BJP runs rampant in front of the police and CISF

পুলিশ, সিআইএসএফ-র সামনে বিজেপি’র দৌরাত্ম্য, শ্রমিকদের গেট পাশ কেড়ে নিয়ে ঘোষণা ‘আমরা লোক ঢোকাবো’

রাজ্য জেলা

কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (সিআইএসএফ) এবং রাজ্য পুলিশের উপস্থিতিতে কারখানার সংরক্ষিত এলাকায় দু্র্গাপুর অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট (এএসপি)’র ঠিকা শ্রমিকদের গেট পাশ কেড়ে নিল বিজেপি আশ্রিত বাহিনী। গেট পাশ কেড়ে নেওয়ায় ঠিকা শ্রমিকরা প্ল্যান্টে কাজে যোগদান করার অধিকার হারালেন। মঙ্গলবার প্রকাশ্য দিবালোকে কয়েক দফায় ১৯৬ জন ঠিকা শ্রমিকের গেট পাশ কেড়ে নেওয়া হয়। বুধবার কারখানার গেটে সভা করে বিজেপি নেতা বলেছেন, ডিএসপি এবং এএসপি’তে আমরা লোক ঢোকাবো। সংখ্যাটা তিন থেকে পাঁচ হাজার। বৃহস্পতিবারও একই রকমের হুমকি চলেছে। 
স্বচ্ছ নিয়োগ নীতির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার জোরে সেইলের এএসপি এবং ডিএসপি’তে ‘নিজেদের লোক’ ঢোকাবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে শাসক দল। শারদোৎসবের মুখে কাজ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়লেন ঠিকা শ্রমিকরা। 
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে শ্রমিক মহলে। সিআইটিইউ অনুমোদিত হিন্দুস্থান স্টিল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (এইচএসইইউ), আইএনটিইউসি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে তৃণমূল ডিএসপি থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ঠিকা শ্রমিককে তাদের কাজ থেকে উচ্ছেদ করেছিল। প্রচুর নিজেদের লোক ঢুকিয়েছে। ফলে কাজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তার অবনমন ঘটেছে। বেড়েছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় মৃত এবং আহতদের মধ্যে বেশির ভাগই অভিজ্ঞতাহীন ঠিকা শ্রমিক। ক্ষমতায় এসে বিজেপি তৃণমূলীদের দেখানো পথেই হাঁটছে। স্বচ্ছ নিয়োগ নীতির বদলে ক্ষমতার জোরে নিজেদের লোক প্ল্যান্টে ঢোকাতে চাইছে। ১৫/২০ বছর ধরে কাজ করছেন, এমন অভিজ্ঞ ঠিকা শ্রমিকের গেট পাশ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। 
রুজিরুটির ওপর এ হেন আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন শ্রমিকরা। এইচএসইইউ ঠিকা শ্রমিকদের গেট পাশ কেড়ে নেবার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ডিরেক্টার ইনচার্জের কাছে। অবিলম্বে তাদের বিকল্প কার্ড ইস্যু করার দাবি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার এএসপি’তে বিভিন্ন বিভাগে শ্রমিকরা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন। এইচএসইইউ উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, মুসলিম ধর্মাবলম্বী এই অজুহাতে ডিএসপি’তে একজন ঠিকা শ্রমিকের গেট পাশ নবীকরণ না করে তাঁকে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এএসপি’তে ১১৯৬ জন ঠিকা শ্রমিক কাজ করেন। উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ঠিকা শ্রমিকরা। বিজেপি আশ্রিত বাহিনী ঠিকা শ্রমিকদের গেট পাশ কেড়ে নেওয়ায় মঙ্গলবার ও বুধবার উৎপাদন দারুণ ভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এসএমএস, বিলেট সহ বিভিন্ন বিভাগে উৎপাদন প্রভাবিত হয়েছে। প্রতিদিন ৮খানা হিট হয়, ওইদিন হয়েছে মাত্র চারখানা হিট। ডিএসপি থেকে প্রতিদিন হট মেটালের তিনখানা রেক আসে এসপিত’তে। ওইদিন হট মেটাল নষ্ট হবে এই কারণে একটিও রেক আসেনি। উৎপাদন বুধবারও প্রভাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি উপলব্ধি করে বৃহস্পতিবার কার্ডহীন কয়েকজন ঠিকা শ্রমিককে কর্তৃপক্ষ প্ল্যান্টে কাজের জন্য মৌখিক অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। বিজেপি বাহিনীও প্ল্যান্টের উৎপাদনের দফারফা হচ্ছে দেখে চাপে পড়ে কয়েকজন ঠিকা শ্রমিকের গেট পাস ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে। 
কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এএসপি বিক্রি করে দিতে চায়। এই লক্ষ্যে কৌশলগত বিলগ্নিকরণের খাঁড়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এএসপি বাঁচাও— দুর্গাপুর বাঁচাও কমিটি গঠন করে লড়াই জারি রেখেছে দুর্গাপুর। এসএসপি’র শ্রমিকরা প্ল্যান্টকে লাভজনক করে তোলার জন্য প্রাণপাত করে চলেছেন। দুর্গাপুর দাবি জানাচ্ছে এএসপি’তে বিনিয়োগ করো। কারখানার সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ করো। 
সিআইটিইউ বলেছে, ঠিকা শ্রমিকদের গেট পাশ কেড়ে নেওয়া মানে রুজিরুটির ওপর সরাসরি হামলা। সিআইটিইউ দাবি জানিয়েছে, যাদের গেট পাশ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের ডুপ্লিকেট গেট পাস ইস্যু করতে হবে। কাউকে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া চলবে না। আইএনটিইউসি এবং সিআইটিইউ একযোগে প্রতিবাদে সরব হয়েছে। সোমবার ইস্পাত নগরীতে সিআইটিইউ দপ্তরে যৌথ শ্রমিক সংগঠনের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সিআইটিইউ এবং সাধারণ মানুষ বলছেন, ভোটে জিতেছে বলে কী রাজ্যটা মগের মুলুক হয়ে গেল নাকি? হকার উচ্ছেদ, বস্তি উচ্ছেদ, কারখানার কাজ থেকে ঠিকা শ্রমিক উচ্ছেদ করার অবাধ স্বাধীনতা বিজেপি-কে দেয়নি রাজ্যের মানুষ। প্রতিবাদ হবে। প্রতিরোধ হবে। জোটবদ্ধ সর্বাত্মক লড়াই গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে সিআইটিইউ।

Comments :0

Login to leave a comment