Modi in Epstein File

এফস্টিন ফাইলে মোদী!

সম্পাদকীয় বিভাগ

আমেরিকার কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এফস্টিন সংক্রান্ত সুবিশাল নথিপত্রের ভাণ্ডারের একাংশ প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন আইন দপ্তরের অধীনে থাকা এইসব দলিল দস্তাবেজ প্রকাশে ঘোর আপত্তি ছিল রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাশ হওয়া আইন অনুযায়ী শেষপর্যন্ত সেইসব নথিপত্রের একাংশ প্রকাশ্যে আনতে বাধ্য হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নাবালিকাদের যৌনচক্রে ব্যবহার করা, বিশ্বের তাবড় তাবড় ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের যৌনক্রিয়ায় বাধ্য করা ছিল এফস্টিনের অন্যতম কাজ। এমন লোভনীয় যৌন চক্রে নিয়মিত যোগ দিতেন যারা তাদের অন্যতম বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ওবামা এবং জর্জ বুশও। এহেন এফস্টিনের সঙ্গে নানা সূত্রে, নানা স্বার্থে যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা ছিল বিশ্বের বহু বিখ্যাত ব্যক্তিদের। অবিশাস্য হলেও এই কুখ্যাত যৌনচক্রের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদীর যোগাযোগ ছিল বলে গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন আইন দপ্তর যেসব নথিপত্র প্রকাশ্যে এনেছে তাতে একাধিক জায়গায় একাধিক প্রসঙ্গে মোদীর নাম আছে।
এফস্টিন সংক্রান্ত প্রকাশিত কাগজপত্রে দেখা যাচ্ছে ট্রাম্প নাকি ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছেন। একটি নবজাতককে হত্যার ঘটনায় অন্যদের সঙ্গে ট্রাম্পের যুক্ত থাকার অভিযোগ আছে। নথিতে আছে ট্রাম্প সহ কয়েকজনের সঙ্গে যৌন মিলনে ঐ ‍‌শিশুটির জন্ম হয়।
এমন এক জঘন্য চরিত্রের মানুষের সঙ্গে মোদীর যোগাযোগ হলো কীভাবে সেটাই গুরুতর প্রশ্ন। এফস্টিনের দলিল অনুযায়ী মোদী নাকি এফস্টিনের পরামর্শ মোতাবেক ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের সুবিধার্থে। প্রসঙ্গত ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে মোদী ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। ভারত-ইজরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর সেই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফর। এফস্টিন নথি অনুযায়ী ইজরায়েলের গিয়ে মোদী এমন কথাবার্তা ও কাজকর্ম করেছেন যা ট্রাম্পের জন্য সুবিধাজনক। বস্তুত সেই সফরে মোদী ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানেয়াহুর সঙ্গে নাচগানও করছিলেন। এসবই নাকি এফস্টিনের পরামর্শে।
আর এক নথিতে আছে মোদী আমেরিকা গেলে সেখানকার কেউ নাকি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইতেন না। এফস্টিন জানাচ্ছেন তাঁর সঙ্গে মোদীর দারুণ বৈঠক হয়েছে। মোদী যে মার্কিন রাজনৈতিক কুশলী স্টিভ ব্যাননের ভাবনার সমর্থক সেটা ব্যানকে জানিয়েছেন এফস্টিন। প্রত্যুত্তরে ব্যানন বলেছেন মোদী আমেরিকায় গেলে তাঁকে যেন ফোন করে।
এফস্টিন কথিত বিষয়গুলি কতটা সত্য কতটা মিথ্যা সেটা ভবিষ্যৎ বলতে পারবে। তবে এফস্টিন-মোদী যে যোগাযোগ ছিল তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে বন্ধুত্ব বা ঘনিষ্টতা ছিল কিনা সেটা অন্য প্রশ্ন। কিন্তু তার সঙ্গে মোদীর যোগাযোগ হলো কীভাবে? এক ভয়ানক যৌন অপরাধীর সঙ্গে ভারতে প্রধানমন্ত্রীর কোনও অবস্থাতেই যোগাযোগ কাম্য হতে পারে না। গোটা বিষয়টা ভারতবাসীর কাছে পরিষ্কার হওয়া উচিত।

Comments :0

Login to leave a comment