দীর্ঘ দুই দশক ধরে আলোচনার পর মঙ্গলবার ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবাধ বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা হয়েছে। ইউরোপের থেকে আমদানি হয় এমন পণ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশে আমদানি শুল্ক ছাঁটাই এবং তুলে নেওয়ার সমঝোতায় সই করেছেন মোদী।
ভারতকে কৃষিপণ্যে আমদানিতেও মাশুল কমাতে হচ্ছে। ইউরোপের পাঁউরুটি, প্যাস্ট্রি, বিস্কুট, পাস্তা, চকোলেটে শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে একেবারে শূন্য করতে রাজি হয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবাধ বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতা করেছে সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো। এই সমঝোতাকে ‘দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে পাইকারি হারে বিসর্জন’ আখ্যা দিয়েছে সিপিআই(এম)। চুক্তির সম্পূর্ণ বয়ান আসন্ন বাজেট অধিবেশনে পেশ সংসদে প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়েছে।
পলিট ব্যুরোর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চক্তির শর্ত অনুযায়ী ৯০ শতাংশের বেশি পণ্যে বড় মাত্রায় ছাঁটতে হবে আমদানি শুল্ক। অটোমোবাইলে শুল্ক ১১০ শতাংশ থেকে কমে হবে ৪০ শতাংশ, লৌহ ও ইস্পাতে ২২ শতাংশ থেকে কমে হবে ০ শতাংশ, ওষুধে ১১ শতাংশ থেকে কমে হবে ০ শতাংশ, বিভিন্ন মদে ১৫০ শতাংশ থেকে কমে ৪০ শতাংশ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ৫০ শতাংশ থেকে কমে ০ শতাংশ, ভেড়ার মাংশে ৩৩ শতাংশ থেকে কমে ০ শতাংশ। উল্লেখ্য, দেশের উৎপাদকদের জন্য বাজার নিশ্চিত করতেই আমদানি শুল্ক বসায় প্রতিটি দেশ। তা কমে যাওয়ায় ভারতের বাজারে অবাধে ঢুকবে ইউরোপীয় পণ্য।
পলিট ব্যুরো বলেছে, বিদেশি গাড়ি কিনবে বিত্তবান ছোট একটি অংশ। কিন্তু দেশে তৈরি গাড়ি উৎপাদন শিল্পে কাজ করেন এমন শ্রমিকরা বা কৃষক এবং সাধারণ মানুষ পড়বেন বিপদে। এই সমঝোতায় ইজরায়েলের হাইফা বন্দরের মাধ্যমে ভারত-মধ্য প্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোরকে সচল করার ওপর জোর দিয়েছে। পলিট ব্যুরো বলেছে, যখন সারা বিশ্ব ইজরায়েলকে গাজায় আগ্রাসনের জন্য বৈষম্যবাদী রাষ্ট্র ঘোষণার দাবি উঠছে তখনই এমন উদ্যোগ।
India-EU FTA
ইউরোপের ৯৭% পণ্যে শুল্ক ছাঁটছে ভারত, বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতা সিপিআই(এম)’র
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী।
×
Comments :0