নিজস্ব প্রতিনিধি: কলকাতা, ১৮ ফেব্রুয়ারি— ভোটাধিকার থেকে উচ্চশিক্ষার অধিকার, সংখ্যালঘুদের সমস্ত অধিকারের ওপরেই আক্রমণ তীব্র হচ্ছে বলে বুধবার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের ডাকা একটি কনভেনশনে মত প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট হয়ে সোচ্চার হতে বলেছেন সিপিআই(এম)’র রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী, আইনজীবী ফিরদৌস শামিম, জমিয়তে-ই-ইসলামি হিন্দ’র রাজ্য সভাপতি মসিউর রহমান প্রমুখ।
গণতন্ত্রে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ভাগীদারী রক্ষার বিষয়ে এদিন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এই কনভেনশনে অংশ নিয়ে মহম্মদ সেলিম বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে কিভাবে সংখ্যালঘুদের উচ্চশিক্ষায় সুযোগের সম্প্রসারণ ঘটাতে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়েছিল, বৈদেশিক ও বিশেষত মধ্য এশিয়ার দেশগুলির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন ও শিক্ষা সংক্রান্ত আদানপ্রদানের পরিকল্পনা হয়েছিল ইত্যাদির উল্লেখ করে বর্তমান সময়ে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত অভাবের পিছনে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ভোটাধিকার থেকে উচ্চশিক্ষায় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ভাগীদারী বাড়ানোর বদলে এখন সংকোচন ঘটানো হচ্ছে। রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশ অনুসারে ওবিসি ক্যাটাগরিতে অনগ্রসর মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করে তাঁদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এখন সেটাও ধ্বংস করা হচ্ছে। ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবহার করে সংখ্যালঘুদের শিক্ষা ও উন্নয়নের ব্যবস্থা করার বদলে সেই সম্পত্তিকে আদানি আম্বানিদের মতো কর্পোরেট মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশ মেনে যদি সংখ্যালঘু অনগ্রসরদের চিহ্নিত করে ওবিসি ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হতো তাহলে সমস্যা হতো না। কিন্তু বর্তমান সরকার বিজ্ঞানসম্মত সমীক্ষার বদলে কেবল আত্মপ্রচার করতে গিয়ে সংখ্যালঘুদের জন্য মারাত্মক বিপদ নিয়ে এসেছে। আইনি জটিলতায় সংখ্যালঘুরা সংরক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, ওয়াকফ আইনের সংশোধনী এনে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিটি বড় বড় শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ওয়াকফ সম্পত্তির হাত বদল করে প্রমোদ বাণিজ্য করতে চাইছে। আমি পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বলেছিলাম যাতে তারা এই আইনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। কিন্তু সরকার তা করেনি। বিধানসভায় প্রস্তাব এনে পাশ করাতে বলেছিলাম, সেটাও করেনি। উলটে মুখ্যমন্ত্রী ওয়াকফ নিয়ে আন্দোলন করতে বারণ করেছিলেন। এমনকি আমার নামেও পাঁচটা মামলা ঝুলছে ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য। শুভেন্দু অধিকারী যখন এরাজ্যে দেড় কোটি রোহিঙ্গা রয়েছে বলে ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়িয়েছে তখন তাঁর বিরুদ্ধে এরাজ্যের সরকার ব্যবস্থা নেয়নি কেন? তাঁর সাফ কথা, ‘‘আসলে কেউ সংখ্যালঘুদের ওপরে আক্রমণ নামিয়ে আনছে, আর কেউ সংখ্যালঘুদের আতঙ্কের মধ্যে রেখে নিজেদের ‘আশীর্বাদ’ হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে।’’
ফিরদৌস শামিম বলেছেন, এসআইআর বিরোধিতা দেখিয়েও এমন প্রচার করে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে কেউ কেউ। এসআইআর একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশন সেটার জন্য এমন প্রক্রিয়া চাপিয়ে দিচ্ছে যা তাদের এক্তিয়ারের বাইরে। কোন গাড়িচালক ট্রাফিক আইন ভাঙলে পুলিশ তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করতেই পারে, কিন্তু নাগরিকত্ব যাচাই করতে পারে না। নির্বাচন কমিশনও একাজ করতে পারে না।
এদিন কনভেনশনে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও হস্টেলের পরিকাঠামোগত অভাব, নতুন আধুনিক বিষয়ের ওপরে কোর্সের চাহিদা পূরণ না হওয়া, বাজেট বরাদ্দ দেখিয়েও তার বেশিরভাগই খরচ না করা ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের স্বপ্নকে অগ্রাহ্য করা হচ্ছে।
----------------
Md Salim
ভোট থেকে উচ্চশিক্ষা, সব অধিকার রক্ষায় জোট বাঁধুন
×
Comments :0