Re-NEET kota

পুনর্বার নিট পরীক্ষার সূচি ঘোষণা হলেও, অনিশ্চয়তার অন্ধকার কোটায়

জাতীয়

১৯ বছর বয়সী উৎকর্ষ উত্তর প্রদেশের কানপুরে নিজের শহর ছেড়ে মায়ের সঙ্গে কোটায় অর্থাৎ ভারতের ‘কোচিং রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই শহরে প্রতি বছর স্নাতকস্তরে ডাক্তারি পড়ার জন্য একটি আসনের আশায় আসা হাজার হাজার ডাক্তারি প্রবেশিকা অর্থাৎ নিট পরীক্ষার্থীর দলে শামিল হয়।
গত ৩ মে ২২ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ‘নিট’ পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরপরের দিনগুলোতে কোটায় আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল প্রশ্নপত্রটি, যা অনেক পরীক্ষার্থীর মতেই ছিল স্বাভাবিকের তুলনামূলক সহজ। ফলত, ‘কাট-অফ’ বা ডাক্তারি পড়ার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় নম্বর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা।
দ্বিতীয়বারের জন্য পরীক্ষায় বসা উৎকর্ষের কাছে সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন পাওয়ার পথটি আগেই বেশ কঠিন মনে হয়েছিলো। কিন্তু সে তখনও সে জানত না যে শীঘ্রই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠবে, যা বর্তমানে বহুলচর্চিত অন্যতম বড় বিতর্কের জন্ম দেবে এবং কিছু পরীক্ষার্থী অন্যায্য সুবিধা পেয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
বিতর্ক যখন জোরদার হয়ে উঠল, তখন উৎকর্ষের মনে পড়ল পরীক্ষার দিন সে ইনস্টাগ্রামে একটি রিল দেখেছিল, যাতে এমন একটি প্রশ্ন ছিল যা পরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে আসা একটি প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। ভিডিওটিতে দেখানো সমাধান পদ্ধতিটি ভিন্ন হলেও, তার মূল বিষয়টি একই ছিল। তাঁর মতে, পরীক্ষা শুরুর চার দিন আগেই ওই রিলটি আপলোড করা হয়েছিল। 
উৎকর্ষ বলে, "পরীক্ষাটা ভালো হয়নি। আমি প্রায় ৫৫০ নম্বরের আশা করছিলাম, কিন্তু প্রশ্নপত্র দেখার পর মনে হলো ‘কাট-অফ’ বা ন্যূনতম যোগ্যতার নম্বর অনেক বেশি হবে। কোটার অনেক শিক্ষার্থীই বলছিল যে ৩০০-রও বেশি পরীক্ষার্থী হয়তো পূর্ণমান ৭২০-ই পেয়ে যাবে। যদি তাই হয়, তবে আমাদের মতো অন্যদের জন্য আসন পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তবে, আমার সোশ্যাল মিডিয়া ফিডে হুবহু সেই একই প্রশ্ন দেখে আমি তো হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। বুঝতে পারছিলাম না কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব বা কাকে এ কথা বলব।"
কথা বলার সময় তাঁর মধ্যে স্পষ্ট হতাশা ফুটে উঠছিল। অনেক পরীক্ষার্থীর মতোই উৎকর্ষ এমন একটি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মাসের পর মাস সময় দিয়েছিলেন, যেখানে কেবল যোগ্যতার ভিত্তিতেই ফলাফল নির্ধারিত হওয়ার কথা ছিল। প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা এবং কিছু পরীক্ষার্থীর অন্যায্য সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনার বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের মনের অনিশ্চয়তাকে আরও বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে। 
একটি জাতীয়স্তরের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কোটায় থাকা নিট পরীক্ষার্থী এমনই অভিজ্ঞতার  কথা উঠে এসেছে। 
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির তরফে ২১ জুন পুনর্বার নিট পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করলেও বহু পরীক্ষার্থীর মনেই রয়ে গিয়েছে অনিশ্চয়তা। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির অব্যবস্থার কারণেই ৩ মে নেওয়া নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। প্রশ্নপত্র ফাঁস-র ঘটনায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যাপক ক্ষোভের মুখেও পরে এনটিএ। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের ব্যাপক ভৎসনার মুখেও পরে এনটিএ। তারপরে দেখা যায়,  প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সিইউইটি পরীক্ষা দেরিতে শুরু হয়। সেই পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বেও ছিল এই ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। কিছু দিন আগেই এই  প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের গ্রেপ্তারের দাবিতে দিল্লির যন্তর- মন্তরে বিক্ষোভ দেখায় কক্রোচ জনতা পার্টি। দিল্লির পর পুনে সহ একের পর এক শহরে তারা বিক্ষোভ সংগঠিত করছে। দিল্লির যন্তর- মন্তরের বিক্ষোভস্থলে সিজেপির পাশাপাশি উপস্থিত ছিল বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই-ও। 
তবে ২১ জুনের পরীক্ষার ক্ষেত্রে পূর্বের ভুল থেকে আদতেও এনটিএ যথার্থ শিক্ষা গ্রহণ করেছে কিনা, সেটাই এখন দেখার। 
 

Comments :0

Login to leave a comment