নতুনপাতা
শারদ ১৪৩৩
জানা অজানা
দীপাবলির ইতিহাস : তপন কুমার বৈরাগ্য
৬ নভেম্বর ২০২৬ - ৪র্থ বর্ষ
গুরু হরগোবিন্দ ও জাহাঙ্গীরের সাথে তাঁর যুদ্ধ হয়। সালটা ছিল ১৬১৯। মাসটা ছিলো কার্তিক মাস।
এই যুদ্ধে শেষে সম্রাট জাহাঙ্গীর। জাহাঙ্গীর গুরু হরগোবিন্দের দাবি মতো গোয়ালিয়র দুর্গ থেকে
বাহান্ন জন হিন্দু রাজাকে মুক্তি দেন। এরপর তিনি অমৃতসরে প্রত্যাবর্তন করেন। দিনটা ছিলো কার্তিকমাসের
অমাবস্যা। শিখগণ এইদিন ঘরে ঘরে মাটির প্রদীপ জ্বেলে দেওয়ালি উৎসব পালন করেন।শিখ জাতি এই দেওয়ালি পালনের
উৎসবের নাম দেন'বন্দী ছোড় দিবস'।এই দিন তাঁরা প্রদীপ জ্বেলে ঘরে ঘরে আনন্দ পালন করেন। সেই থেকে শিখেরা দেওয়ালি উৎসব পালন করে আসছে। রামচন্দ্র ১৪ বছর শেষে কার্তিকী অমবস্যায় নিজের রাজ্যে ফিরে আসেন।সেদিন অযোধ্যার ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বেলে দীপাবলি উৎসব পালন শুরু হয়।
কার্তিকী অমবস্যায় বুদ্ধদেব গৃহত্যাগ করেছিলেন। তাঁর অনুগামীরা কপিলাবস্তুতে ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বেলে এই উৎসবের সূচনা করেন। মহাবীরের নির্বাণ লাভের দিন কার্তিকীয় অমাবস্যার আগেরদিন চতুর্থ তিথিতে।সেদিন থেকে জৈনরা ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বালতে শুরু করেন।
ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে দীপাবলি বিভিন্ন নামে পালিত হয়। এদিন জাতিধর্ম নির্বিশেষে আমরা ঘরে ঘরে দীপ জ্বালাই।আনন্দ করি।হাতে হাত মিলাই। দীপাবলি দেওয়ালি ,দীপান্বিতা, দীপালিকা, যক্ষরাত্রি ,সুখরাত্রি ,সুখসুপ্তিকা বিভিন্ন নামে পরিচিত। কার্তিকী অমাবস্যায় দীপাবলি উৎসব পালন করা হয়।
হিন্দুধর্ম ছাড়াও বৌদ্ধ,শিখ, জৈনরাও এই দীপাবলি উৎসব পালন করে। এদিন অন্তরের আলো জ্বেলে আমাদের হৃদয়কে
আমরা আলোকিত করার শপথ নিই।
Comments :0