—বংশজ শর্মার সপাটে ছক্কাটা মুকেশ কুমারের মাথার উপর দিয়ে সীমানা ছুঁতেই ইতিহাস রচিত হল কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে। ৬৭ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার রঞ্জি ফাইনালে উঠল জম্মু-কাশ্মীর। ১২৩ তাড়া করতে নেমে, চার উইকেট হারিয়ে জয়ের রান তুলে ফেলেন বংশজ (অপরাজিত ৪৩), আব্দুল সামাদ (অপরাজিত ৩০)।
ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হতেই, বানের জলের মতো মাঠে ঢুকে জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেটাররা আলিঙ্গন করলেন সামাদদের। জয়ের আনন্দে কী করবেন, বুঝে উঠতে পারছিলেন না কেউ। তখন জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেটারদের গগণভেদী চিৎকারে কাঁপছে কল্যাণীর মাঠ। এরপর কোচ অজয় শর্মা-পরশ ডোগরাকে কাঁধে তুলে ভিকট্রি ল্যাপ দিলেন তাঁরা। ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করেও সামাদ-আকিবদের চিৎকার থামেনি।
জম্মু-কাশ্মীরের সাফল্যের নেপথ্যের কারিগর অজয় শর্মা। তিনি বললেন, ‘‘আমি যখন ২০২২-২৩ সালে প্রথম জেএকেসিএ-তে যোগ দিই, কোচ হিসেবে আমার কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল। জম্মু-কাশ্মীরের সংস্কৃতি বুঝতে আমার এক বা দুই বছর সময় লেগেছে। আমাকে ওদের স্তরে নেমে আসতে হয়েছিল কারণ প্রথম এবং দ্বিতীয় বছরে আমি বেশ কঠোর ছিলাম। আপনি যখন নয়জন টেস্ট খেলোয়াড়ের সঙ্গে দিল্লির হয়ে খেলেন, তখন মেজাজটা অন্যরকম থাকে। আমাকে ওদের বোঝাতে হয়েছিল যে ওরা প্রতিভাবান এবং ভারতের হয়ে খেলার দক্ষতা ওদের রয়েছে। ওদের মানসিকতা ছিল শুধু আইপিএল এবং সাদা বলের ক্রিকেট খেলা, কিন্তু আমি ওদের বলেছিলাম এটাই আসল ট্রফি—রঞ্জি ট্রফি।’ তিনি আরও বললেন, ‘এমন একটি দল যাকে আগে কেউ পাত্তাই দিত না। আমরা সাদা বলের ক্রিকেটে ভালো খেলছিলাম, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ছিল রঞ্জি ট্রফি জেতা। গত বছর রঞ্জির শেষ আটে আমরা এক রানে হেরেছিলাম এবং সেদিনের হার আমাদের অনেকদিন তাড়া করে বেরিয়েছিল। সেদিন আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম পরের বছর রঞ্জি জিততেই হবে।’
অজয়ের মতো পরশের অবদান অনস্বীকার্য। আড়াই দশক ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলছেন। এই ম্যাচেই দশ হাজার রান পূরণ করেছেন। প্রথমবার তিনি ফাইনাল খেলবেন অধিনায়ক ও খেলোয়াড় হিসেবে। পরশের কথায়, ‘‘সবার মনে বিশ্বাস ছিল যে আমরা রঞ্জি ট্রফি জিততে পারি। প্রথম দিন থেকে, এমনকি বুচিবাবু টুর্নামেন্ট থেকেই আমরা রঞ্জি জেতার কথা বলছিলাম। এই দলে এসে আমি বিশেষ কিছু বদল আনিনি। ওদের ক্রিকেটিং সেন্স এবং জেতার খিদে প্রবল। এটি এমন একটি দল যেখানে রিজার্ভ বেঞ্চে থাকা ছেলেদেরও ক্রিকেটীয় বুদ্ধি খুব তীক্ষ্ণ।’’
প্রথমবার ফাইনাল খেলবেন! অনুভূতি কেমন? পরশের উত্তর, ‘‘২৫ বছর পর এই প্রথম আমি ফাইনাল খেলবো। আমি খুব খুশি। ছোট রাজ্যের হয়ে খেলে কখনও ভাবিনি এখানে পৌঁছাব। আমরা বিষয়গুলোকে সহজ রাখতে চাই। ফাস্ট বোলিং আমাদের শক্তি, আমরা প্রতিপক্ষ নিয়ে খুব বেশি ভাবছি না, শুধু আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চাই।’’
জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এদিন দলকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘‘জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের পক্ষ থেকে আমি দলকে অভিনন্দন জানাই অসাধারণ জয়ের জন্য। সেই দিন আর দূরে নয়, যেদিন আমরা আমাদের ক্রিকেটারদের জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখবো।’’
Ranji trophy J&K
ইতিহাস গড়ে প্রথমবার রঞ্জি ফাইনালে জম্মু-কাশ্মীর
×
Comments :0