এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া সমালোচনার মুখে পড়লো রাজ্য সরকার। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি। দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে অভিযোগ এবং পালটা অভিযোগ চলছে।‘ যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সিতে যে নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে তা নিয়ে চলছে বিরোধ।’ শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে লজিক্যাল ডিসক্রপেন্সি নিয়ে জুডিশিয়াল অফিসারের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত।
রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম রাজ্য সরকার কমিশনকে সহায়তা করবে। কিন্তু তারা তা করেনি। ৯ ফেব্রুয়ারি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি তার জবাব দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সরকার বলছে তারা বিষয়টি বিবেচনা করছে, কী ভাবে তারা বিবেচনা করছে?’
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে শনিবারই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করতে হবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, মুখ্য সচিব, পুলিশের ডিজি এবং শীর্ষ সরকারি আধিকারিকদের।
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে সু্প্রিম কোর্ট যাতে প্রতিটি জেলায় এমন অসঙ্গতি খতিয়ে দেখার কাজে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা বিচারপতি অথবা অতিরিক্ত জেলা বিচারপতিদের দায়িত্ব দেওয়া যায়।
এসআইআরের কাজকে কেন্দ্র করে রাজ্য এবং কমিশনের প্রধান সংঘাত আধিকারিকদের নিয়ে। কমিশনের দাবি রাজ্য সরকার তাদের পর্যাপ্ত গ্রুপ বি আধিকারিক দেয়নি। দেওয়া হয়েছে গ্রুপ সি বা আরও নিম্নপদস্থ আধিকারিক। এদিন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয় যে তারা আধিকারিক চাইলেও রাজ্য সরকার তাদের সেই আধিকারিক দেয়নি। উল্টে সরকার বলেছে তারা বিষয়টি বিবেচনা করছে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী আদালতে জানিয়েছে যেই সব গ্রুপ বি আধিকারিকদের পাঠানো হচ্ছে তাদের নামের তালিকা তৈরি করতে সময় লাগবে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যাদের নাম পাঠানো হচ্ছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ১০ ফেব্রুয়ারি কমিশনের কাছে রিপোর্ট করতে হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে সেদিন বলা হয় ওই আধিকারিকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন প্রয়োজন সেই জন্য সময়ও প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টে সাত দিন বাড়িয়ে দেয় ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়।
গত ৯ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন যে নির্বাচন কমিশন কখনও রাজ্য সরকারকে গ্রুপ-বি আধিকারিকের নাম চেয়ে পাঠায়নি। রাজ্য সরকারকে নির্বাচন কমিশন এমন কোনও অনুরোধও জানায়নি।
নির্বাচন কমিশন দাবি করে যে আধিকারিকদের সম্পরকে বিশদ তথ্য পাঠানো হয়নি। মমতা ব্যানার্জির আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান পালটা দাবি করেন যে নামের তালিকা তৈরি করে নির্বাচন কমিশনকে তা পাঠানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং মমতা ব্যানার্জির পক্ষে সওয়ালে প্রশ্ন তোলা হয় বাইরের রাজ্য থেকে মাইক্রো অবজার্ভার পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো নিয়ে। বলা হয় যে বাংলায় নাম এবং পদবির স্বাভাবিক পরিবর্তনকে না বুঝে তাকে লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি বা যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতি ধরা হচ্ছে। তার ভিত্তিতে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষকে শুনানিতে ডাকার কাজ চলছে।
আধিকারিকদের নাম পাঠানোতে দেরি কেন তা নিয়ে গত শুনানিতেও প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারি আমরা নির্দেশ দিয়েছিলাম। তা’হলে কেন ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় ই-মেল করে নাম পাঠানো হলো?
গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলো থেকে আধিকারিক এনে ইচ্ছাকৃত ভাবে রাজ্যে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে ‘যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতি’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি‘র সমস্যা সমাধান করতে পারেন এমন আধিকারিকদের তালিকা কমিশনের কাছে দিতে হবে রাজ্যকে। সেই আধিকারিদের কমিশন নিয়োগ করবে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির সমস্যা সমাধান করার জন্য। কিন্তু সেই তালিকা এখনও পর্যন্ত দিতে পারেনি সরকার। সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী এসআইআরে মানুষের হয়রানি নিয়ে সাওয়াল করছে, এই নিয়ে নির্বাচনের আগে বাজার গরম করতে নেমেছিল তৃণমূল। কিন্তু রাজ্যের বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণে শোনা যায়নি এসআইআর নিয়ে মানুষের হয়রানি হওয়ার কথা। এদিন যেমন দেখা গেলো রাজ্য সরকার আধিকারিকদের তালিকা দিতে পারেনি কমিশনকে।
Supreme Court SIR
আধিকারিকদের নাম পাঠানো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া সমালোচনার মুখে রাজ্য সরকার
×
Comments :0