সরকারে আসীন রাজনৈতিক শক্তিকে পরাজিত করা যে কোনও বিরোধী শক্তির লক্ষ্য। একেই ‘জমানা বদল’ বলা হয়। ভোট চুরির জমানাকে বদলাতে চাওয়া কোনও অন্যায় নয়, গণতন্ত্রের অংশ।
কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্যকে পালটা আক্রমণ করে একথা বললেন কংগ্রেস নেতা এবং অন্যতম মুখপাত্র পবন খেরা।
গতকাল, ১৫ অক্টোবর, দিল্লি প্রেস ক্লাবে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন যে অগণতান্ত্রিক এবং ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জমানা বদলানোর লক্ষ্য কোনও অপরাধ নয়।
বিজেপি’র বিভিন্ন স্তর থেকে সেই মন্তব্যকে ব্যবহার করে বিরোধীদের আক্রমণ করা হতে থাকে। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনথা সিং বলেন, কংগ্রেস সহ বিরোধীরা যুবদের সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের বিরোধিতার নামে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। বাংলাদেশের মতো জমানা বদল করতে চাইছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে যে আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়তে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক তার বিরোধিতা করেনি। বরং সেই আন্দোলনের স্লোগান ধার করে এদেশে বিজেপি নেতাদের ‘দফা এক দাবি এক...’ স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছিল।
এদিন খেরা বলেন, রাজনাথ সিং আবার গোয়েন্দাগিরি করতে নামলেন। এর মধ্যে কোনও গোপন উদ্দেশ্য নেই। নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বারবার দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। বিরোধীরা সে লক্ষ্য জানালে গণতন্ত্রের ক্ষতি হয় না। বরং গণতন্ত্রকে সহ্য করতে পারে না বলে বিজেপি’র সমস্যা হচ্ছে।
আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রসঙ্গে খেরা বলেন, ২০১৩-তে একই কথা বলেছিলেন তিনি। তখন সরকারে আসীন ছিল কংগ্রেস, তাই বিজেপি’র সমস্যা হয়নি। তা’হলে আজকে সমস্যা কেন? খেরা বলেন, ভোট চোর সরকারকে বদলানোর লক্ষ্য গণতন্ত্রের স্বার্থেই।
খেরা বলেন, বিরোধিতা হলেই ‘দিমাগী নকশাল’ বা ‘দেশদ্রোহী’ বলে দেওয়া বিজেপি’র অভ্যাস। এখন সারা দেশ ভোটচুরির বিরুদ্ধে সরব। মোদী সরকার বুঝেছে যে পরিস্থিতি হাতের বাইরে। তাদের আসল চেহারা বেরিয়ে পড়েছে।
কংগ্রেস জানিয়েছে যে রাহুল গান্ধী দীর্ঘদিন দাবি তুলছিলেন কম্পিটারে পরীক্ষা করা যায় এমন ভোটার তালিকা বিরোধী দলগুলির হাতে দিতে হবে কমিশনকে। না হলে তালিকায় কারচুপি বুঝতে সমস্যা হয়। এখন সেই দাবি মেনে কমিশন কম্পিউটারে পরীক্ষা করা যায় এমন তালিকা দিতে রাজি হয়েছে।
Congress on Regime Change
ভোটের মাধ্যমে জমানা বদল গণতন্ত্রের অংশ, রাজনাথকে জবাব খেরার
সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা।
×
Comments :0