NEET UG

সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে টেলিগ্রাম

জাতীয়

নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষার আগে সারা দেশে জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করার কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে টেলিগ্রাম। বুধবার আদালত জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি শুনতে সম্মত হয়েছে।
জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র সুপারিশের ভিত্তিতে মঙ্গলবার কেন্দ্র সরকার টেলিগ্রামের উপর ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভুয়ো তথ্য ছড়ানো এবং সংঘবদ্ধ নকলচক্রের কার্যকলাপ রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
সরকারের নির্দেশে টেলিগ্রামকে তাদের ‘মেসেজ এডিট’ ফিচারও সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করতে বলা হয়েছে। এনটিএ-র দাবি, কিছু অসাধু ব্যক্তি এই ফিচারের অপব্যবহার করে পরীক্ষার পরে বার্তা সম্পাদনা করে প্রশ্নপত্র যুক্ত করছিল এবং পুরনো টাইমস্ট্যাম্প বজায় রেখে প্রশ্নফাঁসের ভুয়ো প্রমাণ তৈরি করছিল।
সম্প্রতি একাধিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সমালোচনার মুখে থাকা এনটিএ জানিয়েছে, টেলিগ্রামের নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে কিছু চক্র পরীক্ষার্থীদের কাছে আগাম সমাধান করা প্রশ্নপত্র বিক্রি করছে। সংস্থার অভিযোগ, এই ধরনের প্রতারণার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।
কেন্দ্রের নির্দেশের পর বিশ্বের দুই বৃহত্তম মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম সংস্থা গুগল ও অ্যাপল তাদের অ্যাপ স্টোর থেকে সাময়িকভাবে টেলিগ্রাম অ্যাপ সরিয়ে দিয়েছে। ভারতে ব্যবহৃত অধিকাংশ স্মার্টফোনই অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস ভিত্তিক হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর উপর।
তবে টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল ধ্রুব কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্য, কয়েকজন ব্যবহারকারীর অপরাধের জন্য কোটি কোটি সাধারণ ব্যবহারকারীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। ধ্রুব বলেন, ‘ভারত এক সপ্তাহের জন্য টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করেছে কারণ কিছু ব্যবহারকারী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র শেয়ার করেছিল। এতে ১৫ কোটিরও বেশি সাধারণ ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কিন্তু যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে তারা নয়। নিষেধাজ্ঞা সমস্যার সমাধান করবে না, বরং এই ধরনের কার্যকলাপ অন্য অ্যাপে সরে যাবে।’
অন্যদিকে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে যুক্ত সংস্থাগুলির দাবি, টেলিগ্রামের বিভিন্ন গ্রুপে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নপত্র বিক্রির প্রলোভন দেখানো হচ্ছিল। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার চাপে থাকা ছাত্রছাত্রীদের লক্ষ্য করে এই প্রতারণা চালানো হতো। তদন্তকারীদের মতে, ভিপিএন ব্যবহার করে পরিচয় গোপন করায় এই ধরনের চক্রকে চিহ্নিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে, বহু পরীক্ষার্থী টেলিগ্রামের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাদের বক্তব্য, শুধুমাত্র কোনও একটি অ্যাপ বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উপরই সরকারের জোর দেওয়া উচিত।
নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্কের আবহে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নতুন রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের তৈরি হয়েছে। এখন দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী এবং পরীক্ষার্থীরা।

Comments :0

Login to leave a comment