অন্যান্য সদস্যদের বলেন, আমাদের পার্টির নেতা মহম্মদ সেলিম ও মীনাক্ষী মুখার্জী আপনাদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আপনারা দ্রুত কোচবিহারে আসুন। আমাদের আইনজীবিরা আপনাদের সবরকম  আইনী সহায়তা করছে ।
এফআইআর নেওয়ার পর পুলিশের তরফে নিহতের পরিবার ও ওকরাবাড়ির বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীকে খুনীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলেও নতুন করে এখনও অবধি একজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। 
বুধবার নিহতের আত্মীয়া সাহিদা বিবি,রোশনারা বিবি, রফিকা বিবিরা প্রতিনিধি দলকে বলেন, পুলিশ যদি খুনিদের গ্রেপ্তার না করে তবে আমরা নিজেরাই খুনীদের খুঁজে বের করে আইনের হাতে তুলে দেব। প্রয়োজনে থানা ঘেরাও হবে। খুনিদের শাস্তি না হওয়া অব্দি বিশ্রাম নেব না।
ওকরাবাড়ির বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, যখন ঘটনা ঘটে তখন সিভিক ভলেন্টিয়ার খুনিদের সঙ্গে ছিল। তবুও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয় নি? ঘটনাস্থলে ভিলেজ পুলিশ উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে। তার বয়ান নিলেই তো স্পষ্ট হবে খুনের সঙ্গে কারা জড়িত।মনে হচ্ছে পুলিশ কাউকে আড়াল করতে চাইছে।
সিপিআই(এম) নেতা মহানন্দ সাহা এদিন বলেন, গত জুলাই মাসে শীতলখুচির নগর শিঙিমারীতে মন্টু মিয়াকে খুন করে দিল গোরক্ষকরা।নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসে ফেরার পথে আমাদের পার্টির নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জীর গাড়ি শীতলখুচিতে পুলিশের সামনে বিজেপি, আরএসএস হামলা চালালো। গাড়ি থেকে দুজন নেতাকে টেনে নামিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলো।ওই দুই ঘটনার আসামীরা এখনও অধরা। এবারে মীরের খুনীদের মধ্যে মাত্র ৪ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়েছে।মূল অভিযুক্ত লিটন রায় সহ বাকিরা গ্রেপ্তার না হলে আন্দোলন তীব্র করা হবে।

Comments :0

Login to leave a comment