MD SELIM SILIGURI

উচ্ছেদের বিরুদ্ধে লড়ছে বামপন্থীরাই, আন্দোলনের পথেই সিপিআই(এম), শিলিগুড়িতে বললেন সেলিম

রাজ্য

অনিন্দিতা দত্ত : শিলিগুড়ি

উচ্ছেদের নামে বস্তি-কলোনিবাসী, দোকানদার, হকারদের বিরুদ্ধে বিজেপি’র নতুন সরকার যুদ্ধ ঘোষনা করেছে। তার বিরুদ্ধে বামপন্থী তথা সিপিআই(এম) লড়াই করছে। উৎসবের মুখে মানুষ যখন আনন্দের প্রস্তুতি শুরু করবে তার বদলে সরকার আনন্দমুখর দিনগুলিতে সংকীর্ন দৃষ্টি নিয়েছে। সোমবার দুপুরে শিলিগুড়িতে অনিল বিশ্বাস ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে একথা বলেন সিপিআই(এম)’র রাজ্যের সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এদিন সিপিআই(এম) দার্জিলিঙ জেলা কমিটির বৈঠকে যোগদান করেন তিনি। রবিবার দার্জিলিঙ শহরে কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন। সেলিম বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহারে আমাদের পার্টিসভা ও বিভিন্ন আন্দোলনের কর্মসূচি চলছে।

মহম্মদ সেলিম বলেন, "সারাবছর শরৎকালের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। ভাদ্র মাসের পর আশ্বিনের অপেক্ষায় থাকে। আশ্বিনের শারদ প্রাতে এই বলেই মহালয়া শুরু হয়। ওরা আমাদের রাজ্য, রাজ্যের মানুষ ইতিহাস, সংষ্কৃতি বোঝে না, আমাদের ধারাকে খারাপ মনে করে। বিজেপি সরকার আসার পরে ঘোষিতভাবেই বিজেপি নেতৃত্ব এমনকি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ধ্যানধারনা পাল্টাবে। এখন এই ধ্যানধারনা পালটাতে গিয়ে পোষাক, পরিচ্ছদ খাদ্য সবকিছুর বিরুদ্ধেই ওরা উষ্কানিমূলক ব্যবস্থা করছে। নিজেরা যখন পারছে না তখন ধর্মীয় গুরুদের প্রবচন দেওয়াতে নিয়ে এসেছে। অসুবিধা নেই তাতে। কারন সংবিধানে প্রত্যেক মানুষের সম মর্যাদা ও সমতার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্বাস, মত ধারা অনুযায়ী জীবনযাপন করার অধিকার আছে। এটাই আমাদের দেশের গর্ব ঐতিহ্য, বৈচিত্র্য। স্থানীয়, রাজ্যগতভাবে, একই রাজ্যের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে নানা পরম্পরা, উৎসব, লোকাচার, শাস্ত্রাচার আছে। সেগুলি পালনের ক্ষেত্রে নিজস্ব ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আছে। তার সাথে কিছু দেশাচারও আছে। যারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করে, ফাসিস্ত, স্বৈরাতান্ত্রিক চরিত্রের লোক হয় তারা নিজেরা যেটা চায় সেটাকেই সবাইকে করতে হবে এমনটা কায়েম করতে চায়। যা গণতন্ত্রের একেবারেই পরিপন্থী। আসলে আক্রমন করা হচ্ছে গণতন্ত্রের উপর। পরতে পরতে যে সভ্যতা বিকশিত হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে আমাদের দেশকে গোটা বিশ্বে সম্মান করে। তার সঙ্গে আধুনিক বিশ্বে যে বহুমাত্রিক সংষ্কৃতি ও বহুজাতি, ধর্ম, জাতি, ভাষাভাষির মানুষ একসঙ্গে এই গণতন্ত্রের মধ্যে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে একসঙ্গে আছি। কেউ নিরামিষ আবার কেউ আমিষ। আমাদের মিশ্র সংষ্কৃতি আছে। এই বৈচিত্র্যকে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক ব্যক্তি ও জনগোষ্ঠীকে মর্যাদা দেবার মধ্যে দিয়েই এই বৈচিত্র্যকে স্বীকার করে নেওয়া হয়। এটাই গণতন্ত্রের ভীত। কিন্তু বিজেপি নিজেরটাকে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের সাংষ্কৃতিক ধারা ও বিশ্বাসকে হেয় করা হচ্ছে।"

