জয়ন্ত সাহা
এসআইআরে নাম বাদ গেছে তিনবারের ভোট দেওয়া দিনহাটার আব্দুল হাফিজের। নাম ওঠেনি দিনহাটা কলেজের পড়ুয়া বোন সুরজ মাজেদা এবং আরেক বোন জিন্নাতুন খাতুনের! অথচ এদের সবার কাছেই ভোটের কার্ড আছে। কেউ তিনবার ভোট দিয়েছেন। কেউ ৫ বার! ভোটার তালিকায় নাম কাটা যাওয়ায়, এবারে আবদুল হাফিজের দু মাসের মেয়ে আয়াত জুনেইরা-র সংশাপত্র দিচ্ছে না মহকুমা হাসপাতাল।
দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ৮ সেপ্টেম্বর আবদুলের স্ত্রী আমিনা খাতুনের কন্যা সন্তান হয়েছে।
নিয়ম মাফিক মহকুমা হাসপাতালে আয়াত জুনেইরা-র জন্ম সংশাপত্রর জন্য আবেদন করেছিল আবদুল হাফিজ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়েছে যেহেতু বাবার নাম এসআইআরে বাদ গেছে তাই বাচ্চার জন্ম সংশাপত্র মিলবে না।
তারপর থেকে দুমাসের বাচ্চাকে নিয়ে প্রশাসনের কাছে ঘুরছেন ওই দম্পতি। কেউ পাশে দাঁড়ায়নি পরিবারের। বিজেপির বিধায়ক অজয় রায়ের বাড়িতেও গিয়েছিলেন তাঁরা। বিধায়কের দেখা না পেলেও বিধায়কের ব্যক্তিগত সচিব জানিয়েছেন এসআইআরে নাম বাদ গেছে অতএব কিছু করার নেই। পরামর্শ দিয়েছেন সিএএ-তে আবেদন করতে পারেন!
আবদুল হাফিজের বক্তব্য, "সিএএতে মুসলিম হিসেবে আমি কেন আবেদন করবো? আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি? আমার বাবা বক্তে জামাল মিয়া এবং মা আরজিনা বিবি দুজনেই জন্মসূত্রে ভারতের বাসিন্দা। বাবার জমির কাগজও রয়েছে। ভোটার তালিকায় এখনও আমার বাবা-মায়ের নাম রয়েছে। আমি জানতে চাই এই হয়রানি কবে বন্ধ হবে? কবে আমার সন্তান তাঁর জন্ম সংশাপত্র পাবে?"
এসআইআরে শুনানিতে কি অভিজ্ঞতা তা এদিন সাংবাদিকদের বলেন আব্দুল হাফিজ। তিনি জানান, এসআইআরে যখন নাম বাদ গেল তখন বিডিও অফিসে শুনানিতে গেছিলাম। তখনই আমার এবং আমার দুই বোনের নাম বাদ পড়ে। এরপর অফলাইন এবং অনলাইনে একাধিকবার আবেদন করেও আমাদের তিনজনের নাম ওঠেনি ভোটার তালিকায়।
বারবার উপযুক্ত প্রমান পত্র জমা দিয়েও আবদুল হাফিজ এবং তাঁর দুই বোন জিন্নাতুন খাতুন ও সুরজ মাজেদা ভোটার তালিকায় নাম তুলতে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় ভুগছেন।এর মধ্যে বাড়িতে আসা সদ্যোজাত আয়াত জুনেইরা-র সংশাপত্র না পেয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।
কোচবিহার জেলাজুড়ে নাম বাদ পড়া অসংখ্য নাগরিকদের কেউ আবাস যোজনার ঘর থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কেউবা ১০০ দিনের কাজ পাচ্ছেন না। আবার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রচুর গরীব মানুষ ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করছিলেন। নাম বাদ পড়ার পর তারা কেউ আর ভিন রাজ্যে কাজে যাচ্ছেন না। কারন বিদেশী তকমা দিয়ে "পুশব্যাক" করে দেওয়া হতে পারে এই আশঙ্কা ঘিরে ধরেছে এদের প্রত্যেককে।
Comments :0