Left Front

৪ মার্চ সিইও দপ্তর ঘেরাওয়ের ডাক বামফ্রন্টের

রাজ্য জেলা

তৃণমূলের দুর্নীতি আর বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি—এই দুই অপশক্তির সাঁড়াশির আক্রমণ থেকে পুরুলিয়াকে মুক্ত করতে লাল ঝান্ডাই একমাত্র বিকল্প। সোমবার পুরুলিয়া দু নম্বর ব্লকের বোঙাবাড়িতে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী কর্মীসভা থেকে এই বার্তা দিলেন সিপিআই(এম)  রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। চৈত্র শুরুর চড়া রোদ উপেক্ষা করেই এদিন বেলা ২টো থেকে বোঙাবাড়ির ময়দান কার্যত লাল সমুদ্রে পরিণত হয়।
ভোটাধিকার রক্ষায় একসঙ্গে রাস্তায় নামুন সোমবার এই আবদন জানিয়েছেন বামফ্রন্ট সভাপতি বিমান বসু। এক প্রেস বিবৃতিতে তিনি আগামী ৪ মার্চ সিইও দপ্তরে বিক্ষোভে সামিল হওয়ার আহ্বান জাানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে বিজেপি'র রাজনৈতিক বয়ানকে কাজে রুপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কার্যত বিজেপি'র নির্দেশ কাজে লগিয়েছে। রাজ্যের সামনের সারির প্রশাসনিক অফিসার, জেলা শাসক, এসডিও, বিডিও’রা এই কাজে কমিশনকে সাহায্য করেছে। ভোটাধিকার রক্ষায় সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। ৪ মার্চ বেলা ৩টেতে কলকাতার টি বোর্ডর অফিসের সামনে জমায়েত হয়ে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের অফিসে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বামফ্রন্ট। ওই দিন ‘ভোটাধিকার বাঁচাও’ আহ্বন জানিয়ে রাজ্যের সমস্ত জেলায় বিডিও,এসডিও, জেলা শাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ দেখানোর আহ্বান জানানো হয়।    

এদিন পুরুলিয়ায় সেলিম বলেন, পুরুলিয়ার মাটি বীরের মাটি, প্রতিরোধের মাটি। এই জনপদ দেখেছে কীভাবে আকাশ থেকে অস্ত্র বর্ষণ করে লাল ঝান্ডাকে স্তব্ধ করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। মাওবাদীদের নাম করে গ্রামকে গ্রাম আতঙ্ক ছড়িয়ে আমাদের শত শত কমরেডকে শহীদ করা হয়েছে। কিন্তু শত শত শহীদের রক্তে রাঙানো লাল ঝান্ডাকে এত সহজে মোছা যায় না, যাবে না বোঙাবাড়ির জনসমুদ্র ফের তা প্রমাণ করে দিল। পুরুলিয়ার রুখাশুখা প্রান্তরে দাঁড়িয়ে এভাবেই শাসকদল ও চক্রান্তকারীদের কড়া জবাব দিলেন সেলিম। এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাষ রায়চৌধুরী ,রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত।  সভাপতিত্ব করেন সিপিআই(এম) পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায়।
সেলিম বলেন, "আগেকার দিনে মানুষ যখন অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলত, তখন আকাশের ধ্রুবতারা দেখেই দিক ঠিক করত। আজ রাজনীতির এই ঘোর অন্ধকারে মানুষের সামনে সেই ধ্রুবতারা হলো কৃষকের কাস্তে আর শ্রমিকের হাতুড়ি।" রুজি-রুটি ও মজুরির দাবিতে লড়াই আরও জোরদার করার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, বাম বিকল্পই একমাত্র পথ এবং এই পথেই বাংলার পুনরুত্থান ঘটবে। সভায় আভাষ রায়চৌধুরী বর্তমান পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন,‘‘ছাত্র-যুব, মহিলা, কৃষক, ক্ষেতমজুর—সবার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতির তাস খেলছে তৃণমূল ও বিজেপি। বামফ্রন্ট সরকার পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরকে শিল্পনগরী রূপে রূপায়িত করার যে স্বপ্ন দেখেছিল, জেলার সেই শিল্পের সর্বনাশ করেছে এই দুই দল।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘এলাকার বেকার ছেলে-মেয়েদের কাজের সুযোগ কেড়ে নিয়ে আজ সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। ধর্মের নামে বিভাজনের বিষাক্ত বিষ ছড়ানো হচ্ছে।’’ তাঁর সাফ কথা, ‘‘তৃণমূল-বিজেপি ভাই ভাই, বাংলাকে বাঁচাতে তাই লাল ঝান্ডাই চাই।’’
দেশি-বিদেশি প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির যৌথ আক্রমণে যখন দেশ ও রাজ্য এক বৃহৎ বিপদের সম্মুখীন, তখন লক্ষ্য স্থির রাখার আহ্বান জানান রাজ্য নেতৃত্ব। সভা থেকে চড়া সুরে আক্রমণ শানানো হয় রাজ্য প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে। বক্তারা বলেন, ‘‘এসডিও, বিডিও’রা আজ মমতার দলদাসে পরিণত হয়েছেন। যারা এতদিন কয়লা, গরু, বালি পাচার আর শিক্ষক নিয়োগের দালালি করেছে, তারা এখন সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।’’ পঞ্চায়েত ভোট লুটের প্রসঙ্গ টেনে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, মা-বোনদের ওপর কোনো হেনস্তা বরদাস্ত করা হবে না। তৃণমূল-বিজেপির ‘সেটিং’ রাজনীতি ফাঁস করে দিয়ে সেলিম বলেন, ‘‘যখনই দেখছে লাল ঝান্ডা এগিয়ে আসছে, তখনই গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু বামপন্থীরা বেঁচে থাকতে কোনো বৈধ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।’’
ভোটাধিকার রক্ষায় আগামী ৪ মার্চ লাখ লাখ মানুষকে নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিস ঘেরাও করার ডাক দেওয়া হয় সভা থেকে। সাফ জানানো হয়, কোনো বৈধ ভোটারকে বাদ দিয়ে এরাজ্যে ভোট হতে দেওয়া হবে না। ভোটাধিকার সাংবিধানিক অধিকার, আর এই লড়াইয়ে সবাইকে কোমর বেঁধে নামার আহ্বান জানানো হয়। বক্তৃতার মাঝেই জনতার গর্জন ওঠে— ‘‘লড়াই হবে, এক ইঞ্চিও জমি ছাড়া হবে না!’’
 

Comments :0

Login to leave a comment