দিল্লিতে বিধিনিষেধ তো রয়েছেই। কিন্তু ‘যন্তরমন্তর ২.০’ আটকাতে ধরপাকড় চলছে ট্রেনেও। ছাত্র-যুব কর্মীদের আটক করা হচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যে। বাতিল হচ্ছে ট্রেনও।
কলকাতা থেকেই দিল্লিগামী একাধিক ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে পূর্ব রেল। তার জন্য দিল্লিতে যানজটের যুক্তি দিয়েছে। তবে চারদিকের পরিস্থিতি দেখে রেলের এই ব্যাখ্যায় উঠছে প্রশ্ন।
যেভাবে বিনা কারণে ধরপাকড় চলছে, তাতে দেশে অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারির অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে।
শনিবার, ১০ অক্টোবর, দিল্লির যন্তরমন্তরে ফের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। এসএফআই, এআইএসএ সহ বামপন্থী পাঁচ ছাত্র সংগঠনও এই বিক্ষোভে অংশ নেবে। সিজেপি’র সংগঠক অভিজিৎ দীপকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে দেশের সমস্ত প্রান্ত থেকে ফের ছাত্রছাত্রীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তর মুখী হবে। তারপরই দিল্লি গামী একাধিক ট্রেন বাতিল করেছে রেল।
কলকাতা থেকে দিল্লি গামী হাওড়া রাজধানী ও শিয়ালদা রাজধানী দুটিই বাতিল করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে শুক্রবার সকালে।
কেবল তা-ই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্র নেতৃত্ব, প্রতিবাদীদের বিভিন্ন জায়গায় আটক করা হচ্ছে।
এসএফআই কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির দপ্তরে গতকাল, বৃহস্পতিবার, রাতে পুলিশ হানা দেয়। তল্লাশি চালানো হয়েছে গোটা দপ্তরে। এসএফআই সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেছেন, "জোর করে আটক করে ছাত্র-ছাত্রীদের দমানো যাবে না। হাজারে হাজারে এসএফআই কর্মী সমর্থকরা ১০ তারিখ যন্তর মন্তরে উপস্থিত হবেন।"
এদিকে পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে নয়াদিল্লি স্টেশন সংলগ্ন এলাকা এবং হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশন সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে প্রচুর পরিমাণে যানজটের সম্ভাবনা থাকায় এই দু’টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
কিন্তু অনেকেই মনে করছেন যে কলকাতা থেকে কোন প্রতিবাদী ছাত্র যাতে দিল্লির যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে না পারে সেই জন্যই এই ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
জম্মু থেকে দিল্লি যাওয়ার ১৩টি ট্রেন বাতিল করেছে উত্তর পশ্চিম রেল। এদিকে রেল পুলিশের ডিসিপি ভরত রেড্ডি সংবাদমাধ্যমে বলেছেন যে ৩৩৪ জন জিআরপি মোতায়েন করা হয়েছে দিল্লির বিভিন্ন ট্রেনে নজরদারির জন্য। আধা সামরিক বাহিনী সিএপিএফ’র ১৪ কোম্পানি চাওয়া হয়েছে।
গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বামপন্থী ছাত্র নেতৃবৃন্দকে আটক করছে পুলিশ। গুজরাটের এসএফআই রাজ্য সম্পাদক ও এসএফআই কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেত্রী সত্যেশা লেউয়াকে আটক করেছে গুজরাট পুলিশ। এছাড়াও উত্তর প্রদেশের সুলতানপুর জেলার এসএফআইয়ের সভাপতি সাহিলকে গতকাল রাত্রি দুটোর সময় গৃহবন্দী করেছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। যাতে সে দিল্লির উদ্দেশ্যে যেতে না পারে।
আবার বিজেপি’র সহযোগী অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু সরকারও দমনের পথ নিয়েছে। এসএফআই নেতা সাহিতকে কাঁকিনাড়ায় তাঁর বাড়িতে খুঁজে না পেয়ে তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কাকিনাড়ার ছাত্রদের নিয়ে সাহিদ ‘ভোট চুরির‘ বিরুদ্ধে পথে নামার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই জন্যই এই গ্রেপ্তারি বলে জানিয়েছে এসএফআই।
Jantar Mantar 2.0 Train Cancellation
শুধু কলকাতা নয়, ট্রেন বাতিল জম্মুতেও, ‘যন্তরমন্তর ২.০’ ঠেকাতে রাজ্যে রাজ্যে ধরপাকড়
উত্তর প্রদেশের পুলিশ গৃহবন্দি করে রাখছে ছাত্র-যুব নেতানেত্রীদের।
×
Comments :0