শিক্ষা ব্যবস্থা জুড়ে অশিক্ষা, বিজ্ঞান মনস্কতার উল্টো দিকে অপবিজ্ঞানের চাস হচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি অনুদান কমছে। সবার জন্য শিক্ষা, সেই অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক ছাত্র অভিভাবক শিক্ষা কর্মীদের একত্রে লড়াই করতে হবে। নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির বুক স্টল, শিক্ষা ও সাহিত্য এবং ছাত্র সংগ্রাম পত্রিকার বুক স্টল উদ্বোধনে একথা বলেন, সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। এদিন যুবশক্তি পত্রিকার ও বুক স্টল উদ্বোধন হয়। বৃহস্পতিবার কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার উদ্বোধন হয়েছে। শুক্রবার থেকে বইপ্রেমী মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে চলতি বছরের বই মেলা। এদিন এবিটিএ’র শিক্ষা ও সাহিত্য (৫৪৬নম্বর) বুক স্টলের উদ্বোধন করেন প্রাক্তন সাংসদ ও অধ্যাপক মালিনী ভট্টাচার্য ও সুজন চক্রবর্তী। মালিনী ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘দক্ষিণপন্থীরা মস্তিষ্ক দখল করে বিভাজনের বীজ ছড়িয়ে দিচ্ছে। তা রুখতে হবে। তার প্রধান অস্ত্রই হবে বই। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে লাটে তুলে দিচ্ছে সরকার। কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষানীতি তাঁদের প্রধান অস্ত্র। রাজ্যের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচাতে ছাত্র শিক্ষক শিক্ষা কর্মী অভিভাবকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে।"
যুবশক্তি বুক স্টলে এদিন উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট অভিনেতা সুপ্রিয় দত্ত সঙ্গে ছিলেন যুব আন্দোলনের প্রাক্তন নেতা জামির মোল্লা সহ যুব নেতৃবৃন্দ। তাঁরা বলেন, রাজ্যের যুব সমাজের কাছে লড়াইয়ের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রধান হাতিয়ার যুবশক্তি। এবছর যুবশক্তি তাঁদের স্টল( ৪০৫ নম্বর) সাজিয়েছে নওজোয়ান ভারত সভার ১০০ বছর ও প্যালেস্টাইনে ইজরাইলের আগ্রাসন বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে। যুব শক্তির এ বছরের স্থল ৪০৫ নম্বর।
ছাত্র সংগ্রাম বুকস্টলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক কিন্নর রায়। ছিলেন সুজন চক্রবর্তী, চিত্র পরিচালক সৌরভ পালধীও। এছাড়াও ছিলেন ছাত্র আন্দোলনের প্রাক্তন ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ। সুজন চক্রবর্তী বলেন, "শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাকে নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। ছাত্র, যুব শিক্ষক সমিতি সবাই একসঙ্গে লড়াই করতে হবে। যৌথ আন্দোলনের বিকল্প নেই। প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে। ছাত্রদের ফুল বাঁচাও মুল বাঁচাও এই আন্দোলন প্রভাব তৈরি করেছে গোটা রাজ্যের ছাত্র সমাজের কাছে। একই আরো ব্যাপ্তি করতে হবে রাজ্যের সমস্ত অংশে। পশ্চিমবঙ্গে একদিকে যখন একের পর সরকারি স্কুলই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শিক্ষকের অভাবে, পড়ুয়াদের অভাবে, বেহাল ব্যবস্থাপনার কারণে। সেখানে কেরালায় বিকল্প শিক্ষানীতির ফলে বেসরকারি স্কুল ছেড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে পড়ুয়ারা সরকারি স্কুলে ভর্তি হচ্ছে। আর এখানে সরকারি সহায়তায় ফুলে ফেঁপে উঠছে বেসরকারি স্কুল। এই সরকার অসংবেদনশীল, শিক্ষক-ছাত্র বিরোধী, শিক্ষা বিরোধী সরকার।" ছাত্র সংগ্রামের এ বছরের স্টল ছাত্র সংগ্রাম ৪৪৫।
Comments :0