Post editorial

২০ সেপ্টেম্বর ইনকিলাব সমাবেশ লড়াইয়ের পথ আরও প্রশস্ত করতে হবে

সম্পাদকীয় বিভাগ

অয়নাংশু সরকার

পৃথিবীজুড়ে বেকারি, অনিশ্চয়তা এবং জীবনমানের অবনমন একটি সাধারণ প্রবণতা হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। দুনিয়াজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনজীবিকার খরচ ক্রমবর্ধমান, অথচ উপযুক্ত উপার্জন ও গ্রহণযোগ্য আয়ের কর্মসংস্থান ক্রমাগত নিম্নমুখী। নয়া উদারবাদ বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে মানুষের যে সমস্ত সমস্যার সমাধান করার দাবি করেছিল তা সম্পূর্ণই বিফল হয়েছে। মানুষের জীবনের সমস্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হয়েছে। স্থায়ী কাজের জায়গা আজকে সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। 
আমাদের দেশে বর্তমানে কর্মসংস্থান ও বেকার সংক্রান্ত সরকারি তথ্য আর প্রত্যেক বছর প্রকাশিত হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে তারা সঠিক তথ্য ও খবর লুকোতে চাইছে। সিএমআইই’এর সাম্প্রতিকতম সমীক্ষায় ভারতে ১৫থেকে ২৫বছর বয়সী শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি-প্রায় ৪০শতাংশের কাছাকাছি। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) দ্বারা গত ১৫সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সর্বশেষ মাসিক বুলেটিন অনুযায়ী, ভারতে সামগ্রিক বেকারত্বের হার কমেছে বলে দেখানো হয়েছে। ঘটনা হলো, এই পরিসংখ্যানে কাজের গুণমান কোনভাবেই প্রতিফলিত হয়নি। চরম অনিশ্চয়তার কাজকেও এই পরিসংখ্যানে যুক্ত করে নেওয়া হয়েছে এটা সহজেই বোঝা যায়। আইএলও ও আইএইচডি’এর রিপোর্টে ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে বেকারত্বের হার কমেছে বলে দেখানো হলেও আসল চিত্র হচ্ছে আন্ডার এমপ্লয়মেন্ট, যা চরম আকার ধারণ করেছে। একজন ব্যক্তি কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি তার যোগ্যতা, দক্ষতা এবং কর্মক্ষমতা অনুযায়ী উপযুক্ত কাজ বা পারিশ্রমিক কোনটাই পাচ্ছেন না। যারা কাজ করছেন তাদের বৃহৎ অংশেরই কাজের কোন নিরাপত্তা নেই, নিশ্চয়তা নেই। 
ব্যাপক সংকটের মধ্যে রয়েছে যুবজীবন। মোট বেকার জনসংখ্যার ৮৩শতাংশই হলো তরুণ। মোট বেকার যুবদের মধ্যে ৬৫.৭শতাংশ হলো মাধ্যমিক বা তার উচ্চ স্তরের শিক্ষিত তরুণ। উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা তাদের যোগ্যতার উপযুক্ত কাজ না পেয়ে বাধ্য হয়ে অত্যন্ত কম বেতনের এবং অনিরাপদ কাজে যুক্ত হচ্ছেন চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণে। ‘রিইমাজিনিং স্কিলিং ফর বিকশিত ভারত @২০৪৭” রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ভারতে ১৫-২৯বছর বয়সী প্রায় ৮.৭ কোটি তরুণ নিট (নট ইন এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট, অর ট্রেনিং) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, এরা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নেই, আবার মানসম্মত কোনো কাজের সুযোগও পাচ্ছে না।
বেকারি, ভারতের জ্বলন্ত সমস্যায় পর্যবসিত হয়েছে। সরকারি কোষাগারের টাকা ব্যয় করে বহু বিজ্ঞাপিত কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসংস্থান প্রকল্পগুলি প্রকৃত অর্থে কোন কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। মেক ইন ইন্ডিয়া, স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্কিল ডেভেলপমেন্ট-ইত্যাদি নানান রকমের প্রকল্পের কথা বললেও আসলে তা কোন কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারেনি। 
