নগদহীন লেনদেন ব্যবস্থার সুবিধা ক্রেতা-বিক্রেতা এবং দাতা-গ্রাহক সকলের কাছে সার্বিক পৌঁছে দেবার জন্য ইউপিআই ব্যবসাকে জনপ্রিয় করতে এক সময় মোদী সরকার ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল। এবিষয়ে সন্দেহ নেই নগদ লেনদেনে ঝুঁকি, সমস্যা, অতিরিক্ত সময়, জটিলতা তুলনামূলকভাবে বেশি। সেদিক থেকে নগদহীন সরাসরি লেনদেন একবার রপ্ত করা গেলে এবং অভ্যাস হয়ে গেলে দু’পক্ষেরই সময় ও ঝক্কি-ঝামেলা অনেক কমে যায়। বস্তুত নগদহীন লেনদেনে মানুষকে বাধ্য করতেই মোদী সরকার ঘুরপথে বাজার থেকে নগদ টাকা তুলে নিয়েছিল। ইউপিআই ব্যবস্থায় কয়েক বছরের মধ্যে নগদহীন লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও বাজারে চালু নগদ টাকা মোটেই কমেনি। বর্তমানে বাজারে চালু নগদ টাকার পরিমাণ নোট বাতিলের আগের থেকে মোটেও কমেনি, বরং বেড়েছে। অর্থাৎ নগদহীন লেনদেন বাড়লেও এবং জনপ্রিয় হলেও সেটা নগদের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি। বস্তুত নগদহীন লেনদেন ব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় করতেই একে পুরোপুরি মাশুলহীন রাখা হয়েছিল। ডেভট কার্ড, ক্রেডিক কার্ড, চেক ইত্যাদি ব্যবস্থায় লেনদেনে কিছু মাশুল গুনতে হয়।
তাহলে মোদী সরকার নগদহীন লেনদেন ব্যবস্থাকে নগদের বিকল্প হিসাবে গড়ে তোলার আগেই মাঝপথে তাকে থমকে দেবার সিদ্ধান্ত নিল কেন? সরকার কি আর চাইছে না নগদহীন ব্যবস্থাকে অপরিহার্য করে তুলতে? এটা কারও অজানা নয় কোনও পরিষেবায় যদি মাশুল চাপানো হয় তাহলে সেই পরিষেবার ব্যবহার কমবে। ইউপিআই-এ মাশুল চাপানো মানেই জনপ্রিয়তা কমবে এবং ব্যবহার কমবে। তাই সরকার নিশ্চয়ই স্বেচ্ছায় এমন পদক্ষেপ নেয়নি। কোন চাপের মুখে বাধ্য হয়ে একাজ করেছে। কি সেই চাপ?
ইউপিআই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দেশের কোনও মহলই কথা বলেনি একমাত্র বিরোধিতা বা আপত্তি এসেছিল আমেরিকার তরফ থেকে। ভারতে অর্থ লেনদেন ব্যবস্থার একচেটিয়া দখল আমেরিকার ভিসা, মাস্টারকার্ড বিনাশুল্কে ইউপিআই, রুপে কার্ড চালু হবার পর তাদের মুনাফায় বড়সড় ধাক্কা আসে। লেনদেন ব্যবসায় একটা বড় অংশ চলে যাচ্ছে ইউপিআই এবং রুপে-র মাধ্যমে। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অন্যতম ইস্যু হয়ে ওঠে। শুরুতে ভারত শুল্ক চাপাতে রাজি না হওয়ায় বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা মন্থর হয় এবং থমকে যায়। পরে ভারত নতিস্বীকার করায় ফের আলোচনা গতি পায় এবং প্রায় সম্পন্ন হয়ে যায়। এই পর্বেই জুন মাসে সংসদে আইন সংশোধন করে মাশুল চাপানোর ক্ষমতা হাতে নেয় সরকার সেই মতো আগামী মাস থেকে চালু হবে মাশুল।
সরকারের দাবি মাশুল ক্রেতাকে দিতে হবে না, দেবে ব্যবসায়ী। বাস্তবে সেটা যে দাম বাড়িয়ে ক্রেতার কাছ থেকেই আদায় হবে সেটা সকলেই জানে এবং বোঝে। প্রসঙ্গত মাশুল থেকে যে টাকা আদায় হবে সেটা বিপুল নয়। ওইটুকু সরকার ভরতুকি দিতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত পেমেন্ট কর্পোরেশনের লাভ থেকে সেটা দেওয়া যায়। তা না করে মোদী সরকার শুল্ক চাপাতে বাধ্য হয়েছে আমেরিকার চাপেই। অর্থাৎ আমেরিকার বহুজাতিকের মুনাফার স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতেই মোদী সরকার দেশের সাধারণ মানুষের ওপর অনাবশ্যক করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।
editorial
বন্ধু প্রীতি না আত্মসমর্পণ
×
Comments :0