গণতন্ত্র হত্যাকারি কর্পোরেট মালিকদের দালাল ও ধর্মের নামে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টিকারি লুটেরা তৃণমূল ও বিজেপিকে বাংলা থেকে হটাতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গড়তে বুথে বুথে শ্রমজীবি মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এই আহ্বান জানিয়ে সিপিআই(এম) এর উদ্যোগে বীরভূম জেলা জুড়ে প্রতিটি বিধানসভার বুথে বুথে গ্রামসভা, পাড়া বৈঠক ও জনগনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কর্মসূচী চলছে।
বীরভূম জেলার বিভিন্ন ব্লকে এই কর্মসূচীতে মানুষের অংশগ্রহন বাড়ছে। সেই সব সভা গুলিতে আলাপ আলোচনার মধ্যে মানুষ জন ১৫ বছরের তৃণমূলের অপশাসনের কথা, তাদের অভাব অভিযোগের কথা বলছেন নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে। সিপিআই(এম) রাজনগর এরিয়া কমিটির উদ্যোগে শুক্রবার এই রকম একটি গ্রামসভা হয় সিউড়ি বিধানসভার রাজনগর ব্লকের গাংমুড়ি অঞ্চলের সুন্দরখেল আদিবাসী পাড়ায়। সেখানে গ্রামের গরিব মানুষরা অভিযোগ করে জানান, ২০১১ সালের পর থেকেই তৃণমূল এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাস করে গ্রাম দখল করে। এবং নির্বাচনকে প্রহসনে পরিনত করে তারা পঞ্চায়েত গুলিকে জবর দখল করে আদিবাসী গরিব মানুষের অর্জিত জল জমি জঙ্গলের অধিকার লুট করে। তৃণমূল গ্রামে ফতয়া জারি করে বলে, যারা তৃণমূল করবেনা তাদের পঞ্চায়েতের কোনও কাজ দেওয়া হবে না। আমরা দেখেছি বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ১০০ দিনের কাজে পুকুর সংস্কার ও রাস্তা নির্মানে গ্রামের যারা গরিব মানুষ তাদের মাটি কাটার কাজ দেওয়া হতো। ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সেই কাজে জেসিবি মেশিন দিয়ে মাটি কেটে আমাদের কাজ লুট করছে। জবকার্ড ভাড়ায় খেটেছে। সেখান থেকে কাটমানি খেয়েছে তৃণমূলের দালালরা। আমাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে কতরকম চক্রান্ত করছে সেটা আমরা ভুলে যায়নি। এলাকায় বর্ষার সময় কিছু কাজ হলেও সারা বছর আমাদের ভিন রাজ্যে গিয়ে জন খাটতে হয়। আমাদের জঙ্গলে ঢোকার অধিকার কেড়ে নিয়েছে তৃণমূল। আমাদের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার জন্য যে হোষ্টেল তৈরি করেছিল বামফ্রন্ট সরকার সেগুলি বন্ধ করে দিয়েছে। এখন তো শিক্ষকের অভাবে সাধারনের স্কুল গুলি বন্ধের মুখে। তারা আরও বলেন, বিজেপি ও তৃণমূলের নীতিতে কোনও ফারক নেই। বিজেপি যেমন মন্দির-মসজিদ নিয়ে বিভেদের রাজনীতি করছে তেমনি তৃণমূল ও করছে হিন্দু মুসলিম তোসনের রাজনীতি। এই চোর সরকার আমরা চাইনা।
সিপিআই(এম) রামপুরহাট-২ এরিয়া কমিটির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার হাঁসন বিধানসভার মাড়গ্রাম-১~২ অঞল নির্বাচনী কমিটি গঠনের সভা হয় মাড়গ্রামে। সেখানে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) নেতা সঞ্জীব মল্লিক, কালাম হাসান ও বানু শেখ। সভায় সভাপতিত্ব করেন শামিম আব্বাসী
সিপিআই(এম) নলহাটি এরিয়া কমিটির উদ্যোগে ওইদিন নলহাটি-১ ব্লকের হরিদাসপুর অঞ্চলের ভবানন্দপুরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নিবিড় জনসংযোগ কর্মসূচী হয়েছে। রাতে বোলপুর শহরের কালীমোহন পল্লীতে একটি বৈঠকি সভা হয়েছে। এছাড়াও গ্রামসভা হয়েছে নানুরে। এই সব সভা গুলিতে রাজ্যে তৃণমূল ও কেন্দ্রের বিজেপির সরকারের সমালোচনা করে বুথে বুথে জোট বাঁধার আহ্বান নেতৃবৃন্দ। সভা গুলিতে উপস্থিত ছিলেন যথা ক্রমে পার্টি নেতা উত্তম মিস্ত্রি, চন্দ্রকান্ত মাল ও দিলীপ মাল ও বকুল ঘোড়ুই, মানব রায়, আসগার আলি প্রমূখ।
Comments :0