অন্যকথা
মুক্তধারা
----------------------------
ভ্যালেটাইন ডে
----------------------------
অমল কর
বিগত সংখ্যার পর
প্রেমের জন্য ভ্যালেনটাইনের এই নীরব আত্মোৎসর্গ প্রেমিকদের যার পর নাই প্রাণিত ও ফুল্ল করেছে।সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের মৃত্যুর পর রোমে মানুষের বিয়ের বন্ধ্যাদশা কেটে যায়।
জেগে ওঠে নতুন প্রাণনায় রোমের যুবক-যুবতিরা।নবকলেবরে শুরু হয়ে যায় লিউপারকেলিয়া উৎসব।তারপর কত শীতবসন্ত অতিক্রান্ত।
মহাকবি কালিদাস-এর মেঘদূত আর ডিউক অফ অরলিন্স চার্লস-এর প্রেমপত্রের ইতিকাহিনি ছুঁয়ে চলে আসছে অনেক শতাব্দী পেরিয়ে এই প্রাণের ভ্যালেনটাইন দিবস বা লাভ ভে বলে বা ১৪ই ফেব্রুয়ারি বা প্রেমের মহোৎসব দিবস উপলক্ষ্যে।
শুধু খ্রিস্টানদের মধ্যে নয়, রোমের গণ্ডি পেরিয়ে ইউরোপ সহ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন শহর-নগর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্ৰামেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে দিনটির জনপ্রিয়তা ও মাহাত্ম্য বেড়েছে। ইউরোপ আমেরিকা শুধু নয় এশিয়ার চিন জাপান ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশেও দিনটিকে স্মরণ করে রক্তগোলাপ চকোলেট গ্ৰিটিংস আর ক্যান্ডেল লিংক ডিনারে।
এখন বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দিনে সপ্তাহব্যাপী পালিত হয় উৎসব।
৭ ফেব্রুয়ারি রোজ ডে, ৮ ফেব্রুয়ারি প্রপোজ ডে, ৯ ফেব্রুয়ারি চকোলেট ডে , ১০ ফেব্রুয়ারি টেডি বিয়ার ডে, ১১ ফেব্রুয়ারি প্রমিস ডে, ১২ ফেব্রুয়ারি হাগ ডে পালন করে একজন আর-একজনকে জড়িয়ে ধরে,
১৩ ফেব্রুয়ারি কিসড ডে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেনটাইন ডে হিসাবে পালিত হয়।
কোনো কোনো দেশ আবার রোজ ডে পালন করে মে মাসে, কেউ আবার কিসড ডে পালন করে জুন মাসে।
কেউ মনে করে প্রতিদিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হিসাবে পালন করা হোক। কোনো দেশ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালনে আগ্ৰহী।কারও ইচ্ছে পিতা-মাতার পূজা দিবস হিসাবে পালন করা হোক দিনটি।
১৯৯৩ থেকে বাংলাদেশেও সাড়ম্বরে পালিত হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি।কেউ কেউ সেখানে দিনটি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসাবে পালন করার পক্ষপাতী ।
১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার ভ্যালেনটাইন বেশ পালন নিষিদ্ধ করে।সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়া ইরান পাকিস্তান অষ্ট্রিয়া হাঙ্গেরি জার্মানি পাকিস্তান (২০১৭ সালে) নিষিদ্ধ করে।
অশ্লীলতার আগ্ৰাসন দিবস বা বেহায়া দিবসও কেউ কেউ মনে করে । দিনটিকে আবার উগ্ৰ সংস্কাবাদীরা বা ধর্মান্ধ নীতিবাগীশরা খারিজ করার পক্ষে।
১৯০৫ সালে এই বাংলায় রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হয়েছে দিনটি অন্যমাত্রায়।দেশের বিশেষ সমস্যা সমাধানের জন্য দিনটি সিঙ্গাপুর বেছে নিয়েছে জন্মহার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ দিন হিসাবে । জাপানে ১৪ ফেব্রুয়ারি মানুষ চকোলেট উপহার দেয় আর ১৪ মার্চ চকোলেট প্রতিদান দিবস হিসাবে পালন করে। দ্বিতীয় ক্লডিয়াস-এর মতো সৌদি আরব হিংস্র হয়ে দেশ থেকে লাল রং লাল গোলাপ টেডি বিয়ার নিষিদ্ধ করে কারণ লাল রং আবেগ প্রেম ভালোবাসার প্রতীক। আমাদের দেশে মধ্য প্রদেশের ভূপালে ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটির বিরোধিতা করে বলা হয়েছে দেশের সংস্কৃতি ধ্বংসের বহুজাতিক সংস্থার চক্রান্ত বলে। কোনো কোনো দেশে গোলাপ চকোলেট গ্ৰিটিংস কার্ড টেডি বিয়ার ইত্যাদি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয় করায় বিষয়টি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চক্রান্ত বলে মনে করেন।
প্রেম -ভালোবাসা শাশ্বত অপরাহত ও অমর। বিভিন্ন দেশের প্রেমিকদের ভালোবাসা নিবেদনের একচুমুক নজির তুলে ধরা হল।যাকে আমরা বাংলায় বলি 'তোমাকে ভালোবাসি', হিন্দিতে তাকে বলা হয় 'মুঝে তুমসে প্যার হ্যায়', ইংরেজিতে তাকে বলা হয় 'I love you' , ,স্প্যনিশরা বলেন 'To amo', সুইডিশরা বলেন 'Jag alskar dig', অ্যালবেনিয়ানরা বলেন ' Une te dua', হাওয়াইয়ানরা বলেন ,'Aloha wau la oe' ', হিব্রুরা বলেন,'Ani ohev otakh', ক্যাটালানরা বলেন,'Testimo molt', চিনারা বলেন,'Wo ai ni', টার্কিসরা বলেন,'Seni Seviyorum',.এস্কিমোরা বলেন,'Nagligivaget', ,ফিনিসিয়রা বলেন,'Mina rakkhas tan sinua',ফরাসিরা বলেন 'Je t aime', গ্যালিকরা বলেন,'Thaim in grabh leat', জার্মানরা বলেন,' Ich liebe dich,'রুশরা বলেন,'Ye lyublyu tyebya',
পার্সিয়ানরা বলেন,'Du stel daram,' গ্ৰিকরা বলেন,'Sagapo', হাঙ্গেরির লোকেরা বলেন,' Se ret lay,' ইতালিয়ানরা বলেন 'Tiyoglio bene', জাপানিরা বলেন, ' Ai Shite Imasu',মাল্টিজরা বলেন,'Len Ihnhabbok' ইত্যাকার শব্দে।
যে ভাষায় যে নামেই ডাকুন, ভালোবাসা থাকবে চিরদিন আর ভালোবাসা থাকবে যতদিন , ভ্যালেনটাইনও থাকবেন অমর হয়ে, পালিত হবে ভ্যালেনটাইন ডে।
সমাপ্ত
Comments :0