Elephant Dies

মালগাড়ির ধাক্কায় ধূপগুড়িতে দুটি হাতির মৃত্যু

জেলা

জলপাইগুড়ি জেলার দুই প্রান্তে ফের দু’টি আলাদা ঘটনায় হাতি–মানুষ সংঘাত তীব্র আকার নিল। রবিবার ভোরে ধূপগুড়ি ব্লকের খলাইগ্রাম রেলস্টেশন সংলগ্ন নাওয়াপাড়া এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোর চারটে নাগাদ ৭৩/৭ নম্বর পিলারের কাছে ডাউন লাইনের একটি মালগাড়ি সাথে আকস্মিকভাবে রেললাইন পার হওয়া হাতির দলে ধাক্কা লাগে। এতে দলের দুই হাতি গুরুতর ভাবে জখম হয়। স্থানীয়দের দাবি, গত দুইদিন ধরে চারটি হাতির একটি দল ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। এরমধ্যেই একটি হাতি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। অন্যটি আড়াই ঘণ্টা ধরে লাইনের ধারে জখম অবস্থায় ছটফট করতে থাকে। আহত হাতিটির চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় বলে এদিন সন্ধ্যায় জানান ডিএফও বিকাশ ভি। দুটি হাতি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে এই খবর পেয়ে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ, রেল ও বনদপ্তর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বারবার ঘটে চলা এই দুর্ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এই ধরনের মৃত্যু ডুয়ার্সে নতুন নয়। গত এক দশকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন করিডোরে ট্রেনের ধাক্কায় বহু হাতির মৃত্যু হয়েছে। হাতি করিডোরের মধ্য দিয়ে রেললাইন যাওয়া এবং দ্রুতগতি ট্রেন চলাচলকে মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে দেখা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে গতি নিয়ন্ত্রণ, বন রেল সমন্বিত টহল, হাতির অবস্থান সনাক্তকরণ প্রযুক্তি ও করিডোর সুরক্ষা এসব ব্যবস্থা কার্যকর হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব। যদিও রাজ্য বনদপ্তর ও রেল প্রশাসনের মধ্যে একাধিক বৈঠকে এসব পরিকল্পনার কথা উঠেছে, বাস্তবে তা পর্যাপ্তভাবে কার্যকর হয়নি বলেই অভিযোগ।

অন্যদিকে, একইদিন সকাল সাড়ে ছ’টায় বানারহাট ব্লকের তেলিপাড়া এলাকায় দলছুট একটি দাঁতাল হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। মোরাঘাট জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসা দাঁতালটির প্রবেশে ঘনবসতিতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।শিশু -বৃদ্ধদের নিরাপদে সরাতে প্রশাসন ও স্থানীয়রা একসঙ্গে উদ্ধারকাজে নামেন।পরিস্থিতি সামলাতে বনদপ্তর,পুলিশ ও বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ডলাইফ স্কোয়াডের কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরে দাঁতালটিকে জঙ্গলের দিকে ঠেলে দিতে সফল হন বনকর্মীরা।কোনো প্রাণহানি না হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়।
বন দপ্তর জানিয়েছে,ডুয়ার্সে ক্রমবর্ধমান মানুষ-প্রাণী সংঘাত রুখতে নজরদারি, টহল ও ট্র্যাকিং আরও জোরদার করা হবে।স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

Comments :0

Login to leave a comment