শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর এবং বস্তিবাসী সংগঠনের ডাকে রাজ্য জুড়ে প্রতিটি জেলা চলছে ‘জেল ভরো’ কর্মসূচি। একাধিক দাবিকে সামনে রেখে গোটা দেশে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসাবে এরাজ্যের প্রতিটা জেলায় বামপন্থী শ্রমিক, কৃষক এবং অন্যান্য সংগঠন গুলোর ডাকে চলছে এই কর্মসূচি।
সংযুক্ত কিসান মোর্চা এবং কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির (সিটিইউ) আহ্বানে দেশের গ্রাম, পঞ্চায়েত, ব্লক, জেলা, শহর ও নগরে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। কৃষক, কৃষিশ্রমিক, শিল্পশ্রমিক, গ্রামীণ শ্রমজীবী, আদিবাসী, কর্মচারী, যুব, মহিলা সহ শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন অংশকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে।
এসকেএম’র বক্তব্য, দেশের মানুষের সামনে আজ কৃষি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সঙ্কট গভীর। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম নেই, গ্রামীণ ঋণের বোঝা বাড়ছে, কৃষকের আত্মহত্যা অব্যাহত। অন্যদিকে শ্রমিকদের মজুরি, চাকরির নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকার ক্রমাগত সঙ্কুচিত হচ্ছে। সরকারি সম্পদ ও পরিষেবার বেসরকারিকরণ এবং কৃষি ও শিল্পে কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির ফলে সঙ্কট আরও তীব্র হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পৃথক দাবিপত্রও পেশ করেছে এসকেএম। রাষ্ট্রপতিকে সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে হস্তক্ষেপ করে কেন্দ্রীয় সরকারকে কৃষক-শ্রমিকদের দাবিগুলির বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই সংগঠনের অন্যতম প্রধান দাবি, সমস্ত ফসলের জন্য স্বামীনাথন কমিশনের সি২+৫০% সূত্র অনুযায়ী ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি-এর আইনি নিশ্চয়তা এবং সরকারি ক্রয়ের গ্যারান্টি। একইসঙ্গে কৃষকদের সর্বাত্মক ঋণ মকুবের দাবি জানানো হয়েছে। কৃষক আত্মহত্যার প্রতিটি পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং সম্পূর্ণ পুনর্বাসনের দাবিও রয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে কৃষিক্ষেত্র থেকে কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে সরিয়ে দেওয়া, কৃষকের জমির অধিকার রক্ষা এবং জোর করে জমি অধিগ্রহণ ও কর্পোরেটপন্থী ‘ল্যান্ড পুলিং’ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে এসকেএম। বনাঞ্চলের অধিকার আইন এবং পেসা-র অধীনে কৃষক ও আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার কথাও বলা হয়েছে।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতা করে ভারত-মার্কিন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল এবং বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলি পুনর্বিবেচনা বা বাতিলের দাবি তুলেছে কৃষক সংগঠনগুলি। কৃষিপণ্যের অবাধ আমদানি বন্ধ করারও দাবি জানানো হয়েছে। ‘ন্যাশনাল পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক ফর এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং’-এর বাস্তবায়নও প্রত্যাখ্যান করেছে এসকেএম। সংগঠনটির অভিযোগ, এর মাধ্যমে বাতিল হয়ে যাওয়া কৃষি আইনগুলিকে অন্য পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শ্রমজীবী মানুষের দাবির সঙ্গে কৃষকদের দাবিকে যুক্ত করে চারটি শ্রম কোড বাতিলের দাবি জানিয়েছে এসকেএম সমস্ত শ্রমিকের জন্য মাসিক ৪২ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির আইনসিদ্ধ নিশ্চয়তার দাবিও রয়েছে। মনরেগা পুনর্বহাল ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বছরে অন্তত ২০০ দিনের কাজ এবং প্রতিদিন ৭০০ টাকা মজুরির দাবি জানানো হয়েছে খেতমজুরদের জন্য। বিদ্যুৎ বেসরকারিকরণের পদক্ষেপ, ‘বিদ্যুৎ বেসরকারিকরণ বিল, ২০২৫’ এবং ‘বীজ বিল, ২০২৫’ প্রত্যাহারের দাবিও রয়েছে। প্রিপেইড স্মার্ট মিটার চালু করা যাবে না।
এফসিআই-কে শক্তিশালী করা, খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সাইলো বেসরকারিকরণ বন্ধ করা, সারের কালোবাজারি ও ঘাটতি রোধ, ভরতুকি পুনর্বহাল করে সার, জ্বালানি, পেট্রল ও ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণের মতো দাবিও সামনে এনেছে এসকেএম।
এরই সঙ্গে মোদী সরকারের শ্রমজীবী মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কৃষকবিরোধী ও শ্রমিকবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ‘জেল ভরো’, ‘রাস্তা রোকো’, ‘রেল রোকো’ এবং অন্যান্য গণআন্দোলনে কৃষকদের তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সারা ভারত কিসান সভা।
Comments :0