কয়েক মাস আগে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যদি তারা ডলারের বিকল্প হিসাবে কোনও সাধারণ মুদ্রা চালু করে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন করে তাহলে এই দেশগুলির পণ্যের উপর আমেরিকা অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবে। এমন হুমকির মূলে আছে মার্কিন অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের প্রবল উদ্বেগ। চীন, রাশিয়া, ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা সহ বিকাশমান অর্থনীতির বেশ কয়েকটি দেশ বেশ কয়েক বছর ধরেই আলোচনা করছে তাদের নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক লেনদেনের জন্য একটা সাধারণ মুদ্রা চালু করার জন্য। বিশ্ব অর্থনীতির একটা বড় অংশ দখল করে আছে এই দেশগুলি। এই দেশগুলি নিজেদের মধ্যে লেনদেনে যদি ডলারের বদলে বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার করে তাহলে ডলারের প্রয়োজন অনেকটা কমে যাবে। ডলারের চাহিদা কমা মানে বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিশ্ব আর্থিক বাজারে ডলারের গুরুত্ব ও ওজন কমছে। অর্থাৎ বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন প্রভাব খর্ব হবে। তেমনি বিশ্ব ফিনান্সিয়াল মার্কেটেও মার্কিন দাদাগিরি দুর্বল হবে।
বিশ্বে মার্কিন আধিপত্য, প্রভাব ও দাপটের মূলে আছে ডলার। বিশ্বে সব দেশের মধ্যে যাবতীয় লেনদেনের প্রায় ৯০ শতাংশ হয় ডলারের মাধ্যমে। তেমনি বিশ্বের সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রার হিংসভাগ অংশই মার্কিন ডলার। অর্থাৎ সারা বিশ্বে এই মুদ্রা বিনিময় চালু রাখতে আমেরিকা যত ডলার ছাপিয়ে বাজারে ছেড়েছে তার মূল্য আমেরিকার মোট সম্পদের মূল্য থেকে বেশি। তেমনি এই ডলার ব্যবহার করে আমেরিকা বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ থেকে ঋণ নেয়। প্রায় সব দেশ মার্কিন সরকারি বন্ড বা ঋণপত্র কেনে। এইভাবে ঋণ দিয়েই মার্কিন সরকার তাদের খরচ চালায়।
এখন বিভিন্ন দেশ যদি ডলার থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করে মার্কিন বন্ড বা ঋণপত্র কেনা কমায়, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয়ে যদি ডলারের অংশ কমাতে থাকে তাহলে বিপদের আশঙ্কা বাড়বে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিতে বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয় ডলারের অংশ দ্রুত কমছে। ১৯৯৯ সাল যা ছিল ৭১ শতাংশ ২০২৪ সালে তা কমে হয়েছে ৫৮.৫ শতাংশ। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক মাপকাঠিতে ডলারের মূল্য ৯ শতাংশ কমেছে। ফলে সঞ্চয়ের উপাদান হিসাবে ডলারের বদলে বেড়েছে সোনার চাহিদা। তাই হুহু করে বাড়ছে সোনার দাম এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে সোনার মজুত ২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। বস্তুত ট্রাম্পের শুল্ক আগ্রাসন এবং নিষেধাজ্ঞার জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়ছে। আমেরিকা এবং ডলারের উপর অনেক দেশই ভরসা রাখতে পারছে না। তাই বিকল্প পথের সন্ধান করছে তারা।
Dollar Dependence
ডলার নির্ভরতা কমছে
×
Comments :0