flood sabang

বামফ্রন্টের সময়ের বরাদ্দ ৬৫০ কোটি টাকার কাজ বন্ধ ১৫ বছর, তিন নদীর রুদ্রমূর্তিতে বিপন্ন মানুষ

রাজ্য জেলা

সবং এর আমগাছিয়াতে কেলেঘাই নদীর পাড় উপছিয়ে জলের স্রোত। ইট ও বালি মাটির বস্তা দিয়ে বাঁধ দিয়ে পাহারা এলাকার মানুষ।

বরাদ্দ হওয়া ২৫০ কোটি টাকার রাবার ডেম্প ১৬ বছরেও শুরু হয়নি। অপর দিকে ৬৫০ কোটি বরাদ্দ টাকার কাজ মাঝ পথে বন্ধ। ফলে  কেলেঘাই, কপালেশ্বরী, বাগুই তিন নদীর রুদ্রমূর্তিতে সবং এর লাঙলকাটাতে নদীর পাড় উপছিয়ে জলের স্রোত। এর ফলে নাওয়া খাওয়া ভুলে রাত জাগছেন মানুষ। নদীর পাড়ে ইট, মাটি বালির বস্তার বাঁধ উঁচু করে পাহারাদার হয়ে নজরদারি চালাচ্ছেন। ভাঙলেই আগামী ছয় মাস জলের তলায় চলে যাবে।
বামফ্রন্ট সরকারের শেষ পর্যায়ে ৬৫০ কোটির টাকা বরাদ্দ হয়েছিলো এই তিন নদীর সংস্কারের জন্য। সেই কাজ শুরু হয়েও মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। সবং ও পটাশপুরের মানুষ এর পিছনে কাকা-ভাইপোর ঝগড়াকে দায়ী করে ক্ষোভে ফুঁসছেন। মমতা ব্যানার্জির প্রথম মন্ত্রীসভার সেচমন্ত্রী তৎকালীন কংগ্রেসের নেতা মানস ভূঁইয়ার সঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বন্দ্বে সেই কাজ বন্ধ হওয়ার পর আজও শুরু হয়নি।

সবং এর লাঙলকাটার পূর্বে রূপনারায়নের সঙ্গে এই তিনটি নদীতে একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। ফলে তিন নদীর জল এখানে এসে রূপনারায়নের  পলির চাপে জল ফুলফেঁপে ওঠে রূদ্র মুর্তি ধারন করেছে। বহু জায়গায় কেলেঘাই নদীর পাড় উপছিয়ে জল ঢোকায় সবং এর চাউলকুঁড়ি, বিষ্ণুপুর প্লাবিত। এই স্থানেই রাবার ডেম্প তৈরীর জন্য আরও ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। সেই বরাদ্দ টাকা কোথায় গেলো কেউ জানে না।  ২০২৪ সালে এই লাঙলকাটা সহ আমগাছিয়াতে কেলেঘাই নদীর পাড় ভেঙে পড়ায় পটাশপুর, ভগবানপুর, মুগবেড়িয়া এমন তিনটি ব্লক ৬ মাস জলের তলায় চলে গিয়েছিলো। এবারে এই ভয়ংকর রূপে আতংকিত নদী পাড়ের শতাধিক মৌজার মানুষ।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বেহাল নিকাশীর কারনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দক্ষিনের কেলেঘাই নদীর পাড় সংলগ্ন নারায়নগড়, কেশিয়াড়ী সহ দাঁতন মোহনপুর এবং সবং ব্লকের ১১০০ অধিক মৌজার চাষের জমি জলের তলায়। ধানের বীজতলা, চারা ধান সবই জলের তলায়। অপর দিকে ৩০০ অধিক মৌজা প্লাবিত হয়ে বিচ্ছিন্ন। এর পাশাপাশি পটাশপুর ও এগরা দুই থানার চারটি ব্লকের বহু মৌজা জলের তলায়। এরপর কেলেঘাই এর রুদ্র মুর্তিতে নদীর পাড় উপছিয়ে জলের স্রোত কপালে ভাঁজ ফেলেছে। সেই জল আটকাতে এলাকার মানুষ নদীর পাড়ের উপর ইট সহ মাটি ও বালির বস্তার বাঁধ দিয়ে রাত জাগছেন।

 

 

Comments :0

Login to leave a comment