ভারতে কর্মপ্রার্থীদের গড় বয়স ২৯বছর। প্রতিশ্রুতিমতো বছরে দু’কোটি চাকরি তো অনেক দূরের গল্প, বছরে যে কয়েক লক্ষ চাকরি হচ্ছে এমন কোন নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। মেক ইন ইন্ডিয়ার নাম করে বলা হয়েছিল দেশের আভ্যন্তরীণ উৎপাদনে ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে অবদান ২৫শতাংশ করে ফেলা হবে। ১০ কোটি কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক।   
এক ভয়ঙ্কর কর্মহীনতার সময়ে যারা কাজ করছেন, প্রকৃতপক্ষে তাদের কাজ অস্থায়ী। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনযাপন করতে হচ্ছে। স্থায়ী কাজ না থাকায় টোটো, অটো, অন্যের বাড়িতে গৃহকর্ম, হকারি প্রভৃতি নিরাপত্তাহীন কাজ বাড়ছে। ছোট ছোট কারখানা যতটুকু আছে সেখানে ঠিকা শ্রমিক হিসেবে স্বল্পমজুরিতে শ্রমকে বেচতে বাধ্য হচ্ছে যৌবন। স্থায়ী শ্রমিকদের পরিবর্তে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলি বিভিন্ন ধরনের শ্রমিক নিয়োগ করছে যেমন ঠিকা, চুক্তিভিত্তিক বা শিক্ষানবিশ। দেখা যাচ্ছে স্থায়ী শ্রমিক যারা আছেন, তাদের বেতনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ খরচ করেই মালিকরা কাজ উঠিয়ে নিচ্ছে। সপ্তম পে কমিশন মাসে মজুরি নির্ধারণ করেছিল ১৮হাজার টাকা, কিন্তু বাস্তব চিত্র খুব ভয়ঙ্কর। ক্যাজুয়াল বা অস্থায়ী কর্মীদের ৫৯শতাংশ মাসিক মজুরি ৫হাজার টাকার নিচে, চুক্তি শ্রমিকের ৬৬.৭ শতাংশ মাসিক মজুরি ৭হাজার টাকার নিচে। আসল বাস্তবতা হলো অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক, ঠিকা শ্রমিকদের সারা বছরের কোন স্থায়ী কাজ নেই। 
সরকারি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পগুলি বিক্রির ফলে কর্মসংস্থান ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। বিদ্যুৎ, ইস্পাত, কয়লা, পেট্রোলিয়াম শোধনাগার, রেলপথ প্রভৃতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সহ বীমা, টেলি-যোগাযোগ, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং অনেকগুলি পারিপার্শ্বিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। এমনটা নয় যে সংস্থাগুলি লাভ করতে পারছিল না বরং লাভ হচ্ছিল এবং একই সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। কিন্তু দেশের সরকার পরিকল্পিতভাবে এই সংস্থাগুলিকে বিক্রি করলো, ফলত কর্মসংস্থানের জায়গাও সংকুচিত হয়ে গেল। ভারতীয় রেলের আলাদাভাবে বাজেট হতো, কর্মসংস্থানের আলাদা চিত্রকে বোঝা যেত। ভারতবর্ষে কর্মসংস্থানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল ভারতীয় রেল। সরকারি মতে ভারতীয় রেলে শূন্যপদ ৩লক্ষের বেশি। যদিও সঠিকভাবে তথ্য অনুসন্ধান করলে বোঝা যাবে চিত্রটা আরো অনেক অনেক বেশি। কার্যত ব্যাপক অংশ অস্থায়ী ঠিকা শ্রমিক নিয়োগ করে ভারতীয় রেলের কাজ চলছে। 
স্থায়ী নিয়োগকে কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজগুলিতে ব্যাপক সংখ্যক শূন্যপদ রয়েছে। অ্যানুয়াল স্ট্যাটাস অফ এডুকেশন রিপোর্টে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী নিয়োগে ব্যাপক শূন্যপদের কথা চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্যাঙ্ক, বীমা সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি, সেনাবাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী, রাজ্য পুলিশ, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ব্যাপক শূন্যপদ পড়ে থাকলেও তা পূরণের কোনো লক্ষ্য নেই। স্বল্প মজুরিতে, যুবজীবনের শ্রমকে শোষণ করে অস্থায়ীভাবে দপ্তরগুলির কাজ পরিচালিত হচ্ছে। দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি দপ্তরগুলিতে শূন্যপদ পুরণের কোনো লক্ষণ নেই। গুজরাটে সরকারি মেডিকেল কলেজের ২৯শতাংশ পদে কোন নিয়োগ হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, গ্রন্থাগারিক, করণিক পদে মোট শূন্যপদের ২৫শতাংশও নিয়োগ হয়নি। একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, রাজ্য সরকারি দপ্তরগুলিতে বর্তমানে শূন্যপদ ৩০লক্ষের বেশি। প্রকৃতপক্ষে, এই সংখ্যা আরো বেশি, কারণ ইতিমধ্যেই পরিকল্পিতভাবে কয়েক লক্ষ শূন্যপদের অবলুপ্তি ঘটানো হয়েছে। কয়েকবছর আগে ভারতীয় রেলে গ্রুপ ডি ক্যাটাগরির জন্য ৬২০০ শূন্যপদ পূরণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়-শূন্যপদগুলির জন্য দরখাস্ত জমা পড়ে ২কোটির বেশি। উত্তর প্রদেশ সরকার ৪০০জন গ্রুপ ডি পদের জন্য চাকরির পরীক্ষা নেয়, সেখানে চাকরি প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২৩লক্ষ। বেকারত্বের যন্ত্রণা যে কি তীব্র তা উপরিউক্ত পরিসংখ্যান থেকে ধরা পড়ে।
একদিকে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি পরিকল্পিতভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগকে সংকুচিত করছে, অন্যদিকে চাকরির বাজারে বিপুল সংখ্যক প্রত্যাশীর ভিড়। কাজ না থাকার ফলে অনেক উচ্চশিক্ষিতও অনেক কম শিক্ষাগত যোগ্যতার কাজকর্ম খুঁজতেও বাধ্য হচ্ছেন। বিগত দুই দশকে মোট বেকারের তালিকায় শিক্ষিতদের সংখ্যা প্রায় ৩০.৫শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আইটি সেক্টরের মতন ক্ষেত্রেও চলছে ব্যাপক ছাঁটাই, কাজের কোন নির্দিষ্ট সময় নেই, স্থায়িত্ব নেই। ছোট ছোট কারখানাগুলিতে কাজের সংকট রয়েছে-শ্রম কোড কার্যকরী হবার ফলে সঠিক মজুরি, কাজের নির্দিষ্ট সময় না থাকা, কাজের নিরাপত্তা না থাকা এই সব কিছুর প্রভাব পড়ছে যুবসমাজের মধ্যে। 
এমজিএনরেগা’র উপর আঘাত করে নতুন নাম দিয়ে গ্রামীণ কাজের উপর পরিকল্পনামাফিক সংকট তৈরি করা হলো। ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ক্ষেত্র কৃষি। সেখানেও বিনিয়োগ কমেছে-কৃষির আধুনিকীকরণ বা সংস্কার নিয়ে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ কার্যত শূন্য। জাতীয় নমুনা সমীক্ষার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান কর্মহীনতার এক ভয়ঙ্কর ছবি উপস্থিত করেছে-গ্রামীণ ভারতে ৩কোটি ২০লক্ষের বেশি কৃষি শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। একই সাথে ক্ষেতমজুরদের কাজ অনেক কমেছে, বাজারদর অনুযায়ী মজুরি বৃদ্ধি হয়নি। সারা বছর কাজ না থাকার ফলে দিনমজুরির কাজ যখন যা পাওয়া যায় তাই করতে হয়, কোনদিন কাজ পাওয়া যায়, আবার কোনদিন কাজ পাওয়া যায় না। আবার বেশকিছু ক্ষেত্রে সংকটময় পরিস্থিতিতে নিজের পরিবার পরিজন ছেড়ে স্বল্পমজুরিতে এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে কাজে যাচ্ছে বেকার যৌবন। অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে কাজের উপর সংকট। 
ভারতে কর্মক্ষম মানুষের ৯০শতাংশের বেশি হলো শ্রমজীবী মানুষ, যারা অসংগঠিত ক্ষেত্রগুলিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন, প্লাস্টিক, দেশলাই, রং, জামাকাপড়, চামড়া, প্রিন্টিং, ইলেকট্রনিক্স প্রভৃতি। এই ক্ষেত্রগুলিতেও এখন কাজের অনিশ্চয়তা তীব্র এবং শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। গিগ অর্থনীতির কর্মীদের জীবন ও ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে-কখন কোন অর্ডার দেওয়া হবে, কতদূর যেতে হবে, কত সময়ে পৌঁছাতে হবে, সব কিছু ঠিক করে দেবে অ্যাপ। সামান্য দেরি হলেই রেটিং কমে যায়, ইনসেনটিভ কাটা পড়ে, বারবার হলে আইডি ব্লক। কোন নোটিশ নেই, কোন শুনানি নেই, কোন আপিলের জায়গা নেই। উৎপাদনমুখী শিল্প ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি থেকে সরে এসে ফাটকা অর্থনীতির দিকে পরিকল্পিতভাবেই উৎসাহিত করা হচ্ছে।  
