CJP

২০২৯-এ ক্ষমতাচ্যুত হবে মোদি সরকার, কোচির সভা থেকে হুঁশিয়ারি সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকের

জাতীয়

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। কেন্দ্রের সরকার পরিবর্তনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানালেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার কেরলের কোচিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ সভা থেকে এই মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্য, নির্বাচনের মাধ্যমেই কেন্দ্রের সরকার পরিবর্তন সম্ভব। তবে তার জন্য প্রয়োজন একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা।
সিজেপি-র 'যন্তর মন্তর অ্যাট কোচি' কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভা থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তোলেন অভিজিৎ। তার অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করতে গিয়ে দেশের যুবসমাজের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে কেন্দ্রের এত গুরুত্ব দেওয়ার কারণ কী, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। 
দিল্লির যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তার গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন অভিজিৎ। তার সঙ্গে সিজেপি-র নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানকাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। অভিজিতের কথায়, জাতীয় পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার অপরাধে তাদের জেলে পাঠানো হয়েছে। স্বাধীন ভারতে এমন ঘটনা ব্রিটিশ শাসনের সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, তাকে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরালা কিংবা তামিলনাড়ুতে যে কোনও জায়গা থেকেই গ্রেপ্তার করা হোক না কেন, তিনি আবার ফিরে এসে জাতীয় পতাকা তুলে ধরবেন। তার বক্তব্য, দেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে প্রতিবাদ করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তার দাবি, প্রথমে মানুষের খাদ্যাভ্যাস, তারপর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিয়ের সিদ্ধান্ত এবং এখন কাকে ভোট দেওয়া হবে, সেটাও নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে।
অভিজিতের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ না হলে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে বি আর আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী এবং জওহরলাল নেহরুর আদর্শের কথা উল্লেখ করেন অভিজিৎ। তার বক্তব্য, গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে দেশের মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের মত প্রকাশের সাহস হারিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ আন্দোলন মানুষকে আবার নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সাহস জুগিয়েছে।
বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক স্বার্থে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন অভিজিৎ। তার বক্তব্য, সরকারের সমালোচনা করলেই তরুণ প্রতিবাদীদের নৈরাজ্যবাদী বা অরাজকতাবাদী বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারা অরাজকতাবাদী নন, আম্বেদকরপন্থী এবং গান্ধীবাদী।
তিনি আরও বলেন, কোনও সরকারই সম্পূর্ণ নিখুঁত হতে পারে না। কিন্তু গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের সমালোচনা করার অধিকার মানুষের থাকা উচিত। তার মতে, যে দেশে সরকারকে প্রশ্ন করা যায়, সেই দেশেই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
শনিবার কোচির রাজেন্দ্র ময়দানে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সভায় বিভিন্ন বয়সের বহু মানুষ অংশ নেন। পিটিআই সূত্রে খবর, আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, মিছিলে প্রায় ৫০০ জন অংশগ্রহণ করেছিলেন। বিভিন্ন যুব সংগঠন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
এর আগে কোচির মেরিন ড্রাইভ থেকে রাজেন্দ্র ময়দান পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। মিছিল থেকে এসআইআর প্রত্যাহার এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ওঠে।

Comments :0

Login to leave a comment