Trump Modi

‘স্যর প্লিজ’! আপত্তি জানিয়েও ট্রাম্পের নিন্দায় বিমুখ বিদেশ মন্ত্রক

জাতীয়

আমেরিকার বাণিজ্য সচিবের মন্তব্যকে ‘পুরোপুরি সঠিক নয়' বলল ভারত। সেই সঙ্গে ‘স্যর প্লিজ’ প্রচারকে অস্বীকার করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। দেরি করে জবাব দিতে নেমে চরম অবমাননাকর মন্তব্যে এমনই নরম আপত্তি জানালো নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিদেশ মন্ত্রক। 
ভারত সম্পর্কে টানা অবমাননাকর মন্তব্য করে চলেছেন ট্রাম্প। পিছিয়ে নেই তাঁর সচিবরাও। দু’দিন আগে ট্রাম্প তাঁর রিপাবলিকান পার্টির জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকেই এমন মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন যে আমেরিকার অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের সরবরাহে দেরির বিষয়টি নিয়ে দেখার জন্য মোদী তাঁর কাছে কাতর অনুরোধ করেছিলেন। মোদী নাকি বলেছিলেন যে ‘স্যর প্লিজ’, বিষয়টি যদি দেখেন!
তার পরিপ্রেক্ষিতে জয়সোয়াল সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী তাঁরা একে অপরকে সম্বোধন করেন।’’ 
উল্লেখ্য, ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ভারত কয়েক বছর আগে ৬৮ অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের বরাত দিয়েছিল। তখন তিনি রাষ্ট্রপতি পদে আসীন ছিলেন না। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জনাচ্ছে যে ২৮টি অ্যাপাচে গার্ডিয়ান হেলিকপ্টারের বরাত দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫’র ডিসেম্বরের মধ্যেই সেগুলি এসেছে। তা ছাড়া, ভারত বোয়িংয়ের থেকে ১৫টি চিনুক হেলিকপ্টার কিনেছিল। সেই হেলিকপ্টারও ২০১৯-২০’র মধ্যে চলে এসেছে। সব মিলিয়ে ৪৩টি হেলিকপ্টারের বরাত দেওয়া হয়েছিল। সংখ্যা (ট্রাম্পের বলা) ৬৮ নয়। 
কিন্তু এত কিছুর পরও ট্রাম্পকে অসত্য বলা জন্য সমালোচনা করতে পারল না মোদীর বিদেশ মন্ত্রক। এর আগে ট্রাম্প বার পঞ্চাশেক দাবি করেছেন যে তাঁর নির্দেশে পহেলগাম পরবর্তী সংঘাত থামানোর চুক্তি করেছিল ভারত এবং পাকিস্তান। মোদী সরকার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সে দাবি অস্বীকার করলেও সরাসরি ট্রাম্পকে মিথ্যাবাদী বলা সাহস দেখায়নি।  
এদিকে আমেরিকার বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক দাবি করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা না বলার জন্যই ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত রয়েছে। 
জয়সোয়াল এই প্রসঙ্গে বলেন, আমরা মন্তব্যগুলি দেখেছি। গত বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই ভারত এবং আমেরিকা উভয়েই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। এই চুক্তির ভিত্তিতে দু’টি দেশই যাতে উপকৃত হয় এবং পারস্পরিক সম্পর্কে ভারসাম্যও বজায় থাকে তার জন্য দুই তরফেই একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। বেশ কয়েকবার আমরা চুক্তির কাছাকাছিও পৌঁছে যাই। সুতরাং যে মন্তব্য করা হয়েছে তা সম্পূর্ণভাবে সঠিক নয়। 
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনার ভারত সবসময়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতেও আগ্রহী। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ড্রোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ফোনেও আলোচনায় করেছেন।
উল্লেখ্য, বাণিজ্য সমঝোতা প্রক্রিয়ার মাঝেই দফায় দফায় ভারতের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। ভারত কার্যত তা মেনে নিয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment