ইতিমধ্যে তামাম বিশ্ব জেনে গেছে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি শুধু হারেনি, একেবারে গোহারা হেরেছে। রাষ্ট্রপতি হিসাবে আরও দু’বছর তিনি ক্ষমতায় থাকবেন ঠিকই তবে যথেচ্ছ এবং খামখেয়ালি ক্ষমতা ভোগ করার ক্ষমতা আর তাঁর থাকবে না। পদে পদে তাঁকে আইনসভার উভয় কক্ষেই বাধার সম্মুখীন হতে হবে। এতদিন উচ্চ কক্ষ সেনেট এবং নিম্ন কক্ষ হাউজ অব রির্রজেন্টেটিভস-এ রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় ট্রাম্প যখন যেমন খুশি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবার উভয় কক্ষেই তাঁর দল সংখ্যা লঘু হয়ে গেছে। বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে হাজির হয়েছে ডেমোক্রাটরা। ফলে ট্রাম্পের হাতে পায়ে ক্ষণে ক্ষণে বেড়ি পরিয়ে দেবেন ডেমোক্র্যাটরা। স্বাভাবিকভাবেই বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে জিতে আসার পর গত দু’বছর ট্রাম্প যে পথে যে গতিতে চলেছেন বাকি দু’বছর সে পথে সেই গতিতে চলতে পারবেন না। তাঁকে ডেমোক্রাটদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলতে হবে অথবা সংঘাতের পথে গিয়ে পদে পদে ভেটো দিয়ে প্রশাসনিক অচলাবস্থা বা অরাজকতার দিকে দেশকে ঠেলে দিতে হবে।
ট্রাম্প এবং তাঁর দল যে পরাজয়ের প্রহর গুনছিল তার ইঙ্গিত মিলছিল দ্রুত। শেষে সেটা ৫০ শতাংশেরও নিচে নেমে যায়। বোঝাই যাচ্ছিল ট্রাম্পের নীতি ও পদক্ষেপ মানুষ মেনে নিতে পারছিলেন না। বিশেষ করে তাঁর বাণিজ্যনীতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোরতর বিরোধী হয়ে পড়েন বিরাট অংশের মানুষ। আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার কথা বলে তিনি যে আগ্রাসী শুল্ক নীতি চালু করেন তা আখেরে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধিই অনিবার্য করে তোলে। গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতো ইজরায়েলের চাপে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করে দেন। পশ্চিম এশিয়ার অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার জেরে এবং জ্বালানি সরবরাহ পথ বন্ধ হয়ে যাবার ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম অতি উচ্চ মূল্যে থেকে যায় দীর্ঘদিন ধরে। বিশ্বজুড়ে এর পরিণতি অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয়। আমেরিকার সাধারণ মানুষ পড়েন রুটি রুজির দৈনন্দিন সঙ্কটে। জিনিসপত্রের উচ্চ মূল্য, দৈনন্দিন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ক্ষোভ অসন্তোষ তীব্র আকার নেয়। তারই প্রতিফলন ঘটে নির্বাচনের রায়ে।
আমেরিকার দ্বিদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রিপবলিকানরা দক্ষিণপন্থা ও অতি দক্ষিণপন্থার প্রতিনিধ্ত্ব করে। ডেমোক্রাটরা উদার গণতন্ত্রের কথা বলে। বামপন্থীরা স্বতন্ত্রভাবে বামপন্থার কথা বললেও নির্বাচনে ডেমোক্রাট হিসাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এবারের নির্বাচনে দেখা গেছে ট্রাম্পের অতি দক্ষিণপন্থী নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে মার্কিন নাগরিকরা গণতান্ত্রিক ও বাম মনোভাবকে বেছে নিয়েছেন। আমেরিকায় অতি দক্ষিণ পন্থার পরাজয় স্পষ্ট করে দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অতি দক্ষিণ পন্থী শক্তির উত্থান হলেও এবং কিছু দেশে তারা ক্ষমতা দখল করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী প্রবণতা নয়। অতি দক্ষিণপন্থী রাজনীতি আদতে সাধারণ মানুষের স্বার্থসিদ্ধি করে না। মানুষকে জাত, ধর্ম, সংস্কৃতি ইত্যাদিতে বিভাজিত করে বিত্তবানদের স্বার্থ সুরক্ষিত করে। আয় ও সম্পদ বৈষম্য বাড়ায়। বেকারি ও নিম্ন আয় বাড়ায়। ভারতও এই প্রবণতার বাইরে নয়। ভারতের অতি দক্ষিণপন্থী শাসকের বিদায়ের সময় ঘনিয়ে আসছে।
US ELECTION
নীল সুনামিতে ধস্ত ট্রাম্প
×
Comments :0