Farmer Commits Suicide

আলুর দাম তলানিতে, ঋণের চাপে আত্মঘাতী কালনার আলুচাষি

রাজ্য জেলা

ঋণের দায়ে আত্মঘাতী হলেন কালনার এক আলুচাষি। বিধানসভা নির্বাচনের ঢাকঢোল আর শাসকদলের চটকদারি প্রচারের আড়ালে ফের প্রকট হলো রাজ্যের কৃষি সংকটের বীভৎস রূপ। একদিকে আকাশছোঁয়া উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে ফসলের ন্যায্য দাম না মেলা—এই সাঁড়াশী চাপে পিষ্ট হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন কালনার এক কৃষক। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম আব্বাস শেখের (৬০)। তিনি কালনা থানার অন্তর্গত কাঁকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মুড়াগাছা গ্রামের বাসিন্দা। বিগত সরকারের পথ ধরেই নতুন সরকারের সময়েও দেনার দায়ে শুক্রবার ভোরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হলেন। 
মৃতের পারিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, আলু চাষ করে আলুতে দাম না পাওয়ায় ৫০০ প্যাকেট আলু হিমঘরে মজুদ করে রাখে। কিন্তু বর্তমানে আলুর দাম একেবারে তলানিতে। আলু যা মজুদ আছে, তা বিক্রি করে বস্তার দাম ও হিমঘরে সংরক্ষণ করে রাখার খরচ উঠবে না। তাই আব্বাস শেখ আলু আর বিক্রি করতে পারেননি। দু ভাইয়ের মোট কুড়ি বিঘা জমিতে আলু ও ধান চাষ করেন। গত মরশুমে ধার দেনা করে জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। সেই জমি উৎপাদিত আলুই আব্বাস শেখের জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ালো। সামনেই আমনের চাষ চলে এসেছে। কিন্তু হাতে পয়সা না থাকায় কি করে আমন চাষ হবে, তা নিয়ে আব্বাস শেখ খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। অথচ ব্যাংক সহ বিভিন্ন মহাজনের ঋণের বোঝা তার মাথায়। মৃতের পারিবার সত্রে খবর পরিবারে একজন কিডনি জনিত রোগে আক্রান্ত। পয়সার অভাবে তার চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে আব্বাস শেখের একটি প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে রয়েছে, তার বিয়ের জন্য আব্বাস শেখের দুশ্চিন্তা ছিল। এইসব কারণেই আব্বাসের রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারত না বলে জানান পরিবারের লোকজন। শুক্রবার ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়েন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। পরে কালনা থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কালনা হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে সারা ভারত কৃষক সভার বর্ধমান জেলা সম্পাদক শুকূল সিকদার বলেন, ‘‘বিগত রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকার ঘোষণা করেছিল কৃষকের আয় ২/৩ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি কৃষকদের আয় বেড়েই থাকে, তাহলে দিল্লিতে দীর্ঘদিন কৃষকরা আন্দোলন করতে হয়েছিল কেন ? এই আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন দুই শতাধিক কৃষক। আর বিগত সরকারের আমলে রাজ্যে ঋণগ্রস্ত কৃষকের মৃত্যু মিছিল শুরু হয়েছে অনেক আগেই। তা আজও অব্যাহত। বিগত রাজ্য ও কেন্দ্র দুই সরকারই এ ব্যাপারে নির্বিকার ছিল। কৃষকের মৃত্যু মিছিল রোধ করতে আমরা বলেছি, সব ফসলের এমএসপি’র আইনি নিশ্চয়তা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সমস্ত উন্নত দেশগুলি কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকি ও সস্তায় কৃষককে ঋণ দেয়। ফসলের দাম না পেলে কৃষকরা কৃষিক্ষেত্রে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন, নিরাশ হবেন। তিনি বলেন, কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনা ফের প্রমাণ করল যে, শুধু তৃণমূল জমানায় না বর্তমান সরকারের সময়েও কৃষকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রাজ্য সরকারের ভ্রান্ত কৃষি নীতির কারণে আজ রাজ্যের কৃষকরা দিশেহারা। সার ও বীজের কালোবাজারি রুখতে সরকার ব্যর্থ, আবার ফসল উঠলে ন্যায্য দাম দিতেও তাদের অনীহা। মৃত কৃষকের পরিবারকে অবিলম্বে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তাঁর সমস্ত কৃষিঋণ মকুব করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ কৃষক জমি হারিয়ে ক্ষেতমজুর বা অসংগঠিত শ্রমিকে পরিণত হয়েছেন। উদারিকরণের নীতি পরিবর্তন না করলে শুধু কৃষক বা কৃষিক্ষেত্রই নয়, বিপদাপন্ন হবে সমস্ত মানুষের জীবনই। তাই উদার র্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম ছাড়া কৃষি রক্ষার লড়াই সফল হবে না। এই ব্যাপারে কোন সরকারি আধিকারিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Comments :0

Login to leave a comment