রাশিয়ার থেকে তেল কিনলে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর বিল পাশ হয়েছে আমেরিকার হাউস অব রিপ্রেজেন্টিভস-এ। রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বিলে সই করবেন এবার।
বৃহস্পতিবারই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক তেল আমদানি প্রসঙ্গে বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি সুরক্ষার প্রশ্নে ভারত দায়বদ্ধ।’’ আমেরিকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় উঁচু স্তরে মধ্যস্থতাকারীদের একই অবস্থান জানিয়েছে ভারত। স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে নিজস্ব বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’’
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপায় আমেরিকা এবং পশ্চিম ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশগুলি। সে সময় থেকে কম দামে রাশিয়া থেকে তেল কিনছে ভারত। গত বছরও রাশিয়ার থেকে তেল কেনার বিষয়ে ভারত ও চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল আমেরিকা। আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়া হয়। চীন পালটা পদক্ষেপ নিয়ে আমেরিকার আমদানিতেও পালটা শুল্ক বসায়। বিপদে পড়েন আমেরিকার কৃষি ব্যবসায়ীরাই। কিন্তু ভারত পালটা পদক্ষেপের বদলে তোষামোদকেই গুরুত্ব দিয়েছিল। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে টরাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনাতেও বসেছে। কিন্তু তাতে ভারতের লাভ হয়নি।
এদিন বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে দেশের বাণিজ্য ও শিল্প মহলের সঙ্গে আমেরিকার আইনের প্রভাব নিয়ে আলোচনায় বসা হবে।
আমেরিকার বিলে ভারত, চীনের মতো পাঁচটি দেশের ওপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার থেকে তেল কিনলেই নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।
ভারত আমেরিকার হুমকিতে গত বছরের মাঝামাঝি থেকে রাশিয়ার তেল আমদানি কমিয়ে দেয়। কিন্তু ইরানে আমেরিকা যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ায় সঙ্কট তীব্র হতে থাকে। ফলে রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি ফের বাড়ে।
এদিন বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে সরাসরি রাশিয়ার থেকে তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করা হয়নি। তার বদলে বলা হয়েছে যে জ্বালানি সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকেই আমদানির রাস্তা খোলা রাখা হবে। এই নীতি নিয়েই চলছে ভারত। আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা অনুযায়ী সুবিধাজনক বিকল্প বেছে নেওয়া হবে।
রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি কমিয়ে বেশি দামে আমেরিকা এবং তাদেরই দখলে থাকা ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি বাড়িয়েছে ভারত। এটিকেই ‘আমদানি উৎসের বৈচিত্র’ নাম দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
গত ৭ আগস্ট আমেরিকার সেনেটে নিষেধাজ্ঞা বিল পাশ হয়। এবার পাশ হয়েছে অপর কক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভস-এ। জনপ্রতিনিধি সভা কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে বিল পৌঁছেছে রাষ্ট্রপতির দরকারে। ট্রাম্প সই করলে বিল আইনে পরিণত হবে।
গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের অজয় শ্রীবাস্তব বলেছেন, ‘‘আমেরিকা ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্কের হুঁশিয়ারি দিয়ে ভারতকে অসম বাণিজ্য সমঝোতায় বাধ্য করতে চাইছে।’’
চলতি বছরের জুলাইয়ে রাশিয়ার থেকে ব্যবহারের ৫১.১ শতাংশ তেল আমদানি করেছে ভারত। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, ভেনেজুয়েলা, ওমান এবং আমেরিকার থেকে আমদানির মিলিত পরিমাণের চেয়ে বেশি।
100% Tariff Bill and MEA Statement
ভারতের ওপর ১০০% শুল্কের বিল পাশ আমেরিকায়, বিবৃতি বিদেশ মন্ত্রকের
কাজে আসছে না ‘বন্ধুত্ব’। নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প।
×
Comments :0