প্রবন্ধ
মুক্তধারা
মানবতার মূর্ত প্রতীক
সৌরভ দত্ত
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ | বর্ষ ৩
ঊনবিংশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষা, দার্শনিক,প্রাজ্ঞ পুরুষ রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব।যিনি আধ্যাত্মিকতার সাহচর্যে থেকেও মানুষের মূল্যবোধকে প্রাণিত করেছেন। মানবতার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাঁর দার্শনিক সত্তা।পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমায় অবস্থিত কামারপুকুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৮৩৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি এক রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ছিলেন মানবতার মূর্ত প্রতীক, যিনি বলেছিলেন--'জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর'। মানুষের মধ্যে দেবত্ব উপলব্ধি করে তিনি সেবাকেই ঈশ্বরের উপাসনা বলে গণ্য করতেন]। তাঁর দর্শন শিবজ্ঞানে জীবসেবা নামে পরিচিত, যা আর্তের সেবাকেই আধ্যাত্মিক জীবনের পরম লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। কোনোরকম ধর্মীয় ভেদাভেদে বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি মনে করতেন সমস্ত ধর্মই সত্য ।জীবনে কঠিন কৃচ্ছসাধন ও তিতিক্ষা সেই যুগে আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছিল।তাঁর মতে--“সব ধর্মই একই ঈশ্বরের দিকে পরিচালিত করে, যা মানবজাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করে।" তাঁর প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ তার প্রচারিত চিন্তাধারায় দরিদ্র,আর্ত মানুষদের জন্য রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন তারা উভয়েই বঙ্গীয় নবজাগরণের এবং ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর বাংলা তথা ভারতীয় নবজাগরণের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। আধ্যাত্মিক চিন্তাগত দিক থেকে রামকৃষ্ণের পথ অনেকের কাছে অন্যরকম মনে হলে নবজাগরণের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অবীসংবাদী।তিনি জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ভালোবাসতেন এবং নারীদের জগন্মাতার অংশরূপে সম্মান করতেন।রামকৃষ্ণদেবের জীবন ও বাণী ছিল ভালোবাসা ও ভক্তির সংমিশ্রণ, যা মানুষের অহংকার, ঘৃণা ও হিংসা দূর করে মানুষের আত্মিক উন্নতিতে সহায়তা করে । জন্মতিথিতে বিশেষ বিশেষ মনীষীদের মনন আলাদা মাত্রা পায় রামকৃষ্ণ ও তার ব্যতিক্রম নয়।
Comments :0