Venezuela TU Rally

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের মিছিল কলকাতায়

রাজ্য কলকাতা

বৃহস্পতিবার ধর্মতলায় কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও কর্মী ফেডারেশনের মিছিল।

কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন সমূহ ও শিল্প ভিত্তিক ফেডারেশন এবং ‘১২ ই জুলাই কমিটি‘-র ডাকে বৃহস্পতিবার ধর্মতলার কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের কেন্দ্রীয় দপ্তরের সামনে থেকে মার্কিন প্রচার দপ্তর পর্যন্ত মিছিল ও বিক্ষোভসভা সংগঠিত করা হয়। শনিবার ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

পৃথিবীর যেখানেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যখনই আগ্রাসনের চেষ্টা করবে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে দুনিয়ার মেহনতি জনগণ। ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে। খোদ নিউইয়র্ক সিটিতেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছে আমেরিকার মানুষ। কলকাতাতেও বিক্ষোভ হয়েছে একাধিকবার। বৃহস্পতিবার শ্রমিক কর্মচারীর বিক্ষোভে নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিকামী মানুষের উপর যেখানেই আক্রমণ সংঘটিত হয়েছে মেহনতি মানুষ প্রতিবাদে এবং লড়াইয়ের সংহতিতে রাস্তায় নেমেছে। কলকাতা কর্পোরেশনের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে মার্কিন প্রচার দপ্তরের সামনে দিকে যেতে গিয়ে পার্ক স্ট্রিটের  আগেই মিছিল-আটকায় পুলিশ। সেখানেই বিক্ষোভ সভা সংগঠিত করেন তাঁরা। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিআইটিইউ’র রাজ্য নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জি বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বারবার ভেনেজুয়েলার মতোই বিভিন্ন রাষ্ট্রে তাদের আধিপত্য কায়েম করার চেষ্টা করেছে। প্রতিবাদ বিক্ষোভ সংগঠিত হয়েছে সর্বত্রই। আসলে এই আধিপত্যের রাজনীতির প্রধান কারণ মুনাফা। ভেনেজুয়েলা যে বিপুল তেলের সম্পত্তি রয়েছে তা দখল করতে চাইছে আমেরিকা। শুধু লাতিন আমেরিকার দেশগুলোই নয়, আমরা দেখতে পাচ্ছি এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও তাদের আধিপত্য কায়েম করছে আমেরিকা। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর শুল্ক চাপানো হয়েছে। যদি তেল কেনা বন্ধ না হয় তাহলে শুল্কের পরিমাণ বাড়বে। কিন্তু মোদী সরকার তার বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদই জানাতে পারল না। এ আমাদের কাছে খুব লজ্জার ব্যাপার।

শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, "সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বরাবর বরাবর সোচ্চার থেকে চেয়ে কলকাতা ওই বাংলার মাটি। এই কলকাতার রাস্তা থেকেই স্লোগান উঠেছিল তোমার নাম আমার নাম ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শোষণের দগদগে ঘা এখনো রয়েছে ভারতের মানুষের মনে। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আমরা কলকাতা থেকে দাবি জানাচ্ছি অবিলম্বে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এইভাবে আগ্রাসন চালানো যাবে না। অবিলম্বে ভেনেজুয়েলা সহ ক্যারিবিয়ান এবং আটল্যান্টিক অঞ্চলে যুদ্ধ ও  আর্থিক অবরোধ বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও ভারত সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বন্ধে, সার্বভৌমত্বের নীতি রক্ষার্থে, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং আন্তর্জাতিক স্তরে জোট নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণে অবিলম্বে উদ্যোগী হতে।

Comments :0

Login to leave a comment