দুর্নীতি, স্বৈরশাসন ও বিজেপি সমার্থক। লড়াই ছাড়া দার্জিলিঙে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল চালু করা যাবে না। লড়াই করেই আদায় করতে হবে স্বশাসনের অধিকার।
প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যের বই ‘ভারতীয় সংবিধানে স্বশাসন এবং ষষ্ঠ তফসিল’ বইটি প্রকাশ করে একথা বলেছেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।
শনিবার বিকেলে শিলিগুড়ি দীনবন্ধু মঞ্চের রামকৃষ্ণ প্রদর্শনী কক্ষে এক অনুষ্ঠানে বইটি প্রকাশ করেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। বইটির প্রকাশক শিলিগুড়ি ‘চন্ডাল পাবলিকেশন‘। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেন ‘চন্ডাল পাবলিকেশন’ শিলিগুড়ির পক্ষে কিশোর সাহা।
এরপর ‘ভারতীয় সংবিধানে স্বশাসন এবং ষষ্ঠ তফসিল’ বইটি প্রকাশ করে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা মানিক সরকার বলেন, ষষ্ঠ তফসিল সম্পর্কে লেখকের আগ্রহ ও তার ব্যাপকতা বিভিন্ন সময় নজরে এসেছে। এলাকায় এলাকায় গিয়ে চাক্ষুষ করেছেন। সমাজের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিজের চিন্তা দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন লেখক। অসাধারন প্রচেষ্টা।
সরকার বলেন, বইটির মূল বিষয়বস্তু উপজাতি জনগনের সমস্যা। সেই উপজাতিরাই আমাদের সমাজের সব চাইতে পিছিয়ে রয়েছেন। তাঁদেরকে এগিয়ে আনতে না পারলে গণতন্ত্র নিরর্থক। এরজন্য আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
সরকার বলেন, দার্জিলিঙের সমস্যাকে ভাবনায় রেখে সুযোগ্য সুরাহার জন্য বইটিতে লেখাগুলি পরিস্ফুট হয়েছে। দার্জিলিঙ পার্বত্য এলাকাকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিলের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত করা যায়নি। এখন ডবল ইঞ্জিনের সরকারের সময়ে লড়াই ছাড়া দার্জিলিঙের মধ্যে ষষ্ঠ তফশিল চালু করা যাবে না। তাই লড়াই করতে হবে।
সরকার বলেছেন, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ নামিয়ে এনে পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত সরকার মাত্র চার মাসের মধ্যেই জনসমর্থন হারাতে শুরু করেছে। জিনিসের দাম বাড়ছে। টাকার দাম কমছে। মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে। কর্মসংস্থানে পথ সঙ্কুচিত হচ্ছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। জীবনযাত্রার মান নীচের দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আক্রমণ হয়েছে।
তাঁর বক্তৃতায় উঠে এসেছে ত্রিপুরায় ৮ বছর ও দিল্লিতে ১২ বছর বিজেপি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি। ২০১৮সালের পর ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার আসার পরে কেমন চলছে বিস্তারিতভাবে তা তুলে ধরে বলেন, দুর্নীতি, স্বৈরশাসন ও বিজেপি সমার্থক। মুখে উপজাতি কল্যাণের কথা বললেও, বাস্তবিক সমস্যাগুলো উপেক্ষিত থাকছে।
লেখক অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ১৪টি প্রবন্ধ নিয়ে এই বইটি প্রকাশিত হলো। ষষ্ঠ তফশিল হচ্ছে সংবিধানের ২৪৪(২) ও ২৭৫(১) নম্বর ধারা অনুযায়ী আমাদের দেশের উত্তর-পূর্ব ভারতের দশটি অঞ্চলে এই স্বশাসিত পরিষদ গড়ে উঠেছে। দশটি স্বশাসিত পরিষদেই আমি গিয়েছি। ষষ্ঠ তফশিলের বাইরে নাগাল্যান্ডে গেছি। নাগাল্যান্ডে ষষ্ঠ তপশিল নেই। কিন্তু সেখানে কতোগুলো বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও বইটিতে ৩৭১ (এ থেকে এইচ) অনুচ্ছেদের প্রয়োগের মাধ্যমে নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ ও মনিপুরের আঞ্চলিক সুরক্ষার বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৩৭০এর অধীন জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ অধিকারের মতোই পাহাড়ের অনন্য জীবনযাত্রা, জমি ও সংস্কৃতি রক্ষার স্বার্থে ৩৭১ অনুচ্ছেদ কার্যকর করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে বইয়ে।
ভট্টাচার্য বলেন, গবেষণার মূল উদ্দেশ্য দার্জিলিঙের রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান। কিভাবে দার্জিলিঙে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন স্বশাসনের ব্যবস্থা করা যায়। আগামীদিনে বইটি নেপালি ভাষায় বইটি অনুদিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক বাইচুঙ ভুটিয়া, কার্শিয়াঙের প্রাক্তন বিধায়ক অধ্যাপক রোহিত শর্মা, ড. সৌমেন নাগ, বিশিষ্ট সাংবাদিক কেশব প্রধান, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা জীবেশ সরকার ও অজয় এডওয়ার্ড। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা সমন পাঠক।
Manik Sarkar on 6th Schedule
লড়াই করে দার্জিলিঙে আদায় করতে হবে স্বশাসন, ৬ষ্ঠ তফসিল সংক্রান্ত বই প্রকাশ করে বললেন মানিক সরকার
অশোক ভট্টাচার্যের লেখা ‘ভারতীয় সংবিধানে স্বশাসন এবং ষষ্ঠ তফসিল’ বইয়ের প্রকাশ অনুষ্ঠানে মানিক সরকার, সমন পাঠক, বাইচুঙ ভুটিয়া প্রমুখ।
×
Comments :0