দেড় বছরের চরম বিশৃঙ্খলা, সীমাহীন নৈরাজ্য, উন্মত্ত জনতার হামলাবাজি, খুন-ধর্ষণ-অপহরণ-লুঠতরাজ, সাম্প্রদায়িক হিংসা, বিদ্বেষ, সংখ্যালঘুদের উপর যথেচ্ছ অত্যাচার নিপীড়ন ইত্যাদিকে ঘিরে এক দুর্বিষহ যন্ত্রণাকাতর পর্বের পর প্রতিবেশী বাংলাদেশে অবশেষে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। জাতীয় সংসদে দুই তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি এবং তাদের সহযোগীরা। প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন কয়েক মাস আগে প্রয়াত খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক আনোয়ার। দেড় দশকেরও বেশি বিদেশে থাকার পর নির্বাচনের কিছুদিন আগেই তিনি দেশে ফেরেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়ে, ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রীসভা গঠন করে মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকের পর তারেক জাতীর উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণে তার সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও কাজের অগ্রাধিকার দেশ ও দুনিয়ার সামনে স্পষ্ট করে দেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো তথাকথিত ছাত্র আন্দোলনকে সামনে রেখে মৌলবাদী শক্তি যেভাবে বাংলাদেশকে গ্রাস করে ফেলেছিল এবং বাংলাদেশ আর একটি আফগানিস্তান হয়ে উঠছিল সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশকে অন্তত রক্ষা করা গেছে এ যাত্রায়। তাছাড়া তারেক জানিয়েছেন একটি স্বাধীন নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই তার সরকারের লক্ষ্য। তাঁরা এমন এক বাংলাদেশ চান যেখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যে কোনও ধর্মের যে কোনও নাগরিক নিজেদের নিরাপদবোধ করতে পারবেন।
তারেকদের লক্ষ্য কতটা পূরণ হবে সেটা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে জোরের সঙ্গে যে নতুন সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেছে সেটাই অনেক বড় ব্যাপার। আরও একটা দিক লক্ষণীয় মন্ত্রীসভায় তিনজন মহিলা যেমন আছে তেমনি সংখ্যালঘুদের থেকেও মন্ত্রী করা হয়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার নিপীড়ন নিয়ে ভারতে হিন্দুত্ববাদী তুমুল হট্টগোল করলেও এরাই আবার সংখ্যালঘু মুসলিমদের নানাভাবে অত্যাচার, নিপীড়ন, হামলা, হয়রানি এমনকি খুন করতেও পিছ পা হয় না। ভারতে মৌলবাদী ও হিন্দুত্ববাদী শাসকরা সম্প্রতি গণতন্ত্রের কথা বলে বটে অথচ তাদের একজন মুসলিম সাংসদও নেই। মুসলিম মন্ত্রী করার তো প্রশ্নই ওঠে না। শাসক বিজেপি মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানিয়ে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বানাতে চায়। তারেক অন্তত তেমন কিছু বলেনি। সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করার কথাও বলেনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বলার সাহস নেই ভারত সব ধর্মের মানুষের নিজের দেশ। ভারতে সব ধর্মের মানুষেরই সমান অধিকার। সংখ্যাগুরুদের দয়ায় বা করুণায় ভারতে সংখ্যালঘুরা থাকবেন না। তারা সমমর্যাদায়, সমসম্মানে নিরাপদে, শান্তিতে বাস করবেন। যাবতীয় সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করবেন। আইনের শাসন তাদের নিরাপদ জীবন উৎসর্গ করবে। বাংলাদেশের সরকার সংখ্যাগুরু ধর্মীয় মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে যে ঘোষণা করতে পারে ভারতে মোদী সরকার সেই ঘোষণা দৃঢ়ভাবে করতে পারে না।
Editorial
ছন্দে ফিরুক বাংলাদেশ
×
Comments :0