প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং এক স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের মঞ্চাভিনয় ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্য, অঙ্গভঙ্গি ও জনসমক্ষে তার পরিচিত কথোপকথনের ধরন অনুকরণ করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজেপির একাধিক নেতা।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সমাজমাধ্যমে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে বলেন, কংগ্রেস ‘কমেডিয়ান ও জোকারদের দলে’ পরিণত হয়েছে। তার মন্তব্য, এই ধরনের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নেই।
বিজেপির মুখপাত্র সি আর কেশবনও ওই মঞ্চাভিনয়ের তীব্র সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, অনুষ্ঠানে ‘অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ’ কৌতুকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে এবং ‘নারীশক্তি’কে অপমান করা হয়েছে। কেশবনের দাবি, কোনও ‘সভ্য ও বিবেকবান’ মানুষ এই ধরনের বিষয়কে হাস্যরস হিসেবে গ্রহণ করবেন না।
কেশবন আরও বলেন, রাহুল গান্ধী যে ধরনের মঞ্চাভিনয়কে সমর্থন করছেন, তা তার রাজনৈতিক নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই ধরনের ‘তিক্ততা ও বিদ্বেষের রাজনীতি’র কারণেই তরুণ ভোটারদের মধ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে যথেষ্ট যোগাযোগ তৈরি হয়নি।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (DUSU) নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন বিজেপি মুখপাত্র। তার দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-এর ফলাফলই দেখিয়ে দিয়েছে তরুণদের মধ্যে দলটির রাজনৈতিক বার্তার প্রভাব কতটা সীমিত।
সম্প্রতি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-সমর্থিত এবিভিপি চারটি কেন্দ্রীয় পদের মধ্যে তিনটিতে জয় পায়। অন্যদিকে, এনএসইউআই-এর টিকিট না পাওয়া নির্দল প্রার্থী দীপাংশু শোকিন সহ-সভাপতি পদে জয়ী হন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীও এই ঘটনা নিয়ে রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তার অভিযোগ, ওই মঞ্চাভিনয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রয়াত মাকে নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করা হয়েছে। সমাজমাধ্যমে যোশী লেখেন, রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে এমনভাবে একজন প্রয়াত মাকে নিয়ে রসিকতা করা ‘মানবিক সহানুভূতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাব’ প্রকাশ করে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তও রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য, একজন মায়ের অপমান নিয়ে হাসাহাসি করা রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি নেতিবাচক দিক তুলে ধরে।
গতকাল ইন্দোরে কংগ্রেসের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান পুলকিত মণি। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের ধরন, অঙ্গভঙ্গি এবং জনসমক্ষে তার পরিচিত ব্যক্তিত্বের অনুকরণ করেন।
অভিনয়ের একটি অংশে প্রধানমন্ত্রীর একটি পুরনো ঘটনারও অনুকরণ করা হয় বলে অভিযোগ। একটি বিজেপি সমাবেশে উপস্থিত এক প্রবীণ মহিলার জন্য প্রধানমন্ত্রী আয়োজকদের চেয়ার দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন সেই ঘটনার সঙ্গে মিল রেখে মঞ্চে ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনা করা হয় বলে বিজেপির নেতারা দাবি করেছেন।
এছাড়াও বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির কথোপকথনের পরিচিত ধরনকে তুলে ধরা হয়। সেখানে বারবার ‘মাই ফ্রেন্ড’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়। মণি রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘হাউ আর ইউ, মাই ফ্রেন্ড?’ এর জবাবে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘হাউ আর ইউ, মোদি জি?’ এরপর মণি ‘গ্রেট হ্যারাসমেন্ট’ বলে কৌতুক করেন এবং অতিরঞ্জিত হাসির মাধ্যমে অভিনয় শেষ করেন।
এই মঞ্চাভিনয়ের পর থেকেই বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
BJP
রাহুলের অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক, কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির
×
Comments :0