সামনেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষার প্রস্তুতির চাপের মাঝেই পড়ুয়াদের জন্য স্বস্তির নিশ্বাস এনে দিয়েছে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহের টানা ছুটি। ২৩ জানুয়ারি সরস্বতী পুজো ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন থেকে শুরু করে ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবস। এর মাঝখানে শনি ও রবিবার মিলিয়ে টানা চার-পাঁচ দিনের অবকাশ। এই লম্বা ছুটিকে কেন্দ্র করেই নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ডুয়ার্সের পর্যটন শিল্প। পর্যটকদের ঢলে এখন চাঙ্গা লাটাগুড়ি, মূর্তি, গরুবথান থেকে সামসিং, ডুয়ার্সের সর্বত্রই উৎসবের আমেজ। ২৩ জানুয়ারি সরস্বতী পুজো ও নেতাজির জন্মদিন উপলক্ষে রাজ্য সরকার ২২ জানুয়ারি থেকেই ছুটি ঘোষণা করেছে। ফলে অনেকেই একদিন আগেভাগেই ভ্রমণের পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ভ্রমণপিপাসুরা। পাহাড়, জঙ্গল আর নদীঘেরা ডুয়ার্স তাই হয়ে উঠেছে শীতের শেষ লগ্নে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।
বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসায় মন্দার ছবি ধরা পড়ছিল। শীতের মরসুম থাকলেও পর্যটকদের আনাগোনা তুলনামূলক কম ছিল লাটাগুড়ি, মূর্তি কিংবা ঝালং-বিন্দুর মতো জনপ্রিয় জায়গাগুলিতে। বহু রিসর্ট ও হোমস্টেতে ঘর ফাঁকা পড়ে থাকায় চিন্তায় ছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে এই টানা ছুটিকে ঘিরে ফের আশার আলো দেখছেন তাঁরা।
গরুমারা ট্যুরিজম ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য তজমল হক জানান, ‘‘সরস্বতী পুজো থেকে টানা পাঁচ দিন ভালো বুকিং শুরু হয়েছে। মূর্তি এলাকার বেশ কিছু রিসর্টে আর কোনও ঘর ফাঁকা নেই।’’ একই সুর শোনা গেল লাটাগুড়ি রিসর্ট ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য অনুপ গোপের গলায়। তিনি বলেন, ‘‘দূরপাল্লার পর্যটক খুব বেশি না এলেও পার্শ্ববর্তী জেলা ও এলাকা থেকে প্রচুর মানুষ এই ছুটিতে ঘুরতে আসছেন। এর ফলে ব্যবসা ভালো হবে বলেই আশা করছি।’’
শুধু ডুয়ার্সের সমতল অঞ্চল নয়, পাহাড় সংলগ্ন এলাকাগুলিতেও বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়। গরুবথানের ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অ্যাডভাইজার ওমদেং মোলোমু জানান, ‘‘এই কদিনের জন্য অনেকেই ফোন করে ঘরের খোঁজ নিচ্ছেন। আশা করা যায়, ছুটির সময় প্রায় সব রুমই ‘ফুল’ থাকবে।’’
সামসিংয়ের এক হোমস্টে মালিক দেবেশ ছেত্রী বলেন, ‘‘আমাদের হোমস্টে সহ আশপাশের বেশিরভাগ জায়গাই ২২ জানুয়ারি থেকে টানা পাঁচ দিনের জন্য সম্পূর্ণ বুকড।’’
তবে বেসরকারি রিসর্ট ও হোমস্টেগুলিতে যখন বুকিংয়ের হিড়িক, তখন উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে সরকারি বনবাংলোগুলিতে। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের অধীনে থাকা মৌচুকি বনবাংলো, ধূপঝোরা এলিফ্যান্ট ক্যাম্প কিংবা কালীপুর ইকো ভিলেজের বেশিরভাগ ঘর এখনও ফাঁকাই পড়ে রয়েছে। ২২ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এই সময়েও কেন সরকারি বনবাংলোগুলিতে পর্যটকদের আগ্রহ কম, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বন আধিকারিকরা।
২৩ জানুয়ারি সরস্বতী পুজো ও নেতাজির জন্মদিন, ২৪ জানুয়ারি শনিবার, ২৫ জানুয়ারি রবিবার এবং ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবস সব মিলিয়ে এই লম্বা ছুটি শীতের বিদায়বেলায় ডুয়ার্সের পর্যটন শিল্পে নতুন অক্সিজেন জোগাবে বলেই মনে করছেন পর্যটন মহলের ওয়াকিবহালরা। পর্যটকদের এই ঢল যদি অব্যাহত থাকে, তবে আগামী দিনগুলোতে আরও চাঙ্গা হয়ে উঠবে ডুয়ার্সের পর্যটন অর্থনীতি, এমনটাই আশা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের।
Tourist Spots Dooars
টানা ছুটিতে পর্যটকদের ঢল ডুয়ার্সে, খুশি ব্যবসায়ীরা
×
Comments :0