প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে রাজ্য জুড়ে পালিত হচ্ছে অন্নপূর্ণা দিবস। আর সেই অন্নপূর্ণা দিবস উপলক্ষে রাজ্যের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, দৈনন্দিন বা জরুরি সাংসারিক খরচ নিয়ে মাথায় চিন্তার বোঝা না থাকলে মানুষের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়। রাজ্য সরকারের চালু করা অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্প আজ বাংলার মা-বোনেদের সেই আত্মবিশ্বাস ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা জোগাচ্ছে।’
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিটা মহিলাকে মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর দেখা যাচ্ছে অন্য ছবি। সবাই অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাচ্ছেন না। বহু মহিলার নাম বাদ গিয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মাপকাঠি ঠিক করে দেওয়াও হয়েছে, যে কারা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন। যার জেরে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। দিকে দিকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মহিলারা।
অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। উল্লেখ্য তৃণমূল সরকারের আমলে এই প্রকল্পের নাম ছিল লক্ষ্মীর ভান্ডার। তার জন্য তারা বরাদ্দ করেছিল ২৬ হাজার কোটি টাকা। প্রাপকরা মাসে পেতেন ১৫০০ টাকা। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বদলেছে প্রকল্পের নাম, হয়েছে অন্নপূর্ণা ভান্ডার। বেড়েছে টাকার অঙ্ক। দেড় হাজারের বদলে তিন হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে। তাহলে হিসাব মতো বরাদ্দ হওয়ার কথা ছিল ৫২ হাজার কোটি টাকা। সেখানে কেন ৩৬ হাজার কোটি? তাহলে কি প্রাপকের সংখ্যা কমছে? অন্তত বরাদ্দ তাই বলছে।
বাজেটের পর মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন সরকারি প্রকল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে ঝাড়াই বাছাই করা হবে। অর্থাৎ নাম বাদ যাবে অনেকের। ইতিমধ্যে অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে ফর্ম জমা দিতে গিয়ে নিজের এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের একাধিক নথি এমনকি বাড়ির দলিলের কপি পর্যন্ত জমা দিতে হয়েছে। যা নিয়ে হয়েছে বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন রাজ্যে এক কোটির বেশি মহিলা এই প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।
এছাড়া কলেজের ছাত্রীদের ড্রপ আউট আটকাতে এককালিন যেই ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা অবিবাহীত ছাত্রীদের দেওয়ার কথা বাজেটে বলা হয়েছে তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে এক হাজার কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী মাতৃবন্দনা যোজনার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা।
তিনি বলেন, ‘বাংলার মানুষ এক নতুন পথ বেছে নিয়েছেন, আর এই পরিবর্তনে সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা ছিল মা-বোনেদের। তাই আমাদের সরকারের প্রথম শপথই হল - কথা কম, কাজ বেশি। সরকার গঠনের কয়েক দিনের মধ্যেই এই অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করা হয়েছে এবং আজ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছচ্ছে। মাঝখানে কোনও দালালি নেই, কোনও কাটমানি নেই। এখন আর বাংলায় কাটমানি চলে না।’
মোদী অভিযোগ করেন, বিগত ১২ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির রূপায়ণ হয়নি। তিনি জানান, নতুন সরকার আসার পর থমকে থাকা কাজগুলি গতি এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে নতুন বাংলা গড়ব! বিকশিত বাংলার সামর্থ্য দিয়েই বাস্তবায়িত হবে বিকশিত ভারতের সংকল্প।’
Modi Annapurna Dibash
রাজ্যের মহিলারা পাচ্ছেন না মহিলারা, তাও অন্নপূর্ণা দিবসের শুভেচ্ছা মোদীর
×
Comments :0