PROBANDHYA | ANJU BANU | AMAR VASA | MUKTADHARA | 26 FEBRUARY 2026 | 3rd YEAR

প্রবন্ধ | আনজু বানু | এক পৃথিবী আমার ভাষা | মুক্তধারা | ২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ | বর্ষ ৩

নতুনপাতা/মুক্তধারা

PROBANDHYA  ANJU BANU  AMAR VASA  MUKTADHARA  26 FEBRUARY 2026  3rd YEAR

প্রবন্ধ 

মুক্তধারা 

এক পৃথিবী আমার ভাষা

আনজু বানু 

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ | বর্ষ ৩

           
অবিভক্ত পাকিস্তানের রাজাকারেরা ১৯৪৭সালের পর থেকেই বাঙালিদের উপর জোর করে উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
বাঙালিরা তা মেনে নিতে পারেন না। আন্দোলন শুরু করেন।
বাংলা ভাষায় কথা বলা,লেখাপড়া করা এবং সরকারি কাজের দাবিতে ১৯৪৮সালে সে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ রক্তাক্ত আন্দোলনের পর
১৯৫২সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আইন অমান্য আন্দোলনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মিছিলের উপর পাকিস্তানী খান সেনারা গুলি চালায়।গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে চারজন বাঙালি ছাত্র রফিক,সালাম,জব্বার,বরকতসহ আরও অনেকে রক্তাক্ত হয়ে পথের ধূলায় লুটিয়ে পড়ে শহীদ হন।
ভাষা আন্দোলনের ফল স্বরূপ ১৯৭১সালে পাকিস্তান ভেঙে করাচি বাংলাদেশের সৃষ্টি।

ভাষার জন্য প্রাণ বলিদান
এমন নজির আছে কোথায় 
বাংলা ভাষা পৌঁছে গেছে
বিশ্ব ভাষার মর্যাদায়। 
ভাষার জন্য লড়াই করে 
প্রাণ দিয়েছেন কত লোক

তাই তো

তাই তো ইউনেস্কো বার্তা দিল
ওইদিন ভাষা দিবস হোক।
আমরা আছি বাঙালি তাই
বাংলা ভাষা আবশ্যক।


১৯৫০সালে ভারতের 
আসাম রাজ্যের শিলচরের কাছাড় ও 
বরাক উপত্যকার বাঙালিরা
নিজের ভাষায় লেখাপড়া শেখা ও সরকারী কাজের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।তখনকার অসম সরকার 
তাঁদের সে দাবী উপেক্ষা করেন।

এক পৃথিবী আমার ভাষা
মায়ের মুখে শুনেছি 
জলের উপর ভেসে থাকা
দিন যাপনের জীবন গাথা
আস্তে চলা ধীরে বলা
নিজের ভাষায় শিখেছি।

কিন্তু

কিন্তু তোমরা বল যদি
বাংলা ভাষা ছেড়ে দাও 
আমরা সবাই কথা বলি
তোমরা যেমন ভাষা চাও
জেনো আবার ঝরবে রক্ত
এই কথাটা ভুলো না
বাংলা আমার বিশ্বভাষা
বাংলার নেই তুলনা

প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ মাতৃভাষা 
জন্ম থেকে শুনে শুনে শেখা।
মায়ের ভাষায় ছড়া নামতা কবিতা  প্রতিটি মানুষের কাছে অমৃত সমান।

মাকড়সার জালের মত
কত ভাষা জগতে
তোমার মনে হতে পারে
ফালতু সে সব আদতে

কিন্তু

কিন্তু জেনো যে যার ভাষা
নিজ নিজ মায়ের কোল
তোমার কাছে বেকার সবই
লাগতে পারে হট্টগোল।

আসামের বাঙালিদের বাংলা ভাষায় সরকারি কাজের দাবিকে
অমান্য করে ১৯৬০ সালে তখনকার অসম সরকার অসমিয়া ভাষাকেই স্বীকৃতি দিয়ে বিল পাশ করান।
ফলে শুরু হয় ঘোরতর আন্দোলন ।১৯৬১সালের ১৯শে মে অসম সরকারের রেজিমেন্টের রাইফেলের গুলিতে এগারো জন আন্দোলনকারী শহীদ হন।

তোমরা যারা খাটাতে চাও
ইচ্ছে মত ভাষার জোর
ভাষার জন্য জীবন পণ
কাটিয়ে দেখ ঘুমের ঘোর
অন্ন বস্ত্র খাদ্য চেয়ে
প্রাণ দিয়েছেন কত লোক

কিন্তু

কিন্তু এমন ইতিহাস কোথায়
ভাষার জন্য মৃত্যু শোক?
আমার ভাষার জন্য যাঁরা 
প্রাণ করেছেন বলিদান
তাঁদের চরণতলে রাখি
আমার শত শত প্রণাম।

   

Comments :0

Login to leave a comment