সেলিম রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে, রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, যত মত তত পথ। ভারত হলো ইউনিয়ন অব স্টেটস। এই সময়ে ইউনিয়নেও আপত্তি করা হচ্ছে। ইউনিয়ন মানে ইউনিটি, ঐক্যবদ্ধ। এটার ওপরেও আক্রমন করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমরা সমস্ত চিন্তাশীল মানুষ, যারা প্রশ্ন করার সাহস রাখেন, যারা গণতান্ত্রিক বোধ সম্মান থেকে রুখে, সেই সমস্ত মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি।" 
মহম্মদ সেলিম বলেন, "বৃহত্তর বাম ঐক্য ও পরিসরকে না বৃদ্ধি করলে আমাদের উপর চারদিক যে আক্রমন হচ্ছে তা প্রতিহত করা যাবে না। শুধু রাজনৈতিক, পুলিশ বা সরকারি আক্রমন নয়, নতুন আঙ্গিকে আক্রমন হচ্ছে। নতুন কিছু নয় আগে গত ১৫বছর ধরেও আক্রমন হয়েছে। প্রত্যেকের নাগরিক হিসেবে পরিচয় আছে। এই বহুত্বের বিভক্ত করার যে সরকারের প্রয়াস তার বিরুদ্ধে আমাদের এককাট্টা হবার আহ্বান জানিয়ে গোটা আগস্ট মাস জুড়ে প্রচার হয়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলন ও আন্দোলন পরবর্তী সময়ে সংবিধানও সেই পথটাই দেখিয়েছে এখন সেগুল ম্লান করার ও ভুলিয়ে দেবার চেষ্টা হচ্ছে। সেটাকে রক্ষা করাই আমাদের বড় কর্তব্য।"
 
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্য সম্পাদক বলেছেন, কোনও ফাটল নেই। বামফ্রন্ট অনেকগুলি দল নিয়ে আছে। বামফ্রন্টের বৈঠক থেকে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিলিমিটেশনের পরে একবার আরএসপি লড়েনি। সেখানে সমঝোতার ভিত্তিতে কখনও কংগ্রেসকে দেওয়া হয়েছে, শেষ নির্বাচনে ডব্লিউবিএসপি—কে দিয়েছি, এখানে কোন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নেই। পুরসভা ভোটের আগে বিজেপি ডিলিমিটেশন করছে। ডিলিমিটেশন মানে একটা পলিটিক্যাল অ্যাডমিনেস্ট্রেটিভ লিগ্যাল একটা এক্সেসাইজ। আমাদের বিধানসভা, লেকসভায় যখন ডিলিমিটেশন হয় তখন ডিলিমিটেশন কমিশন করতে হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব থাকে এবং বিচারপতির নেতৃত্বে হয়। এখানে দেখা যাচ্ছে একতরফাভাবে কতগুলি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটাকে বলা হয় জেরিম্যান্ডারিং। তার মানে নিজের সমর্থনের ভোটগুলিকে একত্রিত করে, বিরোধীদের ভোটগুলিকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া। এখানে ডিলিমিটেশন করার ক্ষেত্রে জনসংখার ভিত্তিতে বা অন্যান্য কোন নিয়ম ঘোষনা করা হয়নি। আমাদের রাজ্যে এসআইআর ভোট করে আমাদের রাজ্যে বা অন্যান্য জায়গায় যেভাবে কিছু ভোটারদের ভোটের তালিকা থেকে বের করে দিয়ে ভোটে জেতার চেষ্টা করেছে বিজেপি রাজস্থানের ক্ষেত্রে এইভাবে জেরিম্যান্ডারিং করা হয়েছে। দেখা গেছে একটা আসন এক হাজারের আবারে আরেকটি আসন চার হাজারের। কোনও যুক্তি নেই। বিজেপি মানেই অযৌক্তিকতা। অ্যাডমিনিস্ট্রেটিং অফিসারদের কাছে জনসংখ্যার নিরিখে কতগুলি ওয়ার্ড হবে তা নির্ধারন করার দাবি জানিয়েছি আমরা। জিওগ্রাফিক্যাল কন্টিনিউয়াস দেখতে হয়। হ্যাবিটেশনকে ভাগ করার দরকার হয়না। এখানে দেখা যাচ্ছে কিছুই মানা হয়নি। কোন আসনগুলোকে একই রাখা হয়েছে। আবার কোন আসনকে চারভাগে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দাবি নীতি ঠিক করুন। ডিলিমিটেশনের ক্ষেত্রে আরও একটা করা হয়ে থাকে শহর, জেলা বা রাজ্যের একটা প্রান্ত থেকে শুরু করা হয়ে থাকে। এই যে ডিলিমিটেশনের নাম করে আঁকিবুকি করছে সেটাও আসলে বিজেপি আউটসোর্স করে দিয়েছে কোন একটা এজেন্সিকে। কলকাতা ও হাওড়ার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি। ব্লক বা শহরকে আসনে টুকরো করা হলে প্রশাসনিক কাজকর্ম চালানোর জন্য, মানুষের যোগাযোগের জন্য, প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কোনটা সুবিধাজনক হবে সেব্যাপারে আমরা আমাদের মত জানিয়েছি। ওরা হেয়ারিং কিছু কিছু করছে কলকাতা ও হাওড়ায়। এখানেও তাই কবে বলে আশা রাখছি। এই ক্ষেত্রে যে সমস্ত অনিয়ম হয়েছে সেগুলি বলতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে বিজেপি—র যে কায়দা কানুন করছে সেটা অস্বচ্ছ। অফিসারদের এগিয়ে দিয়ে করছে। এদিকে বিরোধীরা পৃথক পৃথকভাবে পড়াশুনা করেছে। সব একত্রিত হবার পর দেখা যাচ্ছে একইরকমের প্রতিক্রিয়া আছে। নির্দিষ্ট সমস্যা নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থাপিত হবার পর কে কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে তা বুঝে যদি সমদৃষ্টি সম্পন্ন কেউ থেকে থাকে তাহলে এককাট্টা হব।

Comments :0

Login to leave a comment