কলেজজীবনে এসএফআইয়ের কলেজ ইউনিট সভাপতি ছিলেন ২০১৭-১৯ সালে। স্রেফ সেই অপরাধে অর্থনীতির অধ্যাপক প্রকাশ্য দিবালোকে আক্রান্ত হলেন যে কলেজে পড়তেন সেই কলেজের গেটে! দিনহাটা কলেজের গেটে কলেজেরই প্রাক্তন ছাত্র ও অধ্যাপকের ওপর হামলার অভিযোগ, গলা টিপে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা হল বৃহস্পতিবার! শিক্ষা সংক্রান্ত কাজে দিনহাটা কলেজে এসে হামলার শিকার হওয়া কলেজের প্রাক্তন ছাত্র তথা বর্তমানে হাওড়া বিজয় কৃষ্ণ গার্লস কলেজের অধ্যাপক ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সঞ্জীব কর্মকারের মন্তব্য, ‘‘এরকম ঘটনা আমার সাথে প্রকাশ্য দিবালোকে হবে সেটা কল্পনাও করতে পারি নি।’’ তিনি বলেন, ছাত্র অবস্থায় এই দিনহাটা কলেজে এসএফআই’য়ের রাজনীতি দিয়ে আমার বামপন্থার সঙ্গে সম্পর্কের শুরু। সেই অপরাধে এরকম হামলা হতে পারে ভাবি নি। অভিযোগ বৃহস্পতিবার কলেজের কাজ সেরে বেরিয়ে আসার সময় একদল যুবক তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় তাঁর গলা টিপে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা।
সঞ্জীব কর্মকার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, এদিন তিনি তাঁর সার্টিফিকেট সংগ্রহ এবং গবেষণার কাজে কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করতে দিনহাটা কলেজে গিয়েছিলেন। কাজ শেষ করে কলেজ থেকে বেরিয়ে আসার সময় কলেজের গেটের কাছে কয়েকজন যুবক তাঁর কাছে এসে মোবাইল ফোন দাবি করে। প্রথমে তিনি তাঁদের পুরনো পরিচিত বলে মনে করেছিলেন। তাঁদের নাম ও পরিচয় জানতে চাইলে আচমকা তাঁরা তাঁর ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, কয়েকজন যুবক তাঁকে এলোপাথাড়ি মারধর করতে করতে কলেজের বাইরে নিয়ে যায়। হামলার সময় তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি মাথা, ঘাড়, চোখ ও বুকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। হামলার সময় তাঁর গলায় থাকা সোনার চেইন এবং নগদ প্রায় ৫,০০০ টাকাও খোয়া যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কলেজের এক নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। এরপর কোনওরকমে হামলাকারীদের হাত থেকে ছুটে বেরিয়ে তিনি কলেজের অধ্যক্ষের ঘরে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে দিনহাটা থানার পুলিশ কলেজে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া ছবি দেখে হামলাকারীদের মধ্যে দু’জনকে শনাক্ত করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন সঞ্জীব কর্মকার। ঘটনার তদন্তে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ছবি ও তথ্য দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ছাত্রজীবনে সঞ্জীব কর্মকার এসএফআই’য়ের দিনহাটা কলেজ ইউনিটের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এই ঘটনার পর কলেজ চত্বরে নিরাপত্তা এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার তীব্র ধিক্কার ও নিন্দা জানিয়েছেন দিনহাটা কলেজ ছাত্রছাত্রী সংসদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শুভ্রালোক দাস। তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষাগত কাজে দিনহাটা কলেজে এসে একজন প্রাক্তন ছাত্র তথা অধ্যাপককে কলেজের গেটের সামনে আক্রান্ত হতে হবে—এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার উপর গলা টিপে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা এবং সোনার চেইন ও নগদ টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ আরও গুরুতর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতরে এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’’ কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের অভিযোগ, এর আগেও দিনহাটা কলেজের ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ-প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর পরেও যদি একই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটে, তাহলে কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এদিকে, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলে হামলার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সোনার চেইন ও নগদ অর্থ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা তদন্তে উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখুক এটাই দাবি করছেন আক্রান্ত অধ্যাপক।
Dinhata College
দিনহাটা কলেজে অধ্যাপকের ওপর হামলা, প্রাণে মারার চেষ্টার অভিযোগ
×
Comments :0