যারা দেশ বাঁচাতে চান, বাংলাকে বাঁচাতে চান, নিজের এলাকাকে বাঁচাতে চান। তাঁদের পাশে লাল ঝাণ্ডা আছে। মেহনতি মানুষের পক্ষের লড়াইয়ে লাল ঝাণ্ডার পাশে আসুন।
রবিবার মালায় দুই জনসভায় এই আহ্বান জানান সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি। তিনি বলেন, হকার থেকে টোটো চালক, সবাই মিলে যান সিপিআই(এম)’র মঞ্চে। মিলে যায় সিপিআই(এম)’র মিছিলে। তাই বিজেপি পুলিশকে দিয়ে সিপিআই(এম)’র সভা মিছিলে বাধা দেয়।
রবিবার মালদায় দুই সভায় এভাষণ দেন সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি। রতুয়া এবং মালদা শহরে হয় এই দুই জনসভা। যোগ দেন হাজার হাজার মানুষ। বিজেপি’র হুমকি, পুলিশের শাসানি কোনোকিছুতেই পিছিয়ে যাননি খেটে খাওয়া মানুষ। ইংরেজবাজার পৌরসভায় ভোট। শহরে খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার রক্ষার পক্ষে আন্দোলনের বার্তা দেন তিনি। বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) মালদা জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্র সহ নেতৃবৃন্দ। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির জেলা কমিটির সদস্য স্বপন কুমার ঘোষ। সভায় বক্তব্য রাখেন রাজ্য কমিটির সদস্য জমিল ফিরদৌস, জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নৈমুদ্দিন শেখ, এরিয়া কমিটির সম্পাদক আসরাউল হক ও ডিওয়াইএফআই নেতা সৈকত মালাকার।
মালদা শহরে মীনাক্ষী বলেন, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষও কর দেন। তাঁরা রোজগারের টাকায় জিনিসপত্র কেনেন। সরকার কর পায়। এই মানুষের জীবিকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এখানে হকারদের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হটানো যাবে না আদালতের নির্দেশে। তারপর কী হবে?
মীনাক্ষী বলেন, সৎ পথে রোজগারের জায়গা বন্ধ করতে চাইছে কেন? সরকারের কোনও দায়বদ্ধতা নেই? প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করতে পারল আর বিধানসভায় ২০৭ জন বিধায়কের কেউ হকারদের কথা বলতে পারল না?
মীনাক্ষী বলেন, যেখানে আইন তৈরি হয় সেখানে যদি মেহনতি মানুষের স্বার্থ দিনের পর দিন কেড়ে নেওয়া হয় তা’হলে রাস্তা খোলা থাকে। সব অংশের মানুষকে একজোটে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়। কমিউনিস্ট পার্টি সেই লড়াই সংগঠিত করছে।
তিনি বলেন, সামনে পুজো। সকলের বাড়িতে আলো ঝলমল করবে। আমারও শপথ নেব যে হকারদের বাড়িতেও আলো জ্বলবে। সেই দায়িত্ব লাল ঝাণ্ডা নেবে।
টোটো চালকদের উদ্দেশ্যে বলেন, পুলিশও জনগণের সেবায় নিযুক্ত। পুলিশকেও আপনাদের জন্য কাজ করতে হবে। নিজেদের রক্ত ঘামের টাকা কোনও পার্টিকে দেবেন না। দেবেন না পুলিশকে। জোর-জুলুম হলে আমরা আছি।
মীনাক্ষী বলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছে। মানুষকে খাবার-বাসস্থান দিতে পারছে না। মানুষ রেগে গেলে ওরা ধর্মের চাদর গায়ে পড়ে। ওরা ভোটার তালিকায় নাম ফিরিয়েদেবে না। নতুন ভোটারদের নাম তোলা আটকাতে ওরা ফর্ম-৬ নিয়ে নতুন নির্দেশিকা চালু করেছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য ১৮ লক্ষ নামের বিরুদ্ধে কিভাবে আবেদন করা হলো? এই ষড়যন্ত্র ভয়ঙ্কর, গোটা ভারতের বিপদ।
মীনাক্ষী বলেন, ওরা জানে পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রী, যুবক-যুবতীরা ওদের কথায় উঠবে বসবে না। তাই তাদের নাম বাদ দিয়েছে। তিনি বলেন, এখন ঠেলায় পড়ে বিএলও-দের বাড়ি বাড়ি পাঠাবে বলেছে। বাদ যাওয়া নাম ভোটার তালিকায় ফেরানো ছাড়া ওদের কাছে আর কোনও গতি নেই। তিনি বলেন, এরা মানুষের বিরুদ্ধে, বাংলার বিরুদ্ধে দেশের বিরুদ্ধে, মালদার বিরুদ্ধে। তাই যারা তৃণমূল বা বিজেপি-কে ভোট দিয়েছেন, যারা চাইছেন মানুষের জন্য লড়াই হোক, তাদের পাশে লাল ঝাণ্ডা আছে।
Comments :0