Mal Municipality

তহবিল শূন্য মাল পৌরসভায়, পুজোর মুখে বেতন নেই তিন মাস

জেলা

পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার আগে মাল পৌরসভায় বেহাল আর্থিক পরিস্থিতির ছবি আরও প্রকট। তিন মাস ধরে বেতন নেই পৌর কর্মীদের, দুই মাস ধরে মজুরি বকেয়া শ্রমিকদের। পুজোর বোনাসতো দূরের কথা, সংসারের নিত্যদিনের খরচ চালাতেই পৌরসভার তিন শতাধিক অস্থায়ী কর্মী ও শ্রমিক হিমশিম খাচ্ছেন। পৌরসভা সূত্রে খবর, বকেয়া বেতন-মজুরি এবং বোনাস মেটাতে প্রয়োজন প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। অথচ পৌরসভার তহবিল কার্যত শূন্য। ফলে উৎসবের মুখে শ্রমিকদের ঘরে আনন্দের বদলে অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে।
সাফাই থেকে ওয়ার্ডের বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবার কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের অভিযোগ, নিয়মিত কাজ করেও মাসের পর মাস পারিশ্রমিক মিলছে না। বেতন বন্ধ থাকায় ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত বকেয়া মেটানো না হলে ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সাফাই-সহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক পরিষেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পৌরসভার আর্থিক সঙ্কটের কারণ নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। অভিযোগ, নিয়মিত কর আদায়ে গাফিলতি এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে পৌরসভার নিজস্ব আয় কমেছে। পাশাপাশি পৌরসভার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কর্মী নিয়োগ এবং কাজ না করেও বেতন নেওয়ার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত সিটের তদন্ত এবং কয়েকজন স্থায়ী কর্মীর বিচার প্রক্রিয়াকে ঘিরে প্রশাসনিক জটিলতার কথাও সামনে এসেছে। পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন সাহা বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে। অন্যদিকে চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকা উৎপল ভাদুড়ির পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
সিপিআই(এম) মাল এরিয়া সম্পাদক রাজা দত্ত বলেন, ‘‘বামফ্রন্টের সময়ে নির্দিষ্ট দিনেই শ্রমিকদের বেতন হত। তৃণমূলের জমানায় লুটপাটের জেরে বর্তমানে সবকিছু লাটে উঠেছে।’’
পুজোর আগে বকেয়া বেতন, মজুরি ও বোনাস মেটানোর দাবিতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এখন প্রশ্ন, উৎসবের আগেই কি অর্থের সংস্থান করে শ্রমিকদের বকেয়া মেটাবে পৌরসভা, নাকি অনিশ্চয়তার মধ্যেই তাঁদের পুজো কাটবে?

Comments :0

Login to leave a comment