রামশঙ্কর চক্রবর্ত্তী: নন্দীগ্রাম
নন্দীগ্রামে বিরোধী শূন্য ভোট করিয়েই কি লক্ষাধিক ভোটে জেতার ফর্মুলা বিজেপির? রাজ্যের শাসকদলের গত কয়েকদিনের কার্যকলাপে এটা স্পষ্ট যে গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোট হোক সেটা এরা চায়না। কারণ যেভাবে অতি দ্রুত বিজেপির তৃণমূলীকরন হয়েছে সেটা নন্দীগ্রামের বাসিন্দাদের কাছেও স্পষ্ট হচ্ছে। তৃণমূলের কায়দায় রাতের অন্ধকারে হামলা চালিয়ে সিপিআই(এম) কর্মীদের বাড়িতে। আবার পুলিশ হামলাকারীদের না ধরে গ্রেপ্তার করেছে আক্রান্তদের।
বুধবার বামফ্রন্টের প্রার্থী শান্তি গোপাল গিরির সমর্থনে আমদাবাদ টাকাপুরা বাজারে প্রচার মিছিল ও সভা ছিল। প্রচার কর্মসূচিতে সুজন চক্রবর্তী, নিরঞ্জন সিহি সহ বামফ্রন্টের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নিয়ে প্রচার ছিল। বাজারে সভা করার অনুমতি নেওয়া ছিল বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। সেই মতোই মাইক লাগানো চলে। কিন্তু বিজেপির লোকজন এসে বাধা দিয়ে বলে এখানে কোনরকম প্রচার করা চলবে না। ওখানে থাকা সিপিআই(এম) কর্মীদের সাথে বিজেপির লোকেদের বচসা হয়। জোর করে মাইক খুলে দেয় বিজেপির লোকজন। পরে অন্য জায়গা থেকে মাইকে নিয়ে এসে কোনরকমে সেখানে সভা হয়। সুজন চক্রবর্তী সহ নেতারা টাকাপুরার পাশেই একটি এলাকায় জনসংযোগ করেন। ওদিন রাত্রি বারোটা নাগাদ আমদাবাদ ১৫৭ নম্বর বুথে বহিরাগত কিছু লোকজন অতর্কিত হামলা করে সিপিআই(এম) নেতা জন্মেঞ্জয় ভূঁইয়া সহ কয়েকজনের বাড়িতে। একটি পাড়ার মধ্যে এমন অতর্কিত হামলায় স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়। সুমন জানা, রনজিৎ সেনাপতি, নিখিলেশ জানা, মদন জানা, গুরুপদ ঘোড়ই সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে সনাক্ত করে স্থানীয়রা। এই বিজেপি কর্মীরা সিপিআই(এম) কর্মীদের হুমকি দিতে থাকে কোনরকম পোলিং এজেন্ট বসা যাবে না কোন ভোট প্রচার করা যাবে না। এমন ঘটনা যখন ঘটছে সেই সময়ই ওই বহিরাগত বাহিনীর কয়েকজন ইট পাথর দিয়ে আক্রমণ করে সিপিআই(এম) কর্মীদের। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে হাতাহাতি শুরু হয়। হঠাৎই স্থানীয় বিজেপি নেতা দিলীপ পালের নেতৃত্বে আরও কিছু বিজেপি কর্মী জড়ো হয়। কিছু পরেই পুলিশ উপস্থিত হয়। পুলিশ কোন কিছু না বুঝেই যারা আক্রান্ত হল তাদের পাঁচজনকে আটক করে নিয়ে যায়। যার মধ্যে একজন ছাত্রও ছিল। পরে কলেজ পড়ুয়াকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এমন ঘটনায় আমদাবাদ সহ নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের এই ভূমিকা নিয়ে সড়ক হয়েছে স্থানীয় মান মানুষজন। একটা উপনির্বাচনের প্রচার করতে গিয়ে একাধিক জায়গায় আক্রমণ করা হচ্ছে বামফ্রন্টের কর্মীদের। নন্দীগ্রামে বিজেপির লক্ষ্য কি ভোট লুঠ করা? সুজন চক্রবর্তী বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন ‘‘শুভেন্দু অধিকারী ভয় পেয়েছেন তাই এমন করছে বিজেপি। ভোট দখলের কায়দা করছে বিজেপি। যেমন তৃণমূল ভোট চুরি করতো ঠিক সেই কায়দায় বিজেপি ভোট চুরি করতে চাইছে। তৃণমূলের সব ভোট নিয়ে নেবে ভেবেও এখন চাইছে কার্যত বিরোধী শূন্য করতে।’’ সুজন চক্রবর্তী অভিযোগ করেছেন ‘‘শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন উনি ভোট করাতে জানেন মানে উনি প্রশাসনকে দিয়ে ভোট করাবেন। আর সেজন্যই বামফ্রন্টের প্রার্থীর উপর আক্রমণের পরেও কেউ গ্রেপ্তার হয়না। সিপিআই(এম) কর্মীদের বাড়িতে যারা আক্রমণ করল তাদের গ্রেপ্তার না করে আক্রান্তদের আটক করা হল, মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। ঘরছাড়া করা হয়েছে আমদাবাদের কয়েকজনকে। প্রতি মুহূর্তে ভয় দেখানো হচ্ছে গ্রেপ্তার করার, মিথ্যা মামলা দিয়ে দেওয়ার। কি চলছে নন্দীগ্রামে? এটা কি মগের মুলুক? কোনও গণতন্ত্র থাকবেনা? বিজেপি চার মাস আগে জিতে সরকার গঠন করেও ভয় পাচ্ছে।’’
প্রসঙ্গত নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকার সিপিআই(এম) সহ বামফ্রন্টের কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি শাসানী এসব চলছেই। এমনকি অভিযোগ থানা থেকে বলছি বলে ফোন করে বলা হচ্ছে প্রচার করা যাবেনা, পোলিং এজেন্ট বসা যাবেনা। নাহলে মিথ্যা কেস দেওয়া হবে। এমনকি হুমকি দেওয়া হচ্ছে ভোটের দিন এলাকায় যেন দেখা না যায়। আসলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন বিজেপির কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের সম্মান বাঁচানোর লড়াই। আর সেকারনেই বিজেপি বিরোধী পক্ষ রাখতে চাইছেনা।
Nandigram Assembly By-Election
নন্দীগ্রামে লক্ষাধিক ভোটে জেতার ফর্মুলা, তৃণমূলের কায়দায় বিজেপির হামলা
নন্দীগ্রামের চৌরঙ্গী এলাকায় বামফ্রন্টের প্রার্থীর প্রচার।
×
Comments :0