ভারতের সাথে দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি সাক্ষর করলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় রপ্তানিকারকদের জন্য ভারতের বাজারের দরজা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্মুক্ত হবে বলে দাবি করেছে দুই পক্ষ।
বর্তমানে ইউরোপীয় গাড়ির ওপর ভারতকে যেই ৭০ শতাংশ পর্যন্ত চড়া শুল্ক দিতে হয়, তা কমিয়ে মাত্র ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে চুক্তিতে। তবে একটি নির্দিষ্ট সীমা বা কোটা রাখা হয়েছে, বছরে সর্বোচ্চ ২.৫ লক্ষ গাড়ি এই সুবিধার আওতায় আসবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মনে করছে, এর ফলে ভারতের ‘প্রিমিয়াম কার’ বা বিলাসবহুল গাড়ির বাজার সম্পূর্ণ বদলে যাবে।
ইউরোপ থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া ৯০ শতাংশেরও বেশি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক হয় তুলে নেওয়া হবে বলে চুক্তিতে বলা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাবি ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইউরোপীয় রপ্তানি দ্বিগুণ হবে। প্রতি বছর প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে। চুক্তি অনুযায়ী ওষুধ এবং রাসায়নিকের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ২২ এবং ১১ শতাংশ শুল্ক আর থাকছে না।
অপটিক্যাল ও সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতির ৯০ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত হবে, যা ভারতের হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের খরচ কমাতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু শুল্ক কমলেও ভারত সরকারের জিএসটি মানুষের ওপর চাপ প্রতি মুহুর্তে তৈরি করছে।
এই নতুন চুক্তির ফলে ইউরোপীয় খাদ্য ও পানীয় ভারতের বাজারে এখন আরও সুলভে মিলবে বলে দাবি করা হচ্ছে। ওয়াইনের ওপর শুল্ক কমে হবে ২০-৩০ শতাংশ, স্পিরিটের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং বিয়ারের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ। ইউরোপীয় অলিভ অয়েল এবং মার্জারিনের ওপর থেকেও শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
পণ্য ছাড়াও ভারত প্রথমবার আর্থিক পরিষেবা এবং সামুদ্রিক পরিবহনের মতো ক্ষেত্রে ইউরোপীয় সংস্থাগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি, এই সময় ভারতকে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগে সহায়তা করতে ইইউ আগামী দুই বছরে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে এই চুক্তির ফলে ভারতের গ্রাহকরা বিশ্বমানের পণ্য সস্তায় পেলেও, দেশীয় গাড়ি এবং রাসায়নিক শিল্পকে এখন থেকেই কঠিন প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য এই চুক্তি বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
India EU trade agreement
ভারতের সাথে দীর্ঘ মেয়াদি বাণিজ্য চুক্তি সাক্ষর করলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন
×
Comments :0