Bongaon CPI-M Book Stall

সিপিআই(এম)-এর মতোই হিন্দু জাগরণ মঞ্চেরও স্টল হবে না বনগাঁয়, নির্দেশ হাইকোর্টের

রাজ্য

বনগাঁয় সিপিআই(এম)’র অফিসের সামনে থেকে ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চের’ অস্থায়ী স্টল সরিয়ে দিতে হবে। এখানে কেউ কোনও স্টল করতে পারবে না। বনগাঁ শহরে যশোর রোডের ওপর বাটা মোড়ের কাছে দুর্গাপুজোয় সিপিআই(এম)’র বইয়ের স্টল করার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিসন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলেছে, আইনের চোখে সবাই সমান। পুলিশের অনুমতি না থাকলে টেবিল-ছাতা পেতেও কেউ স্টল করতে পারবে না। 
শুক্রবার এই মামলার নির্দেশের পর মামলাকারীর আইনজীবী শামিম আহমেদ জানিয়েছেন, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিসন বেঞ্চ যে স্থগিতাদেশ দিয়েছে তা শুধুমাত্র বনগাঁর নির্দিষ্ট ওই একটি বইয়ের স্টলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আইনজীবী শামিম বলেন, সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে বলেছেন এই মামলা বনগাঁর একটি নির্দিষ্ট স্টলের ক্ষেত্রে দায়ের হয়েছে। ফলে রাজ্যের অন্যত্র এর কোনও প্রভাব নেই। শামিম বলেন, কলকাতা হাইকোর্ট বনগাঁর ওই নির্দিষ্ট জায়গায় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের স্টল সরিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ অনুমতি দিয়েছিল সিপিআই(এম)র বইয়ের স্টল করার। ওই দিন প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিসন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়নি। ফলে ডিভিসন বেঞ্চের কোনও নির্দেশ বৃহস্পতিবার হয়নি। সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শুক্রবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল রাজ্য। এদিনই সিঙ্গেল বেঞ্চের সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ২১ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
এদিন শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ডিভিসন বেঞ্চ সব পক্ষের শুনানি গ্রহণ করেন। এর পরই প্রধান বিচারপতির নির্দেশ, রাস্তার ধারের সব স্টল তুলে দিন। পুলিশের অনুমতি না থাকলে কারোরই স্টলের প্রয়োজন নেই। আইনের চোখে সমান সবাই। এরপর তিনি জানতে চান বুকস্টল কোথায় হয়েছে? রাস্তার উপরে কি না। উত্তরে আইনজীবী শামিম আহমেদ বলেন, সিপিআই(এম) দলীয় কার্যালয়ের সামনে। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, রাস্তার অন্য স্টলগুলির মতো একই লাইনে আছে মামলাকারীদের বইয়ের স্টল। আইনজীবী জানান, অন্য স্টলগুলির মতো একই লাইনে আছে। 
রাজ্যের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সেখানকার(বনগাঁ) অন্যান্য বাকি স্টলগুলির অনুমতি আছে কি না জানা নেই। প্রধান বিচারপতি জানান, হাইকোর্ট নির্দেশ দেবে সব স্টল সরাতে হবে। আইনের চোখে সমতা থাকা দরকার। সব স্টল তুলে দিন। আইনজীবী শামিম আগের দিনের মামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, একই পর্যবেক্ষণ রেখেছে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য একক বেঞ্চও। মামলার শুনানির  সময় মামলাকারীর আইনজীবী শেষ প্রস্তাবে জানান, পার্টি অফিস সামনে টেবিল পেতে ৫ ফুট লম্বা স্টল করতে দেওয়া হোক। ছাউনির প্রয়োজন নেই। ছাতা আর টেবিল পেতে বুকস্টল করতে দিলেই হবে। পাল্টা সওয়ালে রাজ্য সরকারের আইনজীবী বলেন, বনগাঁ থানার আইসি এজলাসে উপস্থিত রয়েছেন। বনগাঁর ওই বুকস্টল থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব ৬ কিলোমিটার। নিরাপত্তার যুক্তি দিয়েছেন তিনি। তখনই প্রধান বিচারপতির নির্দেশ, অনুমতি না থাকলে টেবিল-ছাতা পেতে স্টলেও অনুমতি নয়। আদালত বলেছে শুক্রবারের এই নির্দেশের পর কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, এই মামলায় যুক্ত সব পক্ষকে তা হলফনামা আকারে আদালতকে জানাতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment