উদারনীতির খোলা বাজারে প্রতিযোগিতায় মুখ থুবড়ে পড়া ব্রিটেনের ভোডা ও ভারতের বিড়লাদের আইডিয়ার যৌথ সংস্থা ভিআই-কে ফের প্রায় লক্ষ কোটি টাকার অক্সিজেন জুগিয়ে ভেন্টিলেশন থেকে বের করে আনলো কর্পোরেট প্রিয় মোদী সরকার। সরকারের নিজস্ব টেলিকম সংস্থা বিএসএনএল এবং এমএনটিএল-কে কার্যত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে বেসরকারি কর্পোরেট পুঁজির প্রতি এমন দায়বদ্ধতা সত্যিই বিরল। যাবতীয় রাষ্ট্র ও শিল্প সংস্থাকে ধাপে ধাপে বেসরকারি কর্পোরেটের হাতে তুলে পুরোপুরি কর্পোরেট সেবায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নিয়োজিত যে লক্ষ্য নিয়ে মোদী সরকার যাত্রা শুরু করেছিল সেই লক্ষ্য ইতিমধ্যেই অনেকটা পূরণ হয়ে গেছে। বাকি কাজ দ্রুত সারতে সরকার এখন বদ্ধপরিকর। শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কর্পোরেটের হাতে তুলে দিয়েই মোদী সরকার তৃপ্তিবোধ করছে না। এখন রেল লাইন, স্টেশন, ট্রেন, বিমান বন্দর, সমুদ্র বন্দর, জাতীয় সড়ক, বনাঞ্চল, খনিজ সম্পদ, মহামূল্যবান জমি ইত্যাদি সবকিছুই কর্পোরেটের হাতে সঁপে দিতে ব্যাকুল।
ঢালাও এবং একচেটিয়া বেসরকারিকরণের পেছনে উদারনীতির যুক্তি হলো বেসরকারি হলে দক্ষতা বাড়বে, বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির ফলে পণ্য ও পরিষেবা সস্তা হয়ে যাবে। বাস্তবে এখন দেখা যাচ্ছে যাবতীয় শিল্প, বাণিজ্য ও পরিষেবা ক্ষেত্র থেকে সরকার হাত তুলে নেবার ফলে প্রথম দিকে কিছুকাল নতুন নতুন দেশি-বিদেশি সংস্থার আগমন ঘটছে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে এবং ক্ষণকালের জন্য পণ্য পরিষেবার দামও কিঞ্চিত কম হয়েছে। কিন্তু তারপর থেকেই ধীরে ধীরে বৃহৎ সংস্থা গ্রাস করতে শুরু করেছে ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলিকে। বেসরকারিকরণের প্রথম যুগে টেলিকম ক্ষেত্রে সরকারি বিএসএনএল-এমএনটিএল’র পাশাপাশি প্রায় দু’ডজন বেসরকারি সংস্থা প্রতিযোগিতায় নামে। এখন সেটা কমতে কমতে তিনটি বৃহৎ সংস্থায় এসে ঠেকেছে। তার মধ্যে একটির নাভিশ্বাস উঠে গেছে। অপর দিকে বেসরকারি সংস্থাকে পুষ্ট করতে সরকারের যাবতীয় বিধি বন্দোবস্ত উদার হয়েছে। তারা নানাভাবে সরকারি ছাড়ের সুবিধা পেয়েছে। নতুন নতুন পরিষেবায় অগ্রাধিকার পেয়েছে। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত বিএসএনএল তার কিছুই প্রায় পায়নি। বরং প্রতিযোগিতায় বিএসএনএল যাতে এগিয়ে না যায় তাই তাকে আটকে রেখে বেসরকারি সংস্থাকে খোলা মাঠে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাই বিএসএনএল আজ মুমূর্ষু। বেসরকারি সংস্থাগুলির রমরমা।
তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো বেসরকারি সংস্থা যখন বিপদে পড়ে তখন কর ছাড় দিয়ে, বকেয়া মকুব করে সরকার তাদের পাশে দাঁড়ায়। অর্থাৎ জনগণের করের টাকা দেদার বিলিয়ে দেওয়া হয় কর্পোরেটের পেছনে। দুয়োরানির মতো তিলে তিলে ধ্বংসের পথে এগোয় সরকারি সংস্থা। ভোডা-আইডিয়াকে গণেশ ওলটানো থেকে বাঁচাতে গত পাঁচ বছরে দফায় দফায় সাহায্য করেছে সরকার। আগে বকেয়া আদায়ের বদলে ভিআই’র ৪৯ শতাংশ শেয়ার কেনে। অর্থাৎ কর্পোরেটের লোকসানের দায় কাঁধে নেয় সরকার। এবার ৮৭ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পাঁচ বছরের ছাড় দিয়ে পরবর্তী দশ বছরে সুদ ছাড়া ফেরতের সুযোগ দিয়েছে। এছাড়া ভিআই’র কাছে অন্য খাতে সরকারের পাওনা ২ লক্ষ কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত কোনও টাকাই পাওয়া যাবে না। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে অচল ভিআই’র দায় চাপবে সরকারের ঘাড়ে।
Voda Idea Modi
কর্পোরেট লোকসানের দায় সরকারের
×
Comments :0