জলপাইগুড়িতে বামপন্থী দলসমূহের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন উপলক্ষে ‘দেশপ্রেম দিবস‘। অনুষ্ঠানের শুরুতে নেতাজীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সভাপতি ও প্রাক্তন বিধায়ক গোবিন্দ রায় বলেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বামপন্থী ও অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল অগ্রণী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সেই সময়ে আজকের বিজেপির উত্তরসূরি জনসঙ্ঘের ইংরেজ তোষণ নীতির কথাও ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয়েছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে বিভাজনের রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তৃতায় নেতাজির সাম্প্রদায়িকতা-বিরোধী দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলা হয়, নেতাজি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন—
“ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়, রাজনীতিতে ধর্মের অনুপ্রবেশ জাতির পক্ষে সর্বনাশ ডেকে আনে।”
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ ভারত গঠনের মধ্যেই দেশের মুক্তি ও অগ্রগতি নিহিত—এই বিশ্বাসই নেতাজির রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
আজকের সময়ে কোহিমা থেকে কচ্ছ, পাহাড় থেকে সাগর—নানা ভাষা, নানা মত ও নানা সংস্কৃতির মধ্যে গড়ে ওঠা ভারতের সম্প্রীতির পরিবেশকে রক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়। মানুষের রুজি-রুটির লড়াইকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িকতার বিপদের বিরুদ্ধে দেশের সমস্ত অংশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার উপর জোর দেন বক্তারা। প্রকৃত দেশপ্রেম মানে বিভাজন নয়, বরং ঐক্য ও সংগ্রাম—এই বার্তাই সভা থেকে তুলে ধরা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিআই নেতা তাষষ রাহুল হোড়, সিপিআই(এম) রাজ্য নেতৃত্ব সলিল আচার্য, জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র, সিপিআইএম এল এর নেতৃত্ব প্রদীপ গোস্বামী,আর এস পি নেতা প্রকাশ রায়, ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা মিহির সেনগুপ্ত, কৃষ্ণা বসু ঠাকুর সহ অন্যান্য বামপন্থী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। নেতাজীর জীবন সংক্রান্ত পুস্তিকা প্রচার করা হয়।
Deshprem Diwas Jalpaiguri
জলপাইগুড়িতেও পালিত দেশপ্রেম দিবস
×
Comments :0