বৃহৎ জনসংখ্যার কারণে আমাদের মতো দেশের আভ্যন্তরীণ বাজার বিশাল। কিন্তু সমস্যাটা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কম। দেশের ৫৫শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিব্যবস্থার সাথে যুক্ত, অথচ ভারতের কৃষকরা আজ অস্তিত্বের সংকটে ভুগছেন। প্রয়োজন জমি বন্টন, আমূল ভূমি সংস্কার, কৃষিকাজের খরচ ও কৃষিপণ্যের বিপণনে সরকারের অধিকরতর দায়বৃদ্ধি এবং সুসংহত কৃষিনীতির রূপায়ণ। শুধুমাত্র রপ্তানিনির্ভর কর্পোরেট পুঁজির মৃগয়াক্ষেত্র হিসেবে নয়, ক্ষুদ্র ও মধ্য শিল্পোদ্যোগদের নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন। বাজারনির্ভর অর্থনীতি কখনো কর্মসংস্থানের অগ্রগতি ঘটাতে পারবে না। 
অর্থনীতির এই বিপর্যয়কর অবস্থার মোকাবিলায় জরুরি প্রয়োজন মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। অদূর ভবিষ্যতে ভারতের শ্রমশক্তির আয়তন হয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৯০কোটি। এই পরিমাণ শ্রমশক্তি যেকোনো দেশের ক্ষেত্রে এক বিরাট গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কর্মসংস্থানের সমস্যা শুধুমাত্র কাজের আকালের সমস্যা না, শিক্ষাক্ষেত্রেও এর গুরুতর প্রভাব পড়ছে। কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ যত খারাপ হচ্ছে, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রসংখ্যা ততই কমছে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আসন সংখ্যা ফাঁকা থাকছে। বেকারত্বের তীব্র যন্ত্রণাকে ব্যবহার করে যুবসমাজকে বিপথগামী করার চক্রান্ত জারি আছে। পৃথিবীব্যাপী চিরকাল বেকারত্ব ও হতাশায় ডুবে থাকা তরুণদের ব্যবহার করে অতি দক্ষিণপন্থী শক্তি। এই যুব অংশের যন্ত্রণাকে ব্যবহার করেই ঘৃণা ছড়ানো, জাতিবিদ্বেষের আগুন জ্বালাতে চায় অতি দক্ষিণপন্থী শক্তি। আজকের নয়া ফ্যাসিবাদী শক্তি যুবসমাজের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা, উগ্র জাতীয়তাবাদ, সংকীর্ণ মানসিকতা গড়ে তুলতে চায়। 
তাই আজকের পরিবেশ পরিস্থিতিতে যুবসমাজকে চিন্তাচেতনায় যুক্তিবোধে অগ্রবর্তী হতে হবে। যুবসমাজকে সাহসী অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। সব অংশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে উদারীকরণ বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অবতীর্ণ হতে হবে। নামতে হবে পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে ‘ইনকিলাব’এর বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ভগৎ সিং’এর নেতৃত্বে ‘নওজোয়ান ভারত সভা’র বিপ্লবীরা এবং মাস্টারদার নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মির বিপ্লবীরা। আমাদের দেশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের সঙ্গেই একইসাথে আওয়াজ উঠেছিল সকলের শিক্ষা ও সকলের কাজের দাবি। ১৯২৬সালের মার্চ মাসে ভগৎ সিং, ভগবতীচরণ ভোরা’র নেতৃত্বে তৈরি হওয়া ‘নওজোয়ান ভারত সভা’র বিপ্লবীরা বলেছিলেন, ‘আমরা সমাজতন্ত্র চাই’। বিপ্লবীরা বলেছিলেন, আমরা এমন একটা দেশ গড়তে চাই, যেখানে শোষণ থাকবে না, সকলের পড়াশোনার সুযোগ থাকবে, সকলের হাতে কাজ থাকবে, কৃষকের ঋণ মকুব করা হবে, কৃষকরা ফসলের দাম পাবে, শ্রমিকদের কাজের ঘন্টা নির্দিষ্ট করতে হবে ও শ্রমিকরা সঠিক মজুরি পাবে।
আজকের ভারতবর্ষে এই সব ক্ষেত্রগুলোই আক্রমণের মুখে। ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’র আওয়াজ তুলে ‘নওজোয়ান ভারত সভা’র বিপ্লবীরা শোষণ-বৈষম্যহীন যে দেশ গড়তে চেয়েছিলেন সেই দেশ গড়ার লক্ষ্যে, সকলের হাতে স্থায়ী কাজের দাবিতে আগামী ২০সেপ্টেম্বর কলকাতার ধর্মতলায় তারুণ্যের বৃহৎ সমাবেশ আগামীর লড়াইয়ের বার্তা বহন করবে। সমাজের সব অংশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার বার্তা নিয়েই এই সমাবেশকে সফল করার লক্ষ্যে এগোতে হবে, আগামীর লড়াইয়ের পথকে প্রশস্ত করতে।

Comments :0

Login to leave a comment