Pinarayi Vijayan

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিজয়নের বিরুদ্ধে ইডি’র পদক্ষেপ, দাবি নির্দল বিধায়কের

জাতীয়

কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, তার মেয়ে ভীণা টি, জামাই তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পি এ মহম্মদ রিয়াস-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে এফআইআর দায়েরের জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর আবেদনকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আক্রমণ করলেন ইউডিএফ সমর্থিত নির্দল বিধায়ক টিকে গোবিন্দন। তার দাবি, ইন্ডিয়া মঞ্চেরর দুই দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করছে বিজেপি।
তালিপরম্বা কেন্দ্রের বিধায়ক এবং প্রাক্তন সিপিআই(এম) নেতা গোবিন্দন সোমবার এক টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইডির সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা কেন্দ্রীয় সরকারের ‘হাতিয়ার’ হিসেবে কাজ করছে। বিজয়নের বিরুদ্ধে ইডির পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে একই ধরনের তদন্তে অন্য নেতাদের ক্ষেত্রে আপত্তি তোলা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভীণা টি-কে ঘিরে চলা তদন্ত প্রসঙ্গে গোবিন্দন বলেন, ‘‘ভীণা টি যদি ভুল পথে টাকা উপার্জন করে থাকেন, তা হলে তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু তদন্ত করারও একটি পদ্ধতি রয়েছে।’’
তার আরও বক্তব্য, ‘‘বিজয়নকে কোনওভাবে ফাঁসানোর উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চালানো হলে ইডি নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতাই হারাবে।’’
সম্প্রতি কেরালার রাজ্য পুলিশের প্রধান রাভাদা এ চন্দ্রশেখরের কাছে চিঠি পাঠিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়ন, তার মেয়ে ভীণা, পি এ মহম্মদ রিয়াস-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন-এর আওতায় মামলা দায়েরের জন্য আবেদন করেছে ইডি। এই পদক্ষেপকেই ‘কৌশল’ বলে দাবি করেছেন গোবিন্দন।
তার প্রশ্ন, ইডি নিজেই যদি তদন্ত করে থাকে এবং দুর্নীতির প্রমাণ হাতে পাওয়ার দাবি করে, তা হলে নিজেরা মামলা না করে রাজ্য পুলিশের মাধ্যমে এফআইআর দায়ের করতে চাইছে কেন? গোবিন্দনের অভিযোগ, ‘‘এটি ইন্ডিয়া মঞ্চের দুই সদস্যের মধ্যে বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বিজেপির অসৎ উদ্দেশ্যই প্রকাশ পাচ্ছে।’’
ইডি-এর দাবি, সিএমআরএল-এর বিরুদ্ধে চলা মামলার তদন্তে পাওয়া ‘প্রমাণ’ এবং পিএমএলএ-এর আওতায় চালানো তল্লাশিতে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযোগ দায়ের কথা বলা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, সিএমআরএল বেআইনি ভাবে প্রায় ২.৭৮ কোটি টাকা ভীণা টি-র বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া সংস্থাকে দিয়েছে। ওই অর্থ আইটি পরামর্শ দেওয়ার পারিশ্রমিক হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে তা ছিল ভুয়ো লেনদেন। এমনই অভিযোগ ইডির।
গত জুনে ভীণা টি-র সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময় তিনি তিরুবনন্তপুরমে বিজয়নের সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে থাকছিলেন বলে জানা যায়। তল্লাশির পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করেন তদন্তকারীরা।
এই পরিস্থিতিতে ইডির পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে, অন্যদিকে গোবিন্দনের মতো বিরোধী শিবিরের নেতাদের একাংশ ইডির ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন। তার বক্তব্য, তদন্ত নিরপেক্ষ না হলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

Comments :0

Login to leave a comment