GENERAL KNOWLEDGE — TAPAN KUMAR BAIRAGYA — EKUSHE FEBRUARY — NATUNPATA — 20 FEBRUARY 2026 — 3rd YEAR

জানা অজানা — তপন কুমার বৈরাগ্য — একুশের ভাষা শহীদ আবুল বরকত — নতুনপাতা — ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩

নতুনপাতা/মুক্তধারা

GENERAL KNOWLEDGE  TAPAN KUMAR BAIRAGYA  EKUSHE FEBRUARY  NATUNPATA  20 FEBRUARY 2026  3rd YEAR

জানা অজানা

নতুনপাতা

একুশের ভাষা শহীদ আবুল বরকত

তপন কুমার বৈরাগ্য

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩

বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগের জন্য যেসব শহীদ
হয়েছেন তাঁরা হলেন সালাম,রফিক,জব্বার, শফিউর এবং
আবুল বরকত। বাংলাভাষার জন্য এদের সংগ্রাম চিরদিন
স্মরণীয় এবং বরণীয় হয়ে থাকবে। আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গের
ভরতপুর থানায় অবস্থিত সালারের নিকট বাবলা গ্রাম। প্রকৃতি
ঘেরা এই গ্রাম।এই গ্রামে ১৬ই জুন১৯২৭ সালে বরকত জন্মগ্রহণ
করেন।পিতার নাম সামসুদ্দিন এবং মায়ের নাম হাসিনা বেগম।
বাবা মায়ের আদরের সন্তান বরকত।বাবলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
তার শিক্ষা জীবন শুরু।১৯৮৩সালে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি
নামকরণ হয় শহীদ আবুল বরকত স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন খুব বুদ্ধিমান। গ্রামের বিদ্যালয়ে
পড়াশুনা শেষ করে তিনি বেশ কিছু দূরে তালিবপুর বিদ্যালয়ে
ভর্তি হন।এখান থেকে তিনি১৯৪৫সালে মাধ্যমিক পাশ করেন।
তাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ না হওয়ার জন্য বহরমপুর
কৃষ্ণনাথ কলেজে ভর্তি হন।এই কলেজ আজো তার স্মৃতি বহন
করে চলেছে। ১৯৪৭ সালে তিনি এই কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক
পাশ করেন। এরপর ১৯৪৭সালের ১৫ই আগস্ট ভারত স্বাধীন হলো।কিন্তু আমাদের বুকে থেকে গেল গভীর ক্ষত। ভারত বিভাজন। ভারত বিভাজনের পর তাদের পরিবার ঢাকাতে চলে
আসেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি  রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হন এবং
১৯৫১ সালে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হন।  তারপর স্নাতকোত্তর
স্তরে ভর্তি হন।এই সময় ঢাকার রাজপথ ভাষা আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে। তিনিও এই ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। একজন যুবকের একটায় চিন্তা, উর্দু নয় বাংলাভাষা হবে তাদের মাতৃভাষা। ১৯৫২সালের একুশে ফেব্রয়ারি। তখন সকাল নয়টা। হোস্টেলের ১২নং বারান্দায় তার বুকে গুলি এসে লাগল। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন।মুখে মা ভৈঃ মন্ত্র।সহপাঠিরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করলেন। রাত আটটার সময় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।ওই রাতেই তাকে আজিমপুর কবরস্থানে কবর দেওয়া হলো।তখন তার বয়স মাত্র পঁচিশ বছর। আর একটি বছর পর তার জন্মশতবর্ষ পালন হবে।বাবলা গ্রাম শহীদের নামে সেজে উঠবে।এই গ্রামে আছে তার দুটি আবক্ষ মূর্তি।আছে তার নামে বাবলা আবুল বরকত শিশু শিক্ষাকেন্দ্র। ২০০০সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মান মরণোত্তর একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করেন।ঢাকায় তার নামে রাস্তা এবং শহীদ মিনার আছে।এই গ্রামের মানুষেরা আজ গর্বিত তার জন্য।ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে বাবলা গ্রাম। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি, ভাষা দিবস এই গ্রামে শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয়।
আজো এই গ্রামে আছে তার স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি। এই গ্রামকে
মনে রেখে বলতে ইচ্ছে করে --শহীদের রক্ত ,হবে না কো ব্যর্থ। 


 

Comments :0

Login to leave